রাজশাহী

পিএন স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুললো শিক্ষার্থীরা

নিউজ ডেস্ক২২ আগস্ট ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অভ্যন্তরীন নানা অনিয়মের জের ধরে ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়েছে রাজশাহী নগরীর সরকারি পিএন স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

 

প্রাইভেট পড়ানোর প্রলোভন, পুরুষ শিক্ষকদের খারাপ মন্তব্য, শ্রেনীকক্ষে শিক্ষকদের পড়ানোতে অনীহা, নিন্মমানের খাবার পরিবেশন সহ নানা অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী সরকারী পিএন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও নীরব ভূমিকা পালন করেছে না।

 

অবশেষে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

 

সোমবার এমন অনেক অনিয়ম ও অসঙ্গতির কথা তুলে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে রাজশাহী পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেই অভিযোগের একটি কপি সিল্কসিটি নিউজের হাতে এসে পৌঁছেছে।

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগে বলা হয়, পড়াশোনার মান বাড়াতে গিয়ে শিক্ষা উপকরণ শিক্ষার্থীদেরই বহন করে নিয়ে যেতে হবে বলে দাবি করেছেন শিক্ষকরা।

 

14123538_1784092438546527_1402923294_o copy

‘স্বনামধন্য এই স্কুলে পড়াশোনার মান বাড়ানোর জন্য ব্লাকবোর্ডের পরিবর্তে হোয়াইট বোর্ড লাগানো হয়েছে। কিন্তু দু:খের বিষয় লেখার জন্য একটিও মার্কার পেন থাকেনা। বরং ছাত্রীদের বলা হয় তোমরা সাথে একটি করে মার্কার পেন রাখলেই পারো। একজন গণিতের শিক্ষক বলে মার্কার পেনই তো নাই কিভাবে অংক করাবো।’

 

স্কুল কর্তৃক নিন্মমানের এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনে রীতিমতো অতিষ্ট হয়ে উঠেছে ছাত্রীরা। আর এই বিষয়ে একের পর এক অভিযোগ দিয়ে কোন লাভ হয়নি বরং শুনতে হয়েছে অসঙ্গতি।

 

‘স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী যে খাবার স্কুল থেকে পরিবেশন করা হয় তা অধিকাংশ সময়েই বাসি থাকে এবং তা থেকে নানা পোকা বের হয়। অনেক সময় তেলাপোকা বের হয়। সিঙ্গারা ও পুরির আটার মানও ভালো নয়, সেগুলো থেকে অনেক সময় গন্ধ বের হয়। ডিমের চপে অনেক সময় খোসা বের হয়। প্রতিনিয়তই প্রতিটি খাবারে চুল পাওয়া যায়। এই ধরনের খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত হতে পারে।’

 

শিক্ষার্থীরা বলে, শিক্ষার্থীদের ব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিসের উপর ফি আদায় করার পরও নেই কোন পদক্ষেপ। এমনকি সব সময় বন্ধ থাকায় স্কুলের শিক্ষার্থী হয়েও কখনো স্কুলের লাইব্রেরীতে প্রবেশ করতে পারেনি বলে অভিযোগ ছাত্রীদের।

 

‘স্কুলের ময়লা ফেলার ঝুড়ি, বিদ্যূৎ বিল, শ্রেণিকক্ষ সাজানোসহ সকল ক্ষেত্রে চাঁদা আদায় করা হয়। প্রতিবছর ম্যাগাজিন ও লাইব্রেরী বাবদ টাকা নেওয়া হয় । কিন্তু এতো বছর ধরে স্কুলে পড়ে আমরা জীবনে একদিনও লাইব্রেরীতে প্রবেশ করতে পারিনি, তা সব সময়ই বন্ধ থাকে। আবার স্কুল থেকে ম্যাগাজিনও কখনও ছাপানো হয়না। এছাড়া বিশুদ্ধ পানি সংক্রান্ত সমস্যা তো প্রকট রয়েছেই। লাইট ফ্যানেরও কোন সুব্যবস্থা নেই। ’

 

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে নানা ভাবে অসাদাচরণ ও খারাপ মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে পুরুষ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। শ্রেণীকক্ষে না পড়িয়ে প্রাইভেট পড়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সেই সাথে স্কুলের নানা নিয়ম কানুনের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন শিক্ষকেরা।

 

‘পুরুষ শিক্ষকদের খারাপ মন্তব্য, শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের শ্রেণীকক্ষে পড়ানোর প্রতি অনীহা, প্রাইভেট পড়ানোর জন্য বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখানো,তাছাড়া বিভিন্ন নিয়ম কানুন ও বাজে মন্তব্য নিত্যদিনের ব্যাপার।’

 

অবশেষে কর্তৃপক্ষের যথাযথ দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রীরা বলেন, আপনারাই বলুন, এই স্বনামধন্য স্কুলে পড়ে আমাদের কি গর্ব করা উচিৎ না লজ্জা পাওয়া। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনারা একটু দৃষ্টি দিবেন কি? তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, তাহলে আামরা চির কৃতজ্ঞ থাকবো।

 

শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষিকার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করতে চাইলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স/শ