আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হত্যাযজ্ঞ চলছেই

নিউজ ডেস্ক২৭ নভেম্বর ২০২৩৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক

ইসরায়েলের সঙ্গে চার দিনের যুদ্ধবিরতির তৃতীয় দিনে ১৭ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। গতকাল রবিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, জিম্মিদের রেডক্রসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন হলেন ইসরায়েলি। আর বাকি চারজন বিদেশি নাগরিক। এ দিন ৩৯ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে কখন তারা মুক্তি পাবেন তা জানানো হয়নি। এদিকে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে গতকাল ইসরায়েলি

সেনাদের হাতে গাজায় এক কৃষক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে পশ্চিমতীরে সংঘাত বন্ধের কোনো লক্ষণ নেই, সেখানে রাতভর ইসরায়েলি অভিযানে ৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনারা ফিলিস্তিনি নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে এক কৃষক নিহত হয়েছেন এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির মধ্যে এ হত্যকাণ্ড নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েল। অন্যদিকে বিবিসির খবরে বলা হয়, দখলকৃত পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের অভিযানে ৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল দাবি করছে, নিহতদের মধ্যে আগস্ট মাসে অতর্কিত হামলাকারীও রয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী চারদিক থেকে গুলি ছুড়েছে।

৭ অক্টোবর থেকে হামাস-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে গত শুক্রবার থেকে চার দিনের যুদ্ধবিরতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। এ অস্ত্রবিরতির অন্যতম শর্ত হলোÑ দুই পক্ষ নির্দিষ্ট সংখ্যক বন্দি মুক্তি দেবে এবং এ ছাড়া অবরুদ্ধ গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেবে ইসরায়েল। অস্ত্রবিরতির প্রথম দুই দিনে হামাস ২৬ জন ইসরায়েলিকে মুক্তি দিয়েছে এর মধ্যে সবাই নারী ও শিশু। অন্যদিকে ৭৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। এ ছাড়া থাইল্যান্ডের ১৪ নাগরিক এবং ফিলিপাইনের এক নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে হামাস। হামাস ও মিশর সরকারের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে গতকাল তৃতীয় দফায় বন্দিবিনিময়ের খবর হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষ থেকে নিশ্চিত করলেওÑ কখন বন্দিবিনিময় হবে সেই সময় জানানো হয়নি। হামাসের পলিটিক্যাল ব্যুরো সদস্য গাজী হামাস আল জাজিরাকে বলেছেন, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দিলে আমরা জিম্মিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত রয়েছি। তৃতীয় দফায় কারা মুক্তি পাবেন, সেই তালিকাও মিশর কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছে।

এদিকে গতকাল হামাসের পক্ষ থেকে চলমান যুদ্ধে তাদের চার কমান্ডার নিহতের খবর নিশ্চিত করা হয়। নিহতদের মধ্যে শীর্ষনেতা আহমাদ আল ঘানদোয়ার রয়েছেন, যিনি আবু আনাস নামে পরিচিত। তিনি নর্থ ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন। অন্যদিকে ইসরায়েল গতকাল হামাসের ৫ জন কমান্ডার নিহতের কথা জানিয়েছে। ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী অস্ত্রবিরতি শুরুর আগেই হামাসের কমান্ডাররা নিহত হন।

৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভেতরে ঢুকে হামাসের অতর্কিত আক্রমণের জবাবে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে তেলআবিব। সাত সপ্তাহে গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় ইসরায়েল। ‘হামাস নিশ্চিহ্ন’ করার কথা বললেও কার্যত সেটি গাজাবাসী নিশ্চিহ্ন করার আগ্রাসনে রূপ নেয়। হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জা সবখানেই হামলার টার্গেট করেছে ইসরায়েলি সেনারা। গতকাল গাজার কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েল গাজায় ৪০ হাজার টন বোমা ফেলেছে। এ যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজারে এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। অন্যদিকে হামাসের আক্রমণে ১২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে।

ইসরায়েলের আগ্রাসনে গোটা গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চার দিনের অস্ত্রবিরতি পেয়ে সেই ধ্বংসস্তূপেই ফিরছে গাজাবাসী। কিন্তু এই যুদ্ধবিরতির পর কী হবে তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সম্প্রতি বিবিসি জানিয়েছে, চার দিনের অস্ত্রবিরতির মেয়াদ আর কয়েকদিন বাড়তে পারে; কিন্তু তারপর ইসরায়েল ঠিকই তাণ্ডব চালাবে। গতকাল ইসরায়েলের প্রবাসবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলির কথা থেকেও সেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিবিসিকে তিনি বলেছেন, ‘মানবিক বিরতি’, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়। তার কথায়, কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, হামাস সন্ত্রাসী সংগঠন… তাদের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না। অন্যদিকে কাতারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী লোলওয়াহ রশিদ আল-খাতার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়বে।

ট্যাগ: