সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
দক্ষিণ জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যে অ্যাডলফ হিটলারের ঐতিহাসিক অবকাশকেন্দ্র কেলস্টাইনহাউসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ‘ঈগলের বাসা’ নামে পরিচিত এই ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে ট্রাউনস্টাইন এলাকার জরুরি সেবা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে ভবনটিতে আগুন লাগার খবর আসে। পরে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পান, পুরো ভবনটি আগুনে জ্বলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কারণে আগুন নেভানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। শনিবার ভোরেও আগুন জ্বলছিল।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০০ জন জরুরি সেবাকর্মীকে মোতায়েন করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বার্চটেসগ্যাডেন শহরের ওপরের পাহাড়ে অবস্থিত কেলস্টাইনহাউস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলার ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ব্যবহৃত কয়েকটি স্থাপনার একটি। নির্জন পাহাড়ি পরিবেশে অবস্থিত এই ভবনটি ঐতিহাসিকভাবে ‘ঈগলের বাসা’ নামে পরিচিত।
হিটলার ও তার শীর্ষ কর্মকর্তারা কাছাকাছি অবস্থিত বার্গহফ নামের বাসভবনটি ব্যবহার করতেন। ১৯৪১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে আক্রমণের পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এই বাসভবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পুরো এলাকাটি নাৎসি শাসনামলে হিটলারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
নিজেকে পশু ও প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে তুলে ধরতে হিটলার এই এলাকাকে প্রচারমূলক চলচ্চিত্রের পটভূমি হিসেবেও ব্যবহার করতেন। অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে আটক ব্যক্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
১৯৩৮ সালে নাৎসি শাসনামলে নির্মিত ‘ঈগলের বাসা’ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার (৫ হাজার ৯০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের পরাজয়ের পরও ভবনটি ধ্বংস করা হয়নি।
পরবর্তী সময়ে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। বর্তমানে সেখানে একটি পাহাড়ি সরাইখানাও রয়েছে। ভবনটির আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি ‘অমানবিক নাৎসি একনায়কতন্ত্রের অতল গহ্বরের একটি সতর্কতামূলক স্মারক’।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যাডলফ হিটলার ও তার অনুসারীরা ইউরোপীয় ইহুদিদের গণহত্যাসহ লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল। সমকামী, রোমা জনগোষ্ঠী (যাদের অনেক সময় জিপসি বলা হয়), প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘুকেও কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তাদের অনেককে হত্যা করা হয়।
হিটলারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ভবনগুলো সংরক্ষণ করা হবে, অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে, নাকি ভেঙে ফেলা হবে, এ নিয়ে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব ভবন সংরক্ষণের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, ভবনগুলো নব্য-নাৎসি ও উগ্র ডানপন্থী চরমপন্থীদের স্মৃতিস্তম্ভ কিংবা তীর্থস্থানে পরিণত হতে পারে।
জুন মাসে বার্লিন কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে, হিটলারের একটি বাঙ্কার ভেঙে সেখানে আবাসিক ফ্ল্যাট ও অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। ওই বাঙ্কারটিকে সে সময় ‘নাৎসি জার্মানির ক্ষমতার কেন্দ্র’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। তবে এ পরিকল্পনার সমালোচকেরা বলেছেন, বাঙ্কারটির উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।
তাদের মতে, এটি ভেঙে ফেলার পরিবর্তে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে সেখানে একটি জাদুঘর ও স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলা উচিত ছিল। এ ছাড়া জুলাই মাসে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রিয়ার কর্তৃপক্ষ ব্রাউনাউ আম ইন শহরে অ্যাডলফ হিটলারের জন্মস্থানটি সংস্কার করে পুলিশ স্টেশনে রূপান্তরিত করে।









