রাজশাহী

মেয়ে হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে ঘুরছেন হতভাগা বাবা-মা

নিউজ ডেস্ক১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

একমাত্র মেয়ের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রাজশাহীর পবা উপজেলার মাঝিগ্রামের হতভাগা রফিকুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী নাসিমা বিবি। হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে তিন মাস অতিবাহিত হতে চললেও এখনোে বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি নগরীর শাহমখদুম থানা পুলিশ। এ নিয়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝেও।

 

  • তাদের দাবি, আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় দিনমজুর রফিকুলের মেয়েকে হত্যার সঙ্গে জড়িত তাঁর জামাই এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ।

 

উল্টো জামাই আফজাল হোসেন এবং তার পরিবারের লোকজন আদালতে দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে বাদীপক্ষকে। এ নিয়ে চরম হুমকির মুখেও আছেন পরিবারটি।

  • মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে পবার মাঝিগ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে রওশন ওরফে রশেনারার (২০) সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন একই এলাকার মৃত মফিকুলের ছেলে আফজাল হোসেনের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আফজাল এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আফজাল তার স্ত্রীর ওপর বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন চালাতে থাকে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ মে আফজাল তার পরিাবরের লোকজনের সহায়তায় তার স্ত্রীকে মারপিট করে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে রওশনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার পরে আফজাল এবং তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। হাসপাতালে আনার পরে রওশন ওইদিন রাতে মারা যান।
এরপর নগরীর শাহমখদুম থানা পুলিশ রওশনের লাশ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে এবং একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। তবে মেয়েকে হত্যার বিচার চেয়ে রওশনের বাবা রফিকুল ইসলাম গত ৩ জুন রাজশাহী নারী শিশু আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ বলেন, ‘ওই ঘটনার পর থেকে পুলিশ আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। রওশন আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কিন্তু আমার মেয়ে কেন আত্মহত্যা করলো, তারও একটা তদন্ত করে বিচার করতে হবে। আমি টাকা দিতে পারিনি বলেই মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। মরার সময় মেয়ে মেয়ে আমাকে হাসপাতালে সেই কথাও বলে গেছে। কিন্তু পুলিশও এখন আত্মহত্যা বলে চালাচ্ছে।’

রওশনের বাবা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘আফজাল হোসেন এবং তার পরিবারের লোকজন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। কিন্তু আমি দিনমজুর। কাঠমিস্ত্রির কাজ করে খায়। মেয়েকে হত্যার ঘটনার পর থেকেই থানাসহ স্থানীয় মাতাব্বরদের কাছে ধর্না দিয়েছি। কোনো লাভ হয়নি। কেউ আমার মেয়েরে হত্যাকারীদের বিচার করে দিচ্ছে না। উল্টা আমাকেই নানাভাবে চাপ দিচ্ছে আফজাল এবং তার ভাইয়েরা।’

  • রফিকুলের স্ত্রী নাসিমা বিবি বলেন, ‘মেয়েকে হারাইছি। এখন লিজেরও জানটা বুঝি যাবে। মামলা না তুইল্ল্যে আমারেক কাহুকেই আস্ত র‌্যাখবে না আফজাল আর তার বাড়ির লোকজন। আমরা এখন জীবন নিয়েই হুমকিতে আছি। তারপরেও আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।’

নাসিমা জানান, ঘটনার কয়েকদিন পর থেকেই আফজাল এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর থেকে এখনো এলাকাতেই আছে। আর তার ভাইদের নিয়ে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে আফজাল হোসেন তার স্ত্রী রওশনকে হত্যার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে। আমি তাকে কোনো নির্যাতন করিনি। মামলা তুলে নিতে কোনো চাপও দেওয়া হচ্ছে না।’
জানতে চাইলে নগরীর শাহমখদুম থানার ওসি আব্দুর রউফ জানান, বিষয়টি এখনো তদন্তাধিন রয়েছে। হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট নয় বলেই আসামিদের বিরুদ্ধে এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

স/আর