তারেক মাহামুদ:
রাজশাহীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো রাজশাহী শহীদ কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় পার্ক (চিড়িয়াখানা)। রাজশাহী বিভাগীয় শহরে একটি চিড়িয়াখানা থাকায় এই কেন্দ্রীয় উদ্যানটি বিনোদন এবং পিকনিক স্পটের এক অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত পরিবারের সাথে কিংবা স্ববান্ধবে দলে দলে দর্শনার্থীরা বেড়াতে আসেন এখানে।

- সম্প্রতি রাজশাহী চিড়িয়াখানায় শিশুদের বিনোদনের জন্য তৈরী করা হয়েছে বৃহদাকার নাগোরদোলা, বিভিন্ন আকর্ষনীয় রাইড। আর সেই সাথে এর সৌন্দর্য বর্ধনে তৈরী হয়েছে নানা পুতুলের মূর্তি আর আকর্ষনীয় ব্রীজ। নতুন এই আকর্ষণটি সংযোজন করার পর বিনোদন প্রেমীদের চাহিদা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে বখাটে আর হকারদের দাপটে নানা ভোগান্তিও।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী এই চিড়িয়াখানায় ক্রেতাদের হালকা খাবারের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত দোকান বসানো হয়েছে। যেখানে পাওয়া যায় হালিম, ফুচকা, চটপটি, নুডলসসহ নানা মুখরোচক খাবার। স্থানে স্থানে পাওয়া যায় কোমল পানীয়।
- অভিযোগ উঠেছে, পণ্যের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হয় এসব দোকানগুলো। আর এতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ও বাইরে থেকে আসা বিনোদন প্রেমীরা। আবার পার্কের ভিতরে কখনো মোটরসাইকেল নিয়ে বা কখনো পায় হেঁটে স্থানীয় কিছু বখাটে রাতদিন চষে বেড়াচ্ছে। যাদের উৎপাতেও দর্শনার্থীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিঘ্ন হচ্ছে পার্কের সুষ্ঠ পরিবেশও।
চিড়িয়াখানার ভেতরেই রয়েছে পার্ক ফুড কর্ণার নামক ক্যান্টিন। ক্যান্টিনের যেকোন পণ্যে ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধিতে বিক্রি করা হয় এখানে। বাধ্য হয়ে অধিক মূল্যে পণ্য কিনে খেতে হয় ক্রেতাদের। এই সুবাদে চিড়িয়াখানার অন্যান্য বিক্রেতারাও তাদের পণ্য অধিক মূল্যে বিক্রি করেন।
- এদিকে হকার আর বখাটেদের উৎপাত তো রয়েছেই। চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থীদের কাছে জোর করে খাদ্য দ্রব্য বিক্রি করে হকারেরা। এসব হকারদের বেশির ভাগই নেশাগ্রস্থ। নেশার টাকা যোগাড় করতে বাদাম, চকলেটসহ বিভিন্ন খেলনা বিক্রি করতে গিয়ে পণ্য না কেনায় দর্শনার্থীদের সাথে দুর্ব্যাবহারও করে এসব হকারেরা। এতে চিড়িয়াখানার বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা পড়েন চরম বিপাকে। অনেক সময় আত্মসম্মানের ভয়ে বাধ্য হয়ে তাদের কাছে খাবার কিনতে হয় তাদের।
পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে আসা সাবিনা নাজনিন সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখানে বেড়াতে আসি একটু বিনোদনের জন্য কিন্তু আজকাল চিড়িয়াখানার পরিবেশ খুব খারাপ হয়ে গেছে। কোথাও একটু বসলে হকারদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে যায়।’
তিনি আরো বলেন, কোন কিছুর দরকার না হলেও যেন তারা জোর করে জিনিস কেনাবে। কোন কথা না বলেই জিনিস দিয়ে চলে যায়। নিব না বললে কিছুই না বলে একটু পরে আবার হাজির হয়ে যায় জিনিস না দেওয়া পর্যন্ত চলে তাদের জোরাজুরি। শেষ পর্যন্ত না নিলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে চলে যায় । দায়িত্বরতরা কোন কিছুর পর্যবেক্ষণ করে না।’

দর্শনার্থীদের অভিযোগ, হকারদের দাপটের পাশাপাশি রয়েছে স্থানীয় বখাটেদের উৎপাতও। তারা কখনও কখনও একজন কিংবা দলবদ্ধ হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন দেয়। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিনিয়তই চলে তাদের আনাগোনা। কর্তৃপক্ষের চোখের সামনেই মোটরসাইকেল শোডাউন হলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পা ননা।
- পরিবারের সাথে বেড়াতে আসা শামীম রেজা সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘শান্ত পরিবেশ কিছুক্ষণ থাকার জন্য চিড়িয়াখানায় আসি। কিন্তু এখানেও এসে প্রভাবশালীদের জোর চলে। চিড়িয়াখানার মতো জায়গায় এভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কোন প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। যেখানে সবাই পায় হেঁটে ঘুরে বেড়ায়, সেখানে কিছু বখাটে মোটরসাইকেল নিয়ে দাপট দেখিয়ে বেড়াবে এটা হতে পারে না। এটা চিয়িখানার পরিবেশ বিনষ্ট করছে।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চিড়িয়াখানার দায়িত্ববরত ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাবু সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, এখানে তিনটি ক্যান্টিন আছে। ক্যান্টিনে ১ বছরে পাঁচ লাখ টাকার ডাক হয়েছে। দোকানদারেরা সে টাকা তুলতে জিনিসের দাম একটু বেশি।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন কয়েকবার এলাকা মনিটরিং করি। আমরা নেশাগ্রস্থ কোন হকার এখানে ঢুুকতে দেই না। যদি ঢুকে পড়ে তবে তাদের তাড়িয়ে দিই। তবে দর্শনার্থীদের কোন কিছুতে সমস্যা হলে জানতে পারলে অবশ্যই পদক্ষেপ নিবো।’
স/আর









