নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যাকা-ের তিন মাসেও ধোঁয়াশা কাটেনি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়ার পাশাপাশি হত্যার কারণও উদ্ঘাটন সম্ভব হয়নি। ফলে কার্যত তদন্ত কার্যক্রম থমকে থাকায় এ সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দিতে পারেনি পুলিশ। এদিকে মামলার তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীর পরিবার, বিভাগের শিক্ষক ও লিপুর সহপাঠীরা।
গত ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের ডাইনিং সংলগ্ন ড্রেন থেকে লিপুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দিন মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম, পিবিআই, র্যাব, সিআইডি, ডিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। লিপু হত্যাকাণ্ডের শিকার বলে ওই সময় পুলিশ ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
- ওইদিন বিকেলে লিপুর চাচা বশির উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। সেসময় বাদী দাবি করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পরার পর থেকে তাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হতো। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর আগে রাজশাহীতে একটি চাকরি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়ে লিপু। এতে তিনমাস জেলহাজতে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্ত হন।
লিপুর সহপাঠী রাইসা জান্নাত বলেন, ‘লিপু হত্যার তিন মাস পেরিয়ে গেল, অথচ বিচারের কোনও অগ্রগতি আমরা দেখতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে একজন লিপু নয়, অনেক লিপুকে হারাবো আমরা। অপরাধীরা শাস্তি না পাওয়ায় অবাধে তারা এসব হত্যাকা- চালিয়ে যাচ্ছে।’ দ্রুত বিচার দাবি করে আরেক সহপাঠী সাব্বিরা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এতদিনেও একটা হত্যাকা-ের বিচার হয় না, তাহলে কীসের মানুষ হওয়া আর কীসের নিরাপত্তা?’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বলেন, ‘তিন মাসেও মামলার কোনো অগ্রগতি আমরা দেখছি না। তাই আমরা দাবি জানাচ্ছি, পুলিশ দ্রুত সঠিক অপরাধীদের সাব্যস্ত করে চার্জশিট দাখিল করুক।’
এদিকে লাশ উদ্ধারের দিন লিপুর রুমমেট মনিরুল ইসলামকে আটক করা হলেও তিনদিন পর হত্যা মামলায় মনিরুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু ৮ নভেম্বর জজকোর্ট থেকে মনিরুল জামিন পায়। জামিনের আগে মনিরুলকে চারদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে মনিরুলের দেওয়া তথ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব বলে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান দাবি করেছিলেন। এরপর মামলার তদন্তভার পান নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুব হাসান।
- লিপুর মা হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে গেলো ফরম পূরণ করার জন্য। সেই ছেলেকে তোমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাক্সে বন্দী করে এনে ফেরত দিলে। ক্যাম্পাসের মধ্যে হলের মতো চার দেওয়ালে আটকা জায়গায় আমার ছেলেকে খুন করা হলো, অথচ কেউই কিছু জানেনা। আমি মা, আমার আর কী বলার আছে, আমি শুধু এটুকুই চাওয়া, আমার ছেলে হত্যার বিচার যেনো পাই, আমি হত্যাকারীদের দেখতে চাই।’
জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, ‘এটা সেনসিটিভ মামলা। আমরা সব বিষয় খতিয়ে দেখছি। তবে লিপুর পরীক্ষা সংক্রান্ত যে বিষয় (প্রক্সি জালিয়াত চক্র) শোনা গেল, ওই বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’
লিপুর রুমমেটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এর আগে যাকে (লিপুর রুমমেট মনিরুল) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল, সে জামিনে আছে। বর্তমানে পরীক্ষা দিচ্ছে। সে জবানবন্দিতে যেসব তথ্য দিয়েছিল, তাতে সে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি নিজেকে ইনভলভ করেনি। তবে তার কাছ থেকে কিছু তথ্য নিয়ে হত্যার লিংক খোঁজার চেষ্টা করছি। লিপুর চালচলন কেমন, কার সাথে মিশতো, কী কী করতো-এই তথ্যগুলো তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে। চলতি মাসের শেষের দিকেই ভালো এচিভমেন্ট আসার সম্ভবনা আছে।’
স/আর









