
নিজস্ব প্রতিবেদক
সবাই জানে ট্রেন থামবে কিন্তু থামলো না। ভাঙা রেললাইন, ভাঙা ফিসপ্লেটের ওপর দিয়ে যে দুর্দান্ত গতিতে চলে গেলো টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেন। ঘটে যেতে পারতো প্রাণহাণির ঘটনা। রাজশাহীতে রেললাইনে ভাঙা থাকার কারণে দুপুরে ৫০ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় তা আবার চালু হয়। ভাঙাস্থানে ভেড়া চট বিছিয়ে ট্রেনগুলোতে ১০ কিমি গতিতে ধীরে ধীরে পার করা হয় দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত।

এ সময় ঘটনাস্থলের দুই পাশেই রেল কর্মীরা দূরে লাল কাপড় টাঙিয়ে দেন। পরপর কয়েকটি কমিউটার ট্রেন নিয়ম মতো পার হলেও বেলা পৌনে তিনটায় হঠাৎ টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি আড়ানী স্টেশন পার হয়ে পূর্ণ গতিতে ঘটনাস্থলের দিকে আসতে থাকে। চরম ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনটি এভাবে কেন ছুটে গেল তা জানতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এ সময় ভাঙাস্থানটি ঠিক করার জন্য জয়েন্ট নাটগুলো কাটা হচ্ছিলো। দূর থেকে রেল কর্মীরা বারবার নিশানা দিলেও ট্রেনটির চালক কোন তোয়াক্কা না করে ভাঙা লাইনটির ওপর দিয়ে চালিয়ে নিয়ে চলে যান। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা রেলকর্মী, মিডিয়া কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সৌভাগ্যবশত ট্রেনটি ভাঙা নড়বড়ে লাইন দিয়ে সফলভাবে পার হলেও লাইনগুলো ভেতরের দিকে সরে যায়। ট্রেনটি দেড় কিলোমিটার দূরে গিয়ে দাঁড়ায়। ততোক্ষণে সবার মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নির্দেশ না মানায় সেখানে ঘটে যেতে পারতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সংস্কার কাজ চলা অবস্থায় ভাঙা অংশে ভেজা চটের বস্তা দিয়ে ধীরগতিতে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসকে পার করানোর প্রস্তুতি নেন রেলকর্মীরা। কিন্তু, লাল নিশান অমান্য করে ট্রেনটিকে স্বাভাবিক গতিতেই ছুটে আসতে দেখে রেলকর্মীরা লাইন থেকে দ্রুত দূরে সরে যেতে থাকেন।
ঝড়ের গতিতে ট্রেনটি ওই ভাঙা অংশ পার হয়ে যায়। এ সময় রেললাইনের ভাঙা অংশটিকে দুলতে দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত স্থান দিয়ে এতো দ্রুত ট্রেন নিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন স্থানীয় লোকজন। আর হতভম্ব হয়ে পড়েন রেলের কর্মীরা।
রেলকর্মী ও স্থানীয়রা বলছেন, এটি নিছকই খামখেয়ালি। যাদের জন্য এই সাবধানতা অবলম্বন করতে কাজ করা হচ্ছিলো তাদের খামখেয়ালিতে ঘটে যেতে পারতো বহু প্রাণহানি। যদিও বিষয়টি অনাকাঙ্খিত বলেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে জিএম। কর্তৃপক্ষ বলছে তারা ঘটনাটি খতিয়ে দেখবেন।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে রেললাইন ভাঙা, রক্ষা পেল ‘বরেন্দ্র এক্সপ্রেস’
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চারঘাট উপজেলায় নন্দনগাছী ও আড়ানী স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় রেল লাইন ভেঙে যাবার এই ঘটনা ঘটে। চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসে বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি এ সময় ঘটনাস্থলে ৫০ মিনিট অপেক্ষা করে। রাজশাহীর নন্দনগাছী স্টেশন এলাকায় রেললাইন ভাঙা থাকায় দুর্ঘটনায় পড়তে যাচ্ছিল ট্রেনটি। এ সময় এলাকাবাসীর দেখানো লাল পতাকায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রেললাইন ভাঙন দেখা দিয়েছিল। স্লিপারের কয়েকটি নাট খুলে গিয়েছিল। শীত আর অতিরিক্ত চাপের কারণে এমনটি হয়। তবে সঙ্গে সঙ্গে তা ঠিক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার কাজ চলা অবস্থায় লাইনের ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার বিষয়টি আমার কাছে গোপন করা হয়েছিল। পরে শুনেছি। শুনেই বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








