রাজশাহীর খবর

রাবি শিক্ষক আকতার জাহানের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচণায় মামলা

নিউজ ডেস্ক১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আকতার জাহান জলি আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিক্ষক জলির ভাই কামরুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মতিহার জোনের সহকারী কমিশনার একরামুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

শনিবার বিকেল চারটার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মাঠে তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

14285190copy

এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মিজান উদ্দিন, ছাত্র উপদেষ্টা মিজানুর রহমানসহ গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বিকেল চারটার তার জানাযা শেষে  গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাযা শেষে বিভাগে শেষ বারের মতো তার লাশ রাখা হয়। পরে তার মরদেহ ঢাকায় নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গেছে।

নিজ বিভাগে শেষবারের মতো জলি
নিজ বিভাগে শেষবারের মতো জলি

শিক্ষক জলির ভাই কামরুল হাসান বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, আমি মো: কামরুল হাসান (৪০) পিতা, মৃত ফোরকান মিয়া থানায় হাজির হইয়া এই মর্মে অভিযোগ করছি যে, আমার বোন আকতার জাহান(৪৫) সহযোগী অধ্যাপক গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে গত ইং ০৮-০৯-২০১৬ তারিখ সন্ধ্যা হইতে তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা যাইতেছিলনা মর্মে মরহুমার একমাত্র সন্তান সোয়াদ(১৪) জানান এবং আমরা বিভিন্ন ভাবে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। পরবর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহিত যোগাযোগ করিলে তারা ইং ০৯-০৯-২০১৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ০৪:৩০ ঘটিকার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের ৩০৩ নং কক্ষ হইতে পুলিশের সহযোগীতায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন কারিয়াছেন। সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী এবং প্রতক্ষদরর্শীদের বর্ণনা মতে মৃতদেহের সাথে আমার বোনের স্বহস্তে লিখিত একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়াছে যা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়াতে প্রকাশিত হইয়াছে। সেই সুইসাইড নোটের হাতের লেখা যে মরহুমা আকতার জাহানের নিজ হাতের লেখা তাহা তাহারা বিভাগের সহকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করিয়াছেন। উক্ত সুইসাইড নোট হতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারো না কারো দ্বারা প্ররোচিত হইয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী/ প্ররোচনাকারীদের খুজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে মর্জি হয়।

14284940_675042515987066_369528207_o-copy

এর আগে শনিবার সকালে তার লাশ নিতে আসেন, ছোট ভাই রতন, ভগ্নিপতি খোকন, মামাতো ভাই শামিম হাসান রানা ও ইকবাল হোসেন। এ সময় রাজশাহী রাবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ২টার দিকে তার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবার ও রাবির শিক্ষকদের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

 

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিছানার ওপর মশারির ভিতর পড়ে থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে পুলিশ শিক্ষিকা আকতার জাহান জলির লাশ উদ্ধার করে। পরে তাকে রামেকের মর্গতে রাখা হয়। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। আত্মহত্যার আগে শিক্ষক আকতার জাহান জলি একটি সুই্সাইড নোট লিখে যান।

স/শ