রাজশাহীর খবর

রাজশাহীতে ঠিকাদারের চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে অনিয়মের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক১৬ জুলাই ২০২০২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন ঠিকাদার নির্মল কর্মকারের হওয়া চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে অনিয়মের কারণে চুক্তিপত্র বাতিলের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে চুক্তিতে কোন অনয়িম হয়নি বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

জানা গেছে, গত ৩০ জুন নির্মল কর্মকারের সঙ্গে করা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। গত ২৩ জুন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. রায়হানুল কবীর স্বাক্ষরকৃত একটি চিঠিতে ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরের অবশিষ্ট সময়, ২০১৯-২০ মেয়াদ এবং বর্ধিত সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হতে আগ্রহী ঠিকাদারদের আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়। অথচ সেখানে উপস্থিত না হয়েও নির্মল কর্মকার কীভাবে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য বিভাগের পূর্ব অনুমতি ছাড়া গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নির্মল কর্মকার ভারতে অবস্থান করেন। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও তিনি নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে নির্মল কর্মকারের অনুপস্থিতিতে তার জালকৃত স্বাক্ষরে মো. রায়হানুল কবীর পুনরায় তাকে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছেন।

এদিকে, নির্মল কর্মকারের সঙ্গে হওয়া নতুন চুক্তিপত্র বাতিলের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন মেসার্স শুভ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক রতন চন্দ্র ভদ্র। অভিযোগে বলা হয়, নির্মল কর্মকার খাদ্য বিভাগের অনুমতি ছাড়া গত পাঁচমাস ধরে ভারতে অবস্থান করেছেন। তারপরও খাদ্যবিভাগ তার নামে ধারাবাহিকভাবে পরিবহন চলাচল সূচি জারি রেখেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নির্মল কর্মকারকে ৫০ হাজার মেট্রিকটন গম সাইলো থেকে রংপুর সদর খাদ্য গুদামে পরিবহনের সুযোগ করে দিয়েছে মো. রায়হানুল কবীর।

জানতে চাইলে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রায়হানুল কবির বলেন, এখানে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি। নির্মল কর্মকারের সঙ্গে মূল চুক্তিটা হয়েছিল দেড় বছর আগে। তখন তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। এখন তার সঙ্গে শুধু চুক্তির মেয়াদটা তিনমাস বাড়ানো হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কারো উপস্থিত থাকা না থাকার বিষয়ে কোন বাধ্যবধকতা নেই। নিয়ম অনুযায়ীই আমরা সব কাজ করেছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ খাদ্য মহাপরিচালক (ঢাকা) আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স/আর

ট্যাগ: