রাজশাহী

ভিপি ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত রাকসুর সব কর্মসূচি বয়কট ঘোষণা সাংবাদিকদের

নিউজ ডেস্ক২৯ জুলাই ২০২৬৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সব ধরনের কর্মসূচি বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করে কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

‎বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সম্মিলিত এক প্রতিবাদলিপিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন আলাদা বিবৃতি দিয়েছে।

এতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিমূলক বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (আরটিজেএ)। সংগঠনটি অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আরটিজেএর সভাপতি শ. ম. সাজু ও সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান রাসেল এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।

আরটিজেএর নেতারা বলেন, সংবাদমাধ্যমের মৌলিক দায়িত্ব হলো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনা অনুসন্ধান করে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা। কোনো প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত নির্যাতন, সহিংসতা বা অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের ফলে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তবে তার দায় তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের। কোনোভাবেই সেই দায় সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকদের ওপর বর্তায় না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। কিন্তু সংবাদকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি দেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা মুক্ত মতপ্রকাশ, তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

নেতারা বলেন, সাংবাদিকরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং পেশাগত দায়িত্ব ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করেই সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করেন। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করে সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন।

বিবৃতিতে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদকে তার বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এদিকে ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার প্রাণকেন্দ্র। প্রক্টর দপ্তরে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকসু ভবনে হামলা ও পরবর্তীতে রাকসু ও শাখা শিবিরের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে গ্রন্থাগারে ঢুকে হামলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে নিন্দনীয়ভাবে বিঘ্নিত করে।

এই ঘটনায় রাকসু আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাকসু ভিপি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পক্ষপাত করার অভিযোগ করেন। তার বক্তব্যে তিনি ‘ছাত্রলীগের পক্ষে মায়াকান্না’, ‘ছাত্রলীগের জন্য মাথা ব্যাথা’সহ একাধিক ট্যাগিং দেন ও সাংবাদিকদের জড়ো করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন।

এ ছাড়া ওই ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের ‘কটাক্ষ’ করে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট করেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ রাকসু নেতারা।

‎প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, কোনো সংগঠন সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার রাষ্ট্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার রয়েছে। ছাত্র সংসদ বা তার কোনো প্রতিনিধি এ ধরনের দায়িত্ব পালন করতে পারে না।

‎এ অবস্থায় ভিপি নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তিন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা রাকসুর সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকবেন বলে জানানো হয়। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে সারাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।