রাজশাহী

রাজশাহীতে সাঁওতাল শিশুদের নিজস্ব ভাষায় পাঠদান দেখে মুগ্ধ নরওয়ের প্রতিনিধি দল

নিউজ ডেস্ক২৯ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে আদিবাসী সাঁওতাল শিশুদের নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষাদান পদ্ধতি ও তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেখে অভিভূত হয়েছেন নরওয়ে থেকে আসা উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। নরওয়ের ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড মিউনিসিপ্যালিটির ডেপুটি মেয়র সেলথ বেকবান ও ডাগ ভিগে-এর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের এই প্রতিনিধি দল বর্তমানে রাজশাহী সফর করছেন।

স্ট্রোমি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (Strømme Foundation Bangladesh) এবং রাজশাহী ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ কমিটির (RKFC) যৌথ পরিকল্পনায় এই সফরের আয়োজন করা হয়। সফরের অংশ হিসেবে আজ (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সারাদিন তারা পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়নমূলক সংস্থা ‘ন্যাশনাল এজেন্সি ফর গ্রিন রিভ্যূলেশন’ (NAGR)-এর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলটি সকালে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার শিমলা দীঘিপাড়া বহুভাষিক শিক্ষা (Multilingual Education – MLE) স্কুলে পৌঁছালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গ্রামের সাঁওতাল জনগোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী সাঁওতাল নাচ ও গানের মাধ্যমে বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানান। সাঁওতাল রীতি অনুযায়ী অতিথিদের পা ধুইয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

বরণ পর্ব শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আদিবাসী ছেলে-মেয়েরা তাদের নিজস্ব মাতৃভাষায় কীভাবে শিক্ষা গ্রহণ করছে, তা সরাসরি শ্রেণীকক্ষে বসে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেন এবং তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। একটি প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য এমন ব্যতিক্রমী ও কার্যকরী শিক্ষাদানের ব্যবস্থা দেখে অতিথিরা অত্যন্ত আনন্দিত ও মুগ্ধ হন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, “একটি জাতির সবচেয়ে বড় পরিচয় ও সম্পদ হলো তার ভাষা। মুখের ভাষা যদি হারিয়ে যায়, তবে সেই জাতিও একদিন পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে। সাঁওতাল শিশুরা যে তাদের নিজের ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করতে পারছে, তা সত্যি প্রশংসনীয় এবং এটি তাদের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে অনন্য ভূমিকা রাখবে।” পরিদর্শন শেষে অতিথিরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন।

এনএজিআর (NAGR)-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব স্টেফান সরেন এই পরিদর্শনের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের নিজস্ব ভাষায় পরিচালিত এই ব্যতিক্রমী স্কুলটি পেয়ে স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মানুষ অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ। এনএজিআর দ্বারা পরিচালিত ব্যতিক্রম বহুভাষিক শিক্ষা স্কুল ২০ পরিচালনা করছে। মেননাইট সেন্ট্রাল কমিটির অর্থায়নে ১৫টি এমএলই স্কুল ও ষ্ট্রমে ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং খ্রিষ্টিয়ানসেন্ড রাজশাহী ফ্রেন্ডশীপ কমিটি দ্বারা মোট ৫টি এমএলই স্কুল পরিচালনা করছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে যদি এমন স্কুলের সংখ্যা আরও বাড়ানো যায়, তবে অনেক বেশি আদিবাসী ছেলে-মেয়ে তাদের নিজেদের ভাষা ও বাংলা ভাষায় সমানভাবে শিক্ষা গ্রহণ করে মূলধারায় এগিয়ে আসতে পারবে। নরওয়ে প্রতিনিধি দল ও দাতা সংস্থাগুলোর কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে, তারা যেন এই কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন।”

প্রতিনিধি দলটির এই সফর রাজশাহীর আদিবাসী শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।