সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শো মানেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় মডেলদের নজরকাড়া উপস্থিতি। গত ১৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কালভার সিটির সনি স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬ সালের ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ফ্যাশন শো।
এতে অংশ নেন গিগি হাদিদ, আদ্রিয়ানা লিমা, অ্যালেক্স কনসানি, ক্যান্ডিস সোয়ানপোল, প্রেশাস লি ও আনোক ইয়াইয়ের মতো মডেলরা। তবে পোশাক আর মঞ্চের ঝলমলে আয়োজনের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে তাদের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসও।
মডেলরা কী খান, কীভাবে শরীরের যত্ন নেন—এ নিয়ে মানুষের আগ্রহ বরাবরই বেশি। তবে সবার জন্য অনুসরণযোগ্য কোনো নির্দিষ্ট ‘ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ডায়েট’ নেই।

বিভিন্ন সময়ে মডেলরা জানিয়েছেন, তারা নিজেদের প্রয়োজন, শরীরের চাহিদা ও শরীরচর্চার ধরন অনুযায়ী খাবার বেছে নেন। তাদের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ফলমূল, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবারের পাশাপাশি থাকে পছন্দের নানা পদও। কেউ কেউ পরিমিত খাবার খাওয়া ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
বারবারা পালভিন : জৈব খাবারে গুরুত্ব
সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র ছয় সপ্তাহ পর ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের রানওয়েতে ফিরে এসে আলোচনায় আসেন মডেল বারবারা পালভিন।
পেজ সিক্স–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গর্ভাবস্থায় সন্তানের সুস্থতার কথা ভেবে জৈব খাবার খাওয়ার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন।
বারবারা বলেন, গর্ভাবস্থায় তিনি মূলত জৈব খাবারই খেতেন। সন্তান জন্মের পর বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠার সময় দিয়েছেন এবং হালকা ব্যায়াম করেছেন। তবে অতিরিক্ত শরীরচর্চা করেননি।
২০১৯ সালে হলিউড লাইফ–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের প্রতিদিনের খাবারের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। বারবারা সাধারণত নিজেই রান্না করেন। সকালের নাশতায় থাকে রাতে ভিজিয়ে রাখা ওটস। দুপুরে খান বেক করা মুরগির মাংসের সঙ্গে ভাপানো ব্রকলি, ফুলকপি কিংবা মিষ্টি আলুর পিউরি। মাংস বা মাছের সঙ্গে সবজি খেতে পছন্দ করেন তিনি।
রাতের খাবার সাধারণত হালকা রাখেন বারবারা। তবে মজা করে জানিয়েছিলেন, কোনো কোনো দিন রাতের খাবার হিসেবে এক জার আইসক্রিমও খেয়ে ফেলেন।
স্টেলা ম্যাক্সওয়েল : খাবারে পরিমিতি, কঠোর বিধিনিষেধ নয়
মডেল স্টেলা ম্যাক্সওয়েল খাবারের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধে বিশ্বাসী নন। ২০২৩ সালে বার্ডি–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কোনো খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া কিংবা কঠোর ডায়েট অনুসরণ করাকে ভালো মনে করেন না। বরং পরিমিত খাবার খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
স্টেলার সকালের নাশতায় থাকে ডিম ভাজা, অ্যাভোকাডো, ওটমিল, গ্র্যানোলা ও দই। দুপুরে সালাদের সঙ্গে স্যামনের মতো মাছ খেতে পছন্দ করেন। রাতের খাবারে সাধারণত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ও সবজি থাকে। ক্ষুধা পেলে বাদাম ও শুকনো মটরশুঁটিও খান তিনি।
জোসেফিন স্ক্রাইভার : ডায়েট নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
মডেল জোসেফিন স্ক্রাইভারও খাবারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মের চেয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে বেশি গুরুত্ব দেন। ২০২৩ সালে বার্ডি–কে তিনি বলেন, দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য সাময়িক কোনো ডায়েট অনুসরণের বদলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলায় বিশ্বাসী তিনি।
জোসেফিনের খাদ্যাভ্যাসে রয়েছে ৮০/২০ নীতি। অর্থাৎ বেশির ভাগ সময় পুষ্টিকর খাবার খেলেও মাঝেমধ্যে নিজের পছন্দের খাবার খাওয়ার সুযোগ রাখেন। তিনি মনে করেন, খাবার নিয়ে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ না করে পরিমিতি বজায় রাখাই বেশি কার্যকর।
শরীরচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে প্রোটিন, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর শর্করাজাতীয় খাবার খান জোসেফিন। বাদামি চাল ও মিষ্টি আলু তার পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে। সকালের নাশতায় অনেক সময় ডিম ভাজা, পালংশাক ও বাদামি চাল থাকে। হালকা খাবার হিসেবে ফল, গাজর, বাদাম ও বাদামের তৈরি বার খান তিনি।
জোসেফিনের মতে, খাবারের কোনো একটি শ্রেণি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিতি বজায় রেখে খাওয়াই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ধরে রাখতে সাহায্য করে।
্
কাইলি জেনার : বোন ব্রথ, সুশি থেকে বার্গার
কাইলি জেনার ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের নিয়মিত ‘অ্যাঞ্জেল’ নন। তবে ২০২৬ সালের ফ্যাশন শোতে এই ব্র্যান্ডের র্যাম্পে অভিষেক হয় তার। অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের বলে উল্লেখ করা ফ্যান্টাসি ব্রা পরে নজর কাড়েন তিনি।
২০২০ সালে হার্পার’স বাজার–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলেছিলেন কাইলি। তার সকাল শুরু হয় ল্যাভেন্ডার ও লেবু মেশানো বোন ব্রথ—হাড় সেদ্ধ করে তৈরি ঝোল—অথবা তাজা সেলারির রস দিয়ে। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় হিসেবে ওট মিল্ক দিয়ে তৈরি ভ্যানিলা আইসড ল্যাটে পছন্দ করেন তিনি।
কাইলি জানান, তার মেয়ে স্টর্মির বাদামে অ্যালার্জি থাকায় তাদের বাড়িতে বাদামজাতীয় খাবার রাখা হয় না। দুপুরের খাবারে মুরগির মাংস ও সবজি, টাকো, স্টেক বুরিটো, ভাত কিংবা এনচিলাডা থাকে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকর সালাদ, গমের আটার পাউরুটি দিয়ে তৈরি স্যান্ডউইচ এবং পিচ চাও পছন্দ করেন তিনি।
ভ্রমণের সময় কাইলির পছন্দ লেবু দিয়ে রান্না করা মুরগির মাংস, সাদা ভাত, সবজি এবং জালাপেনো ও ক্রুটন দেওয়া কেল সালাদ।
তবে স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি পছন্দের খাবারও উপভোগ করেন কাইলি। তার প্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে ইন-এন-আউট বার্গার। গর্ভাবস্থায় সপ্তাহে অন্তত একবার এই বার্গার খাওয়ার ইচ্ছা হতো বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তখন সাধারণত গ্রিল করা পেঁয়াজসহ ডাবল চিজবার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও কোক নিতেন।
কাইলি নিজেকে খাবারের ব্যাপারে বেশ শৌখিন বলেও উল্লেখ করেছেন। তার পছন্দের নাশতার মধ্যে রয়েছে বারবিকিউ ফ্লেভারের লে’স চিপস ও চিলি চিজ ফ্রিটোস। এ ছাড়া ডালিমের দানা, মিসো স্যুপ, বোন ব্রথ ও সুশি পছন্দ করেন তিনি। সুশির মধ্যে বিশেষভাবে পছন্দ সাশিমি।
রাতের বেলায় অতিরিক্ত নাশতা খাওয়া এড়াতে বিছানার পাশে আগে থেকে কেটে রাখা আপেল রাখেন কাইলি। হার্পার’স বাজার–কে তিনি জানিয়েছিলেন, রাতে রান্নাঘরে যাওয়ার আলসেমির কারণে বিছানার পাশে রাখা আপেলই তখন তার জন্য সহজ বিকল্প হয়ে ওঠে।
কঠোর ডায়েট নয়, ভারসাম্যেই গুরুত্ব
ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের মডেলদের খাদ্যাভ্যাসে পার্থক্য থাকলেও তাদের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—সবার জন্য একই ধরনের ডায়েট কার্যকর নয়। কেউ জৈব খাবারে গুরুত্ব দেন, কেউ পরিমিতি বজায় রাখেন, আবার কেউ শরীরচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করেন।
পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পুষ্টিকর খাবার, পরিমিতি ও নিজের শরীরের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রাখার কথাই উঠে এসেছে তাদের অভিজ্ঞতায়। তবে এসব ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস সবার জন্য উপযোগী—এমন নয়। সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাবার খাওয়া এবং শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়াই মূল কথা।









