তারেক মাহামুদ:
রাজশাহীতে এ সপ্তাহে কিছুটা কমেছে শীতকালীন সবজির বাজার দর। বাজারে নতুন শীতকালীন পণ্যের আগমন হওয়ার সাথে সাথে এবং আমদানি বেশি থাকায় এ সপ্তাহে প্রতি পণ্যের মূল্য ১০ থেকে ১৫ টাকা হারে কমেছে। তবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মাছের দাম। বিক্রেতাদের মতে, খাল বিল ও নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মাছের আমদানি কম। শনিবার সকালে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায় এসব তথ্য।
শীতকালীন সবজির আমদানি বাড়ায় এক সপ্তাহের মাথায় কমে এসেছে সবজির দাম। বাজারে অধিক হারে ফুলকপি পাতাকপি এবং মূলা আমদানি হওয়ার ফলে সবজির দাম কমেছে বলে জানান, বিক্রেতারা। অপরদিকে শীতে খাল বিলের এবং নদীর পাানি কম থাকায় মাছের আমদানি কম হচ্ছে। আর এর সাথেই দেশী থেকে কার্পজাতীয় সকল মাছের দাম বেড়েছে ।
নগরীর সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা ইয়াসিন আলী সিল্কসিটিনিউজকে জানান, গত সপ্তাহের থেকে এ সপ্তাহে বাজারে সবজির আমদনি অধিক হারে বেড়েছে এবং ধর্মঘট থাকায় ঢাকাতে সবজি যাচ্ছে না। ঢাকার সবজি ব্যাবসায়ীরা সবজি ফেরত এনে হাট বাজারেই বিক্রি করছে আর আমরাও একটু কম মূল্যে তা পাইকারী কিনে এনেছি তার সাথে আমদানি বেশি সব মিলিয়ে দাম কম।
তিনি জানান, বর্তমানে সাহেববাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩৫ টাকা, কচুর লতি ২৫ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৩২ টাকা, আলু ২৭ টাকা, শশা ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, পটল ২৫ টাকা এবং মুলা ৮ থেকে ১০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৩০ টাকা, পেঁপে ১৫ টাকা, কুরিকচু ২৫ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়াস ৩০, শিম ৬০ , ফুলকপি ৩০ টাকা,কাঁচা কলা প্রতি হালি ২০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৮ থেকে ১০ টাকা, ঝিঙ্গা ২৫ টাকা, গ্জর ৫০ থেকে ৬০টাকা, এবং লাউ প্রতি পিস ২৫ থেকে ৩০ টাকা আর কুমড়া জালি ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের আরেক বিক্রেতা সাইফুল জানান, আগের থেকে শীত একটু বেশি পড়ায় মাঠে শীতের সবজিগুলো বেশি উৎপাদন হচ্ছে এবং এক সাথে ফুল কপি বাঁধাকপি মূলা নতুন আলু এবং নতুন শাকের আমদানি হওয়ার ফলে দাম গত সপ্তাহের থেকে অনেক কমেছে।
এদিকে মুদি ব্যবসায়ী রানা জানিয়েছেন, চালের দাম একটু উঠা নামা করলেও বাঁকি সব দ্রব্য সামগ্রীর দাম প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে ।
তিনি জানান, বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৪ টাকা, রসুন ১৮০ টাকা, আদা ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ খেকে ১০০ টাকা। এছাড়া শুকনা মরিচ প্রতি ১০০ গ্রাম ২৪ টাকা ,হলুদ ১৮ টাকা, জিরা ৪০ টাকা, ধনিয়া ১৮ দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরবারহ আগের থেকে দ্বিগুন থাকায় দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে শাকের বাজার শাক ব্যাবসায়ী সালাম জানান, শীতের সবজির সাথে সাথে শাকের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং শীতের মৌসুমি শাকের উৎপাদন বাড়ায় সব শাকের দাম কমেছে ১০ থেকে ১২ টাকা। নতুন শাক হিসাবে বাজারে উঠেছে খেশারির শাক তবে নতুন হলে কদরটা একটু বেশি থাকায় প্রতি কেজি খেসারির শাক বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি লাল শাক ১৫ টাকা, সরিষা শাক ১৫ টাকা, কলমি শাক ১৮ টাকা, লাউ শাক ২০ টাকা, ডাটা শাক ১৫ টাকা, কচু শাক ১২ টাকা, সবুজ শাক ২০ টাকা, পুই শাক ২০ টাকা এবং পালং শাক ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাক কিনতে আসা ক্রেতা ছাব্বির জানান, বাসার থেকেই বড় আপুর প্রিয় খেসারি শাক কিনতে বলেছে । তাই সকল বাজারের পাশাপাশি এক কেজি খেসারির শাক কিনলাম এটা আমার পরিবারে খুব পচ্ছেন্দের একটি আদর্শ খাবার। তবে শাকের মৌসুমে শাকের দাম এতটা বেশি হবে বুঝলাম না।
এদিকে মাছের বাজারে সব মাছের দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা । খাল বিল নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলেই আমদানি কম থাকায় মাছের দাম বেশি বলে জানান, বিক্রেতারা।
সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা আইনুল জানান,কার্প জাতীয় মাছ বাদে দেশি এবং নদীর মাছের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর শুক্রবার শনিবার ক্রেতার সংখ্যা বেশি হয়। আর নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়াই মাছের আমদানি অনেক কম মূলত এই কারণেই মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে বাজারে কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০টাকা, চিতল ৪০০, রুই ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, সিলভার কার্প ১১০ থেকে ১৪০ টাকা,পাঙ্গাস ১০০ থেকে বাটা ১৫০ টাকা, টেংরা ৬৫০ টাকা, দেশি কৈ মাছ ৬০০ও হাইব্রিট কই ১৫০ টাকা, শোল মাছ ৫৫০ টাকা, মৃক্রা ৩৩০ টাকা, গ্রাস কার্প ২০০ টাকা এবং মিরর কার্প ১৮০ টাকা তেলাপিয়া ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পুকুর ও দিঘি থেকে সংগৃহীত মাছের দাম একটু স্বাভাবিক থাকলেও নদী ও দেশি প্রজাতির মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে নদীর বড় চিংড়ি ৬৫০ টাকা ও ছোট চিংড়ি ৩৮০ টাকা, পিউলি মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় কাটাপাতাসি ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, ঢেড়ে মাছ ৫০০টাকা, পাবদা ৬০০টাকা, বোয়াল ৬০০ টাকা, বাছা মাছ ৬০০ এবং রিঠা ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও আইড় ৫৫০ টাকা, শিং মাছ ৫৩০ টাকা, গুচি মাছ ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মায়া ৪২০ টাকা। বাজারে এ সপ্তাহে পদ্মার একটু বড় সাইজের ইলিশ উঠায় দাম টা ২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পদ্মার ও বরিশালের বড় আকারের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাহেব বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা গৌতম জানান, গত সপ্তাহের থেকে আজ প্রত্যেক মাছের দাম অনেক বেশি আমার পরিবারের সকল সদস্য দেশি জাতীয় মাছ পচ্ছন্দ করে তাই তাদের জন্য দেশি মাছ কিনতে হয় কিন্তু দাম এতো বেশি থাকায় বাজার করতে এসে বিপাকে পড়েছি।
এদিকে স্বাভাবিক রয়েছে মুরগির বাজার। মুরগি ব্যবসায়ী সবুর হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে জানান, গত সপ্তাহের মত এ সপ্তাহে মুরগির দাম একই আছে। সাদা কক বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭০ টাকা, ব্রয়লার ১২৫ টাকা, দেশি মুরগি ৩০০, সোনালি মুরগি ২৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৭০ এবং হাঁস ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে বর্তমানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে।
ডাল ব্যাবসায়ী সাখাওয়াত বলেন, এ সপ্তাহে ডালের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডাল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, কলাই ডাল ৮৫থেকে ১২০ টাকা, ছোলা ডাল ১২৫ টাকা, খেসারি ডাল ৭৮ থেকে ৬৫ টাকা, মটর ডাল ১৩০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকা, লবন ৪০ টাকা, ময়দা ২৪ টাকা, পোলাও চাল ১১০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স/তা









