নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। তাতে যতই কষ্ট হোক না কেনো প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের অানন্দ মানে যা প্রকাশ করার কোন ভাষা থাকে না। যে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন কতই এতো আয়োজন। সেই আনন্দকে পেছনে ফেলে আবার নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে রাজশাহীর মানুষ।
এই আনন্দ ভাগাভাগি শেষে রাজশাহী ছাড়তে শুরু করেছেন তারাও। এর মধ্যে কেউ কর্মস্থলে যোগ দিতে আবার কেউ স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার কারও বা সংগ্রামী জীবন শুরু করতে।

এদিকে বাসে আসার সময় বেশি ভাড়া না দিলেও যাবার বেলায় বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে এমনটি অভিযোগ করলেন সাধারণ যাত্রীরা।
শুক্রবার সকালে নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলগামী মানুষের উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। যারা মাত্র কয়েক দিনের জন্য রাজশাহীতে অতিথি হিসেবে ঈদ করতে এসেছিলো।
সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, এখানকার কাউন্টার গুলোতে তেমন টিকিট নাই। তবে যা আছে তা আবার কালোবাজারিদের হাতে। টিকিটের বিনিময়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে তারা। বাড়ি আসার পথের চেয়ে ফেরার পথেই দ্বিগুণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে, যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া দ্বিগুন নেয়ার বিষয় অস্বীকার করেছেন হানিফ, সোহাগ, মডার্ন, দেশ ট্রাভেলস ও গ্রীন লাইন পরিবহনের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, কাউন্টার থেকে নির্ধারিত মূল্যেই টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
বাস টার্মিনালে আসা যাত্রী সোনালী বলেন, আসার থেকে যাবার ভাড়া বেশি। তিনি ঈদের আগে বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় বাস কাউন্টার থেকে টিকিট কিনেছিলেন ৬০০ টাকায়। অথচ টিকিটের স্বাভাবিক মূল্য ৪৫০ টাকা। ফেরার পথে কালোবাজারে এই পরিবহনের বাসের টিকিট কিনতে হয়েছে ৭০০ টাকায়। এদিকে অতিরিক্ত মালামালের দোহাই দিয়ে বাসের হেলপার নিচ্ছেন বাড়তি টাকা।
রাজশাহীর গোদাগাড়িতে ঈদ করতে আশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোলিম হোসেন বলেন, ঈদের সময় কালোবাজারিরা বাসগুলোর মালিক ও কাউন্টারের লোকজনের সঙ্গে মিলে টিকিট বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আর কোন টিকিট কিনতে হলে কালোবাজারিদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ঈদের দুসপ্তাহ আগে ঢাকা থেকে রাজশাহী এসেছিলেন ৪৫০ টাকায়। সেই একই পরিবহনের বাসে তাকে ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে ৭৫০ টাকায় টিকিট কিনে। তাও এ টিকিট জোগাড় করতে দুদিন পরিবহনের কাউন্টারে ধরণা দিতে হয়েছে।
মহানগরীর ভদ্রা এলাকার বাস যাত্রী রতন আলী বলেন, আসার থেকে যাওয়ার ভাড়াই বেশি মনে হচ্ছে। ঈদরে আগের দিন বগুড়া থেকে এসেছিলাম ১৬০ টাকায়। আর যেতে হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮০ টাকায়। তার পরেও পরিবহনগুলো তেমন ভালো না। ঠিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগে যেতে।
রতন বলেন, ‘প্রায় সব গাড়ির একই অবস্থা। নামি দামি গাড়িগুলোর মধ্যে কয়েকটি ছাড়া সব গাড়িতেই একই অবস্থা। তারা বলে টিকিট নাই। আবার সাইডে (পাশে) ডেকে বলে টিকিট আছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি লাগবে। পরে দর কশাকশি করে কিনতে হচ্ছে।’
আরেক যাত্রী রাজশাহীর মোহনপুর থেকে আসা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী ঢাকায় একটি কোম্পানীতে বেসরকারী চাকরি করি। ঈদের দুইদিন আগে এসেছি। আবার কোম্পানী খুলে যাবে। না গেলে বেতন থেকে টাকা কাটা যাবে।’
সাবিনার স্বামী ইয়াকুব আলী বলেন, ‘চাকরি যখন করি যেতেই তো হবে। টিকিট পেলাম না। এখন যে ভাবেই হোক জোগাড় করতে হবে। একদিন পরে আবার অফিস। ঢাকার ভাড়া বাড়িতে গিয়ে গোছ-গাছের দরকার অছে। দেখি না হলে বাসের ছাদে যেতে হবে। কোন উপায় নাই।’
দেশ ট্রাভেলস এর ট্রেনার জাহিদুল ইসলাম সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, সব কিছুই ঠিক ঠাক আছে। আমাদের এখানে ২০ তারিখ পর্যন্ত সব ধরনের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ২২ থেকে ২৫ তারিখের বরাদ্দ চলছে। বেশি দামে টিকিট বিক্রি এমন সুযোগ নেই আমাদের এখোনে।
স/আ









