ভ্রমণ

প্রায় ৪৩৭ বছরের পুরনো খেরুয়া মসজিদ ঘুরে দেখেছেন?

নিউজ ডেস্ক১৭ নভেম্বর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

প্রায় ৪৩৭ বছর আগে, ১৫৮২ সালে, মোগল স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে পূর্ব সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর মিলনে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খন্দকার টোলা এলাকায় নির্মিত হয় খেরুয়া মসজিদ। মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন জওহর আলী কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান কাকশাল। যদিও কিছু সূত্র আব্দুস সামাদ ফকিরকে নির্মাতা হিসেবে উল্লেখ করে, মসজিদের প্রধান গেটের শিলালিপিতে মির্জা মুরাদ খানের নাম দেখা যায়।

খেরুয়া মসজিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সমান আকারের তিনটি গম্বুজ।

মসজিদের আয়তন প্রায় ৫৯ শতক, যা মসজিদ ও চারপাশের দেয়ালসহ জমির পরিধি নির্দেশ করে। মসজিদে ৫টি খিলানযুক্ত দরজা রয়েছে। পূর্ব দিকে তিনটি, এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে। পশ্চিম দেয়ালে তিনটি কারুকার্যপূর্ণ মেহরাব রয়েছে।
মসজিদ নির্মাণে চুন, সুরকি ও বৃহৎ কৃষ্ণপাথর ব্যবহার করা হয়েছে; সিমেন্ট বা রড ব্যবহৃত হয়নি।
মসজিদের চারপাশে চারটি পিলার এবং উঁচু দেয়াল রয়েছে। পূর্বদিকে একটি ছোট লোহার গেট ব্যবহার করা হয়। মসজিদের সামনে একটি বড় খোলা মাঠ ও আব্দুস সামাদ ফকিরের কবর অবস্থিত।

মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও শুক্রবারের জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, একসাথে প্রায় ৯০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।
খেরুয়া মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দায়িত্বে আছেন আব্দুস সামাদ সাহেব, যিনি ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালন করছেন।

ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য:
ঢাকা থেকে খেরুয়া মসজিদ দূরত্ব: প্রায় ১৬৬ কিমি
বগুড়া থেকে: প্রায় ২৮ কিমি
শেরপুর সদর থেকে: প্রায় ১ কিমি
যাতায়াত: সিএনজি, রিকশা বা ভ্যানের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে পৌঁছানো যায়।
ঢাকা থেকে বগুড়া যাওয়ার জন্য বাস পরিষেবা আছে। বগুড়ায় থাকার জন্য হোটেল, মোটেল ও কটেজ সুবিধা রয়েছে।

খেরুয়া মসজিদ বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা শতাধিক বছরের ইতিহাস বহন করে আজও তার ঐতিহ্য এবং সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সূত্র : কুহুডাক