রাজশাহীর খবর

পবার তিন শিক্ষককের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নিলেন বিতর্কিত ডিপিইও

নিউজ ডেস্ক২১ ডিসেম্বর ২০১৬৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর পবা উপজেলায় নানা অভিযোগে প্রাইমারী স্কুলের তিনজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও শোকজ করা হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) আবুল কাশেম এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন।শিক্ষকদের হয়রানির উদ্দেশ্যে ও তাদের নিকট থেকে উৎকোচের আশায় এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে।

 

এ ঘটনা নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সরকার দলীয় এমপি আয়েন উদ্দিন। বুধবার মোবাইল ফোনে তাদের রীতিমতো বাকযুদ্ধ হয়েছে।

 

এমপি আয়েন উদ্দিন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার পবা উপজেলার পুরস্কারপ্রাপ্ত ও জনপ্রিয় তিনজন শিক্ষককে অন্যায়ভাবে সাসপেন্ড করায় তাদের বিষয়ে আমি ফোনে কথা বলছিলাম। কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে বলেছেন, ওই শিক্ষকদের বেতন আমি দিই না আপনি দেন। তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে আমি হতবাক। দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির করে যাচ্ছেন ডিপিইও। প্রচুর টাকা ঘুষের মাধ্যমে কামাই করেছেন। অভিজাত এলাকা পদ্মা আবাসিকে ১০তলা বাড়ি বানাচ্ছেন।  তার দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ শিক্ষকরা। কিন্তু আতঙ্কে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না’।

 
তবে জেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, ‘এতদিন তার তদবিরে আমি তারই ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজনদের সুবিধামতো স্কুলে বদলী করে দিয়েছে। তখন তিনি আমাকে ভাই ভাই করতেন। আর এখন আমার সাথে চাকরের মতো আচরণ করছেন। একজন মাননীয় সংসদ সদস্যের যে ভাষায় কথা বলা উচিত তাতে তিনি ন্যুনতম শিষ্টাচার রেখে কথা বলেননি। অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় আমাকে গালি গালাজ করেছেন। তাঁর ভাষা এতই খারাপ ছিল যে, ওই ভাষায় আমাদের চাকরও কথা বলে না। অনেক আজেবাজে কথা বলেছেন। তবে তাঁর মনে রাখা উচিত আমরা তাঁদের চাকর না।’

 
জানা গেছে, রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে (স্মারক নং: জেপ্রাশিঅ/রাজ:/২০১৬/২৬০১(৫) গত ৮ডিসেম্বর পবা উপজেলার কয়ড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই আদেশে বলা হয়েছে, আব্দুস সামাদেও বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে শিষ্টাচার বহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, আর্থিক অনিয়ম এবং কতর্ব্যে চরম অবহেলা করার কারণে গঠিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারী কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

 
তবে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক আব্দুস সামাদ অভিযোগ করে বলেন, গত ৮ডিসেম্বর আকস্মিকভাবে অঅমার স্কুল পরিদর্শন করেন ডিপিইও। এসময় তিনি আমাকে খাঁজাখোর বলে গালি দেন। এর প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। পরে ওইদিনই সন্ধ্যায় স্কুলের অন্য শিক্ষকদেও তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ লিখিয়ে নেন।

 

পবা উপজেলার পারিলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামকেও একই অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন জেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

 

তবে রবিউল ইসলাম বলেন, আমি একটি অনুষ্ঠানে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে গত ১৪ডিসেম্বর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ডাকে প্রশিক্ষক ছিলাম। কিন্তু ওইদিন স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে আমাকে না পেয়ে ডিপিইও সাহেব ফোনে কওে স্কুলে ডেকে নেন। পরে আমাকে গালিগালাজ করে চলে যায়। এরপরই সাময়িক বরখাস্তের চিঠি পাঠানো হয়।

 
এদিকে একইদিন পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলার খড়খড়ি সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমানকে তাৎক্ষণিক হাজির পাননি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেম। পরে তাকে শোকজ করা হয়।

 

তবে সাইদুর রহমানের দাবি, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে ওই সময় তিনি শিক্ষকদের জন্য নাস্তা কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে শোকজের পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মহসিন ডিপিইওর নামে ১০হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিলে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না বলেও জানায় মহসিন। কিন্তু টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকেও হয়রানি করা হচ্ছে।

 
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন।

 

প্রসঙ্গত, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে এর আগে শিক্ষকদের বদলি বিণিজ্য ও প্রাইমারীর বৃত্তি পরীক্ষায় অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠে। বৃত্তি পরীক্ষায় অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করে তদন্ত দল। কিন্তু এখনো তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

স/আর