নিজস্ব প্রতিবেদক:
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক রাজশাহী শাখায় এক নারী গ্রাহকের অর্ধকোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লালমন বেওয়া নামের ওই নারী তাঁর দুই ছেলে ও ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকসহ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে জানাজানি হলে এ নিয়ে ব্যাংকের ভিতরে তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, নগরীর আলুপট্টি সংলগ্ন প্যারেন্টস প্লাজার মালিক লালমন বেওয়া ওই ভবনের মিচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংককে ভাড়া দেয়। এরপর থেকে লালমন বেওয়ার যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ওই ব্যাংকের সাথে হয়ে থাকে। গত ১৫-২০ দিন পূর্বে লালমন বেওয়ার বড় ছেলে রাজ্জাক এবং ছোট ছেলে সাজ্জাদ হোসেন চেক জালিয়াতি করে ব্যাংক থেকে ৫২ লাখ টাকা উত্তোলন করে।
- এদিকে চেক মালিক লালমন বেওয়া এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন। টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে লালমন বেওয়া জানতে পারেন তার একাউন্টে ৫২ লাখ টাকা কম রয়েছে। এর কারণ জানতে চাইলে ব্যাংকের ম্যানেজার হারুন অর রশীদ জানান টাকাটা উত্তোলন মালিক নিজেই উত্তোলন করেছে তার ছেলেদের দ্বারা।
মালিকের সাথে যোগাযোগ ছাড়া ব্যাংকের টাকা অন্যকে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি চেক মালিক লালমন বেওয়াকে জানান ব্যাংকের স্বাভাবিক নিয়মেই চেকের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

- চেক মালিক লালমন বেওয়া সিল্কসিটি নিউজের কাছে দাবি করেন, ব্যাংক ম্যানেজার হারুন অর রশীদের কারসাজিতেই এই কাজটি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, ভবন ও চেক মালিক লালমন বেওয়া তার ছেলে মেয়েদের নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে সোরগোল করছেন। তবে সে সময় ব্যাংক ম্যানেজার হারুন অর রশীদ সেখানে ছিলেন না।
তথ্য নেওয়ার জন্য কোন সাংবাদিককে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি ওই ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পরে এই ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্যারেন্টস প্লাজার মালিক লালমন বেওয়া তার ভবনে কিছু প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেন। যার চুক্তি অনুযায়ী সকল ভাড়া লালমন বেওয়া নিজে পাবেন। ওই ভবনে মিচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক ছাড়াও একটি কাপড়ের শোরুম, কোচিং সেন্টার এবং একটি টেলিভিশনের অফিস ভাড়ায় থাকে।
- সেই সূত্রে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত লেনদেন তিনি ওই ব্যাঙ্কে করে থাকেন। কিন্তু লালমন বেওয়ার বড় ছেলে রাজ্জাক হোসেন এবং ছোট ছেলে সাজ্জাদ হোসেন ব্যাংকের ভাড়ার চুক্তি লুকিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে হাত করে অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন করে।
আর ব্যাংকের ম্যানেজার ভবন মালিকের সাথে যোগাযোগ না করে সব টাকা মালিকের ছেলেদের হাতে তুলে দেয়।
পরিবারের সদস্যদের সাথে এ নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
তবে বিষয়টি নিয়ে সিল্কসিটি নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ব্যাংক ম্যানেজার হারুন অর রশিদ এ নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
স/আর









