কৃষি

মৌসুমের শুরুতেই আলুর দাম নিয়ে হতাশ চাষিরা

নিউজ ডেস্ক২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহীতে এবারও মৌসুমের শুরতেই আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। দাম কম থাকায় আলুচাষের জন্য জমিতে যে বীজ রোপন করা হয়, সেই বীজের খরচও উঠছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। এতে এবারও আলু নিয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, এখনো পোক্ত আলু বাজারে আসতে শুরু করেনি। আরও মাস খানেক লাগতে পারে। এখন কাঁচা আলু বাজারে আসছে। কিন্তু প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩৫০ টাকা দরে। এই হারে আলু বিক্রি হরে বীজের টাকাও উঠছে না। বিশেষ করে যারা জমি বন্ধক নিয়ে আলুচাষ করেছেন, তারা পড়েছেন বেকায়দা। এভাবে চলতে থাকলে এবারও আলুচাষিরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।

রাজশাহী জেলা কৃষি অধিপ্তর সূত্র মতে, জেলার ৯টি উপজেলায় এবার প্রায় ৩৪ হাজার ১০৯ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। তবে এবার ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেখানে গত বছর আলুর দাম কম পাওয়ায় চাষিরা লোকসানে পড়ায় প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ কম হয়েছে। সবচাইতে বেশি আলু চাষ হয়েছে তানোর উপজেলায়।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার আলুচাষি হাসিবুল ইসলাম জানান, এবারও তিনি প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আলুচাষ করেছেন। গত বছর আলুচাষ করে প্রায় দুই কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এবার লাভের আশায় আলুচাষ করে এখানকার বাজার অনুযায়ী লোকাসানের সম্ভাবনায় বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসিবুল বলেন, ‘এখন যে বাজার দর যাচ্ছে, তাতে আলুচষ করে কোনো কোনো চাষির বীজের খরচের টাকাই উঠবে না। যদি আলু খারাপ হয়। আবার যাদের ভালো হবে, তাদেরও সবমিলিয়ে যে খরচ হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি লোকসান হবে।” এভাবে চলতে থাকলে কৃষক বড় ধরনের সঙ্কটে পড়বে বলেও দাবি করেন তিনি।

পবার কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আলু চাষে খরচ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। বীজ, সার আর শ্রমিকের মজুরি সবই বেশি। কিন্তু এবারও আলুর দাম বাড়েনি। বাজারে ২৫০-৩৫০ টাকা মণ দরে আলু বিক্রি করে খরচের টাকায় উঠছে না।’

আমাদের তানোর প্রতিনিধি টিপু সুলতান জানান, তানোরে আবারও কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে পাইকাররা আলু কিনছি সাড়ে ৯ টাকা থেকে ১০ টাকায়। তানোর পৌরসভা এলাকার গোল্লাপাড়া গ্রামের রিয়াজ উদ্দীন বলেন, ‘আমরা জমি লিজ নিয়ে এক বিঘা আলুর জমি লাগাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজারেরও বেশি টাকা। বর্তমান সময়ে আলু উত্তোলন করে ৬৫ কেজির বস্তা হিসাবে বিঘা প্রতি ৬২ থেকে ৬৫ বস্তা হচ্ছে। সে হিসাবে বিঘা প্রতি লোকসান হচ্ছে ২২ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা। আমরা কেউ ২০ বিঘা কেউ ৭০ বিঘা কেউ ১৮ বিঘা কেউ ৫ বিঘা আলু করেছি। উৎপাদন খরচ বেশি কিন্তু বর্তমান বাজারে আলুর দাম কম।’

আজগর আলী নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘সার ও আলুর বীজ অতিরিক্ত দামে কৃষকদের কিনতে হয়েছে। ১ বিঘা জমিতে আলু রোপন করতে অন্তত ২৪০ কেজি অর্থাৎ ছয় বস্তা সার লাগে। তার উপর সারে দাম অতিরিক্ত টাকায় কিনতে হয়েছে কৃষকদের। সব মিলিয়ে গত বছরের মত এ বছরেও বছরের নতুন আলুতে কৃষকদের লোকসান হবে।

তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, ‘যে সকল কৃষক আলুর জমির লিজ নিয়ে উৎপাদন করেছেন তাদের খরচ বেশি হয়েছে। আর যারা নিজ জমিতে আলো উৎপাদন করেছেন তাদের খরচ কম। তবে লিজ নেয়া কৃষকের সংখ্যাটাই বেশি।

উপজেলা পুরো দমে আলু উঠতে শুরু করেনি। কিছু কিছু জমির মাঠে আলু উঠতে শুরু করেছে। সে সব জমিতে ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কৃষকরা আশানরুপ পাচ্ছেন না। এ বছরেও আলুর ফলন ভালো
কিন্তু কৃষকরা দাম বেশি না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। সরকার যদি মনে করে কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনবে তাহলে হয়তো বা কৃষকরা কিছুটা হলেও আর্থিক ক্ষতির থেকে রেহাই পাবে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো উৎপাদনের আশা করা যাচ্ছে। তবে এবারও দাম তুলনামূলক কম। এতে কৃষকরা বিপাকে পড়েছে।