রাজশাহীর খবর

রাজশাহীতে বছরের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড: শীতে কাঁপছে মানুষ

নিউজ ডেস্ক১৩ জানুয়ারি ২০১৭৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীতে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়া সঙ্গে কুয়াশা গত ‍তিনদিনে হাড়কাঁপুনি শীত নামিয়েছে রাজশাহীতে। এতে করে গত সোমবার থেকে হঠাৎ করে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রার পরিমাণও। আজ শুক্রবার এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এ শীত আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা।

গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে দিনভর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি দেখা দেয়। বৃষ্টি আর হঠাৎ জেঁকে বসা তীব্র শীতে অনেকটা দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। বিশেষ করে রাজশাহীর ছিন্নমূল মানুষরা পড়েছেন বেশি বিপাকে। তারা ঠান্ডা তাড়াতে  খড়কুটো জ্বালিয়ে সাময়িকভাবে একটু প্রশান্তি খোঁজারও চেষ্টা করছেন।

rajshahi-photo-20-01-16-20-copy

  • রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক রাজিব খান সিল্কসিটি নিউজকে জানান, আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সঙ্গে বাতাসের আদ্রতা ছিল ৭৭ ভাগ। দুপুর ৩টায় ছিল ২৯ ভাগ।

 

ওই কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ পৌষ মাসের শেষ দিন । মাঘ মাসে এর মাত্রা আরও নিচে নেমে আসতে পারে বলে জানান তিনি।

রাজিব খান আরো বলেন, ‘গত মঙ্গলবার সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সোমবার ছিল সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ছিল ২৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সিলসেয়িাস।সারা দেশে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিনে কুয়াশা ঘন কুয়াশায় রুপ লাভ করতে পারে এমন সম্ভাবনাও আছে।’

rajshahi-photo-08-01-2013-25-copy

এদিকে হিমেল হাওয়া আর কুয়াশা প্রবাহে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে এসব মানুষরা শীতে অনেকটা কাতর হয়ে পড়েছেন।

 

  • শীত নিবারণের জন্য কম দামে শীতবস্ত্র কিনতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুরোতে শিশু এবং বৃদ্ধরা পড়েছে শীতে প্রচণ্ড বিপাকে। গরম কাপড় না পাওয়ায় শীতে আক্রান্ত হয়ে অনেকে অসুস্থ হয়েও পড়ছে। ফলে বাড়ছে শীতজনিত রোগের মাত্রাও।

 

এছাড়া সন্ধ্যার পর ছিন্নমূল মানুষগুলোকে পথের ধারে খড়-কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা  গেছে। তবে সরকারি, সেবরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণও শুরু হয়নি বলেও জানা গেছে। ফলে দুর্গত মানুষরা নিজেদের প্রচেষ্টায় কোনো মতে দুর্ভোগ কাটাতে চেষ্টা করছে। কিন্তু আগামী কয়েকদিনে শীত আরো বাড়লে এসব মানুষদের ভোগান্তিও বাড়বে ব্যাপক হারে।

নগরীর ছোট বনগ্রাম বস্বিতর বাসিন্দা শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘মঙ্গলবারের বৃষ্টির পর থেকে শীত আরো বেশি পড়েছে। কিন্তু এই শীত তাড়ানোর কোনো কাপড় আমাদের বাড়িতে নাই।’

 

  • সরেজমিন শুক্রবার সকালে রাজশাহী নগরীতে ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ করে শীতের কবলে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষরা অনেকেই গরম কাপগড় না পেয়েই বিছানার কম্বল গায়ে দিয়েই বের হয়েছেন কাজের সন্ধানে। আবার অনেক রিকশা চালককে গত বছরের ছেঁড়া-ফাটা কাপড় পরে রিকশা চালাতে দেখা যায়।

ভোর হলেই নগরীর রেলগেট এলাকায় ভীড় জমান নির্মান শ্রমিকরা। দুর দুরান্তের এলাকা থেকে বাসের ছাদে চড়ে, সাইকেলে পেডেল করে অসংখ্য নির্মান শ্রমিক এখানে আসেন কাজের সন্ধানে। শীত যত বাড়ছে এসব মানুষদের ভোগান্তি যেন বেড়েই চলেছে। অনেকেরই শীত নিবারণের জন্য নেই পর্যাপ্ত কাপড়। কাউকে কাউকে তেমন কোনো গরম কাপড় ছাড়াই শীতের মধ্যে কাঁপতে কাঁপতে কাজের সন্ধানে ঘুরতে দেখা যায় এ নগরীতে।

স/শ