রাজশাহীর খবর

পশ্চিমাঞ্চল রেলের নিয়োগ পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁস

নিউজ ডেস্ক২৪ ডিসেম্বর ২০১৬৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে নেয়া হয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষা। আর সেই প্রশ্ন বিক্রি করা হয়েছে লাখ লাখ টাাকয়। শনিবার দুপুরে রেলের নিরাপত্তাবাহিনীর এএসআই পদে অনুৃষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার আগে ওই প্রশ্নপত্রসহ তার উত্তরও ফাঁস করে দেন এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তারা।

 

  • অভিযোগ পাওয়া গেছে, রেলের নিরাপত্তা বাহিনীর কতিপয় সদস্যসহ উর্ধতন একাধিক কর্মকর্তা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। টাকার বিনিময়ে এই চক্রটি বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর কাছে প্রশ্নপত্রের ফটোকপি সরবরাহ করেছে। তবে এবিষয়ে নির্বাচক কমিটির প্রধান ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হেড কোয়াটার্সের কমান্ড্যান্ট আশাবুল হক বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আমার জানা নেই। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দেখা হবে।

 

জানা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর এসিস্ট্যান্ট উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি (নং ৫৪. ০১.৮১০০.১৬২.০৪.১২২.১৬) প্রকাশ করা হয়।  একই বিজ্ঞপ্তিতে চারটি উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদ ও চারটি এএসআই পদেও জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। শনিবার সকালে এসআই পদের জন্য আর দুপুর আড়াই এএসআই পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

 

কিন্তু এএসআই পদে লিখিত পরীক্ষার অন্তত একদিন আগেই তার প্রশ্নপত্র এবং উত্তরও টাকার বিনিময়ে ফাঁস করে দেওয়া হয়। আর সেই প্রশ্নপত্রের পেছনে অন্তত কোটি টাকা হাত বদল হয়েছে বলে রেলের একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান।

 

তারা আরো জানান, সম্প্রতি রেলের প্রায় প্রতিটি পরীক্ষাতেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় এএসআই পদের নিয়োগ পরীক্ষার আগেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। একই প্রশ্নপত্র দিয়ে পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষাও নেয়া হয়েছে। কিন্তু গত ২১ ডিসেম্বর পশ্চিমাঞ্চলে রেলের প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ড্যান্ট (পাকশী) আব্দুস সালাম ও এসআই হাসান শিহাবুল ইসলামের নেতৃত্বে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পূর্বাঞ্চল কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

  • ওই টিমে আরো ছিলেন, হাবিলদার নুরুল আলম, সিপাহী শামীম পারভেজ ও সুমন হোসেন এবং নাসিম।  কিন্তু প্রশ্নপত্র রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাবার পথেই ফাঁস হয়েছে বলেও সূত্র জানায়। বিনিময়ে প্রার্থীদের কাছে  আড়াই লাখ টাকা করে নেয়া হয়েছে। হাবিলদার নুরুল আলম এই ঘটনার অন্যতম হোতা বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হাবিলদার নুরুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,  প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর এসআই হাসান শিহাবুল ইসলামের দাবি, সীলগালা করা অবস্থাতেই তারা প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

 
এদিকে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ও উত্তরের ফটোকপি সিল্কসিটি নিউজের হাতে আসে। এনিয়ে নির্বাচক কমিটির প্রধান ও নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট আশাবুল  হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে  বলেন, প্রশ্নপত্র যেভাবে তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয়েছে তাতে ফাঁসের কোনো ধরনেরই সুযোগ নেই। পরে এএসআই পদের পরীক্ষা শুরুর আধঘণ্টা আগে নিউ গর্ভমেন্ট ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পশ্চিমাঞ্চল রেলের সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার আবু তাহের মজুমদার এবং নিরাপত্তাবাহিনীর কমান্ড্যান্ট  রেজোয়ানুর রহমানকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ও উত্তরের ফটোকপির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো উত্তর দেননি।

 

  • তবে এএসআই পদের লিখিত পরীক্ষা শেষে দেখা যায়, আগে পাওয়া প্রশ্নপত্রের ফটোকপির সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে।  এতে মোট ৬০টি প্রশ্ন ছিল। সবক’টি প্রশ্নই মিলে গেছে। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা চাকরিপ্রার্থীরা জানতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আসা চাকরিপ্রার্থী তন্ময় আহমেদ, বগুড়ার গাবতলী থেকে আসার  আশরাফুল ইসলাম ও রংপুরের কাউনিয়ার আতিয়ার রহমান সিল্কসিটি নিউজকে জানান, তারা পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের পর দেখেন আশেপাশে কয়েকজন প্রার্থী গোপনে খুব পড়াশোনা করছিল। তাদের পড়াশোনার ধরন দেখেই সন্দেহ হয়েছিল যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে নাকি। পরীক্ষাকেন্দ্রে থেকে বেরিয়েই তারা জানতে পারেন প্রশ্ন ফাঁসের কথা। এসময় তারা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়াসহ এই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলেরও দাবি জানান।

 

অন্যদিকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে নির্বাচক কমিটির প্রধান ও নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট আশাবুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ অভিযোগ করলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/আর