নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বালুমহাল ইজারার দরপত্র জমা দিতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে এক ব্যক্তিকে। বাধা উপেক্ষা করে দরপত্র জমা দিতে গিয়ে তিনি কাগজপত্র ভুল বাক্সে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের নিচতলায় এই ঘটনা ঘটে।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের নিচতলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই বালুমহাল ইজারার দরপত্র গ্রহণের বাক্স ছাড়াও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) একটি দরপত্রের বাক্স ছিল। বাধা উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি দরপত্র জমা দিতে গিয়ে মেসার্স সিফাত ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সাবিয়ার রহমান মিল্টন আরডিএর বাক্সে কাগজপত্র ঢুকিয়েছেন।

সিফাত ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত্বাধিকারী অহেদুল ইসলামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চামাগ্রামে। তার দরপত্র যেন বাতিল করা না হয় সে অনুরোধ জানিয়ে মঙ্গলবারই তিনি বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেন। বিভাগীয় কমিশনার বলছেন, দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাণীনগর বালুমহাল ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য ইজারা দিতে সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করে জেলা প্রশাসন। প্রথম দফায় গত ১৬ মার্চ দরপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল। এই বালুমহালটি ইজারায় সরকারি ধার্য্য মূল্য ছিল ২ কোটি ৭৯ লাখ ২৬ হাজার ৯২৫ টাকা। তবে মেসার্স সাজেদা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান দর দেয় ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা সরকারি মূল্যের চেয়ে ৮ কোটি ৮০ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫ টাকা বেশি।
গত ২৯ মার্চ জেলা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়। ওই সভায় কাগজপত্রের ত্রুটির কথা উল্লেখ করে মেসার্স সাজেদা এন্টারপ্রাইজকে বালুমহাল দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় দফায় দরপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়। এই দরপত্র গ্রহণের শেষ সময় ছিল মঙ্গলবার দুপুর ১টা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ছাড়াও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়েও দরপত্র দাখিলের সুযোগ রাখা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, অল্প দরে বালুমহাল বাগিয়ে নিতে একটি মহল প্রভাব বিস্তার করছে। ওই কারণেই প্রথম দফার দরপত্র বাতিল হয়েছে। এখন রাজনৈতিক দলের নেতারা সিন্ডিকেট করে সাড়ে ৩ কোটি টাকার মধ্যে বালুমহালটি বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ জন্য দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
মেসার্স সিফাত ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক সাবিয়ার রহমান মিল্টন বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিন্ডিকেটের বাইরে কাউকে দরপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি। এ জন্য আমি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আসি এই ভেবে যে এখানে হয়ত কেউ বাধা দেওয়ার থাকবে না। কিন্তু এখানেও বাধার মুখে পড়ে ভুল বাক্সে দরপত্র ফেলেছি। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১২টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে যায়।’
তিনি বলেন, ‘কোথায় বাক্স আছে তা আমি জানতাম না। আমি দরপত্র নিয়ে দোতলায় উঠে যাই। সেখানে গিয়ে জানলাম, বাক্স নিচতলায়। সিঁড়ি দিয়ে নামতেই দেখি দুজন দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে একজন ডাকে। আমি তাকে চিনি না। সে আমার গায়ে হাত দিয়ে বলে, “আপনি শিডিউল ড্রপ করবেন? এদিকে আসেন। কথা বলেন।” সে আমাকে যেতে দেবে না। সেখান থেকে ৭-৮ ফুট দূরে টেন্ডার বাক্স রাখা আছে। বোঝার উপায় নাই যে এখানে আলাদা বাক্সও আছে। বাধা উপেক্ষা করে আমি তাড়াহুড়ো করে কাছের বাক্সে ফেলে দিয়েছি।’
মিল্টন জানান, দরপত্র ভুল বাক্সে ফেলার পর তাকে অন্য একজন ব্যক্তি বিষয়টি অবহিত করেন। তারপর তিনি বিষয়টি কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের জানান। তাদের দরপত্র যেন বাতিল করা না হয় সেই আবেদন জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সিন্ডিকেট করে যে দর দেওয়া হয়েছে তার চেয়ে তারা বেশি দর দিয়েছেন। তাই সরকারের রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে যেন তাদের দরপত্র বাতিল করা না হয়।
জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমি অফিসে ছিলাম না। দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে কি না সেটা আমার জানা নেই। তবে ভুল বাক্সে দরপত্র ফেলার বিষয়টি জেনেছি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে যেন দরপত্রটি বাতিল করা না হয়। এ ব্যাপারে বিধি-বিধান আছে। সেটি দেখে সিদ্ধান্ত নেব।’









