রাজশাহীর খবর

রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে বসে ভোট চাইলেন আ’লীগ প্রার্থী ভুলু

নিউজ ডেস্ক১ ডিসেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বসে নিজের জন্য ভোট চাইলেন রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মাহাবুব জামান ভুলু। গতকাল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়রাম্যানদের শপথ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুলু তাঁর নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন।

 

এসময় ভুলুর হয়ে ভোট চান বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও তাহেরপুর পৌর সভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। এ নিয়ে উপস্থিত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
তাদের দাবি, ভুলু তাঁর হয়ে ভোট চাইতে পারেন, কিন্তু জেলা প্রশাসেকর কার্যালয়ে শপথ অনুষ্ঠানে এসে তিনি নিজের জন্য ভোট চাইতে পারেন না। আবার তাঁর হয়ে জাকিরুল ইসলাম সান্টুও ভোট চাইতে পারেন না ওই অনুষ্ঠানে। এটি নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের সামিল।
ওই অনুষ্টানে উপস্থিত বাগমারা উপজেলার একাধিক চেয়রাম্যান জানান, সদ্য নির্বাচিত হওয়া বাগমারার ১৬টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন পর্যায়ক্রমে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এরপর তিনি বেলা ১১টার দিকে সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে চলে যান। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও তাহেরপুর পৌর সভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

 
উপস্থিত কয়েকজন চেয়ারম্যান আরো জানান, জেলা প্রশাসক বের হয়ে যাওয়ার পরপরই সভাকক্ষে উপস্থিত হন রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক জেলা প্রশাসক মাহবুব জামান ভুলু। এরপর জাকিরুল ইসলাম সান্টু তাঁকে উপস্থিত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেন। একপর্যায়ে তিনি ভুলুকে আগামী ২৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনে উপস্থিত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের ভোট দেওয়ারও আহ্বান জানান। এরপর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদও তাঁকে ভোট দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
তাঁদের দুজনের বক্তব্যের পর প্রশাক প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলু বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে নিজের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে বলেন, ‘আমি এর আগেও জেলা প্রশাক পদে ছিলাম। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। সরকার দলের প্রার্থী। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট দিবেন। আমি আপনাদের পাশে থাকবো। এর বাইরে তিনি নির্বাচনী আরো বিভিন্ন অঙ্গীকারব্যক্ত করেন।
এসময় উপস্থিত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রতিবাদ জানাতে চাইলেও দলীয় চাপেরমুখে পড়তে হতে পারে-এমন আশঙ্কায় তারা এ নিয়ে আর প্রতিবাদ করেননি বলেও দাবি করেন কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান।
জানতে চাইলে মাহবুব জামান ভুলু ভোট চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি সেখানে শুধু কুশল বিনিময় করতে গিয়েছিলাম। ভোট চাইনি।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ বলেন, ‘আমি শপথবাক্য পাঠ করানোর পর পরই সেখান থেকে বের হয়ে সার্কিট হাউজে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসি। সেখানে জেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোনো প্রথার্থী ভোট চেয়েছেন কিনা জানি না। যদি চেয়ে থাকেন, তাহলে এটি অবশ্যই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন।’

স/আর