রাজশাহীর খবর

বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপারে ট্রেন লাইনচ্যুত: রাজশাহী স্টেশনে আটকা হাজারো যাত্রী

নিউজ ডেস্ক২১ নভেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাশে একটি মালগাড়ী লাইনচ্যুতের ঘটনায় উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিনাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগ স্থবির হয়ে পড়েছে। রবিবার সকাল থেকে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে করে রাজশাহী স্টেশনে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়ে আছেন ঢাকায় যাওয়ার অপেক্ষায়।

 

  • আবার অপারেও রাজশাহী আসার জন্য হাজারো যাত্রী অপেক্ষা করছেন। কখন ট্রেন স্বাভাবিক হবে, তারপর এসব যাত্রী গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারবেন-এটা নিয়ে কোনো কিছুই এখন পর্যন্ত জানাতে পারছে না স্টেশন কর্তৃপক্ষ। ফলে যাত্রীদের মাঝে যেমন দুর্ভোগ নেমে এসেছে তেমনি নেমে এসেছে হতাশা।

 

রবিবার রাতে শীত উপেক্ষা করে ট্রেনের আশায় শত শত যাত্রী স্টেশনেই কাটিয়ে দিয়েছেন। তবুও ট্রেনের দেখা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত অনেকেই বাড়ি ফিরেছেন। আবার সকালের ট্রেন ধরতে গিয়েও একই সমস্যার মুখে পড়েন যাত্রীরা।

 

এদিকে সিরাজগঞ্জে লাইনচ্যুত হওয়ার সাড়ে ১৩ ঘণ্টা পর মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন ও ৬টি বগির উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত রেল সড়ক মেরামত চলছে।

 

মেরামত শেষে রবিবার দিনগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে গেছে। এর আগে রাত পৌনে ১টার দিকে বগি ও ইঞ্জিনের উদ্ধার কাজ শেষ হয়।

 

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা শওকত জামিল মহসী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

এর আগে রোববার সকাল ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড়ে ইকোপার্ক এলাকায় পার্বতীপুর থেকে ঢাকাগামী ওই মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন ও ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়।

 

বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঈশ্বদরী থেকে রিলিফ ট্রেন আসার পর উদ্ধারকাজ শুরু হয়ে। প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকাজ চলার পর পৌনে ১টার দিকে শেষ হয়।

 

অন্যদিকে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় সয়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুল গফুরকে বরখাস্ত এবং ঘটনার তদন্তে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খায়রুল আলম।

 

তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা শওকত জামিল মহসীকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, ডিভিশনাল মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার এ বি এম কামরুজ্জামান, ডিভিশনাল সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার আবু হেনা মোস্তফা আলম ও বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আসাদুল হক।

 

  • এদিকে রাজশাহী স্টেশনে আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে সুমাইয়া পারভীন নামের এক যাত্রী সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, তিনি আজ সোমবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটের ট্রেনে জরুরী প্রয়োজনে ঢাকা যাওয়ার জন্য রাজশাহী স্টেশনে আসেন। কিন্তু স্টেশনে আসার পরে জানতে পারেন ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। কখন নাগাদ ট্রেন চলাচল শুরু হবে তার কোনে ঠিক নাই। এরপর হতাশ হয়ে ফের বাড়ি চলে যান সুমাইয়া।

 

তার মতো এই রকম বিড়ম্বনায় পড়েন হাজারো যাত্রী। রবিবার রাতের ধূমকেতু ট্রেনটিও ঢাকায় যেতে না পারায় এ দুর্ভোগ কয়েক গুন বেড়েছে বলেও দাবি করেন যাত্রীরা। রবিবার দুপুরের পদ্মা, রাতের ধূমকেতু এবং আজ সোমবার সকালের সিল্কসিটি ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারেনি। এ নিয়ে হাজা হাজার যাত্রী ট্রেনের টিকিট কেটেও ঢাকায় যেতে পারেননি।

স/আর