নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ফের রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্নি চিকিৎসকের হাতাহারি ঘটনা ঘটেছে। এঘটনা ঘটেছে রামকের ৫২ তম এমবিবিএস’র শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নি চিকিৎসক পরাগ হোসেনের (২৮) সঙ্গে।

সোমবার সন্ধ্যার দিকে রোগীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন প্রসূতির স্বজন শাহীন ও দুলাভাই মিনারুল ইসলাম মিনি’র সঙ্গে এ ঘটনাটি ঘটে। এতে ইন্টার্নি চিকিৎসক পরাগ হোসেনের মাথা ফেটে যায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘট ডেকেছেন ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদ। রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে তারা এ ধর্মঘট শুরু করেন। হঠাৎ করে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শত শত রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, রামেক ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে। কোনো ইন্টার্নি চিকিৎসক কাজে যোগ দিবেন না।
- প্রত্যক্ষদর্শীরা সিল্কসিটি নিউজকে জানায়, রামেকের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রসূতি রোগী ইতি খাতুনকে (২০) তার স্বজনরা ভর্তি করেন। সোমবার সন্ধ্যার দিকে তাকে দেখতে আসেন ভাই শাহীন ও দুলাভাই মিনি।
একই ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা ইন্টার্নি চিকিৎসক পরাগ রোগীর চিকিৎসা দিতে আসলে রোগীর স্বজনদের বাইরে যেতে বলেন। এসময় শাহীন ও মিনির সঙ্গে কথা কাটকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ইতির স্বজনরা আতঙ্কে তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে চলে যান।
- স্বজনদের মারপিটের ইন্টার্নি চিকিৎসক পরাগ হোসেনের মাথা ফেটে গেছে বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনার পরে হাসপাতালে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষের সঙ্গেই কথা বলা যায়নি।
এবিষয়ে নগরীর রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে হঠাৎ শুরু হওয়া ধর্মঘটের কারণে ব্যাপক ভোন্তিতে পড়েন হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রোগীরা। রাতের বেলা ইন্টার্নি চিকিৎসক নির্ভর হাসপাতালটিতে ইন্টার্নিরাই ধর্মঘট শুরু করার করাণে কার্যত অচল হয়ে পড়ে হাসপাতালটি।
এ অবস্থায় গুরুতর রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনরা। অনেকেই চিকিৎকের অভাবে রোগীকে নিয়ে বাইরে চলে যেতেও থাকেন।
স/আর









