নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত যুবকের পরিচয় রোববার বিকেল পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
- তবে নিহতের পরণে থাকা পাঞ্জাবি এবং ট্রাউজার দেখে বুঝে নিতে হবে সে কে? সাংবাদিকদের দিকেই এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার জিহাদি বই, পোশাক, ককটেল, বিদেশি পিস্তল ও ধারালো অস্ত্র দেখে ধারণা করা হচ্ছে তিনি কোনো জঙ্গি সংগঠনের সদস্য।’
রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ সুপার এতটুকুই তথ্য দিতে পারেন সাংবাদিকদের কাছে।
- ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলাকালে জেলা পুলিশের ছয়জন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার বিভিন্ন অস্ত্র ও ককটেলের কথাও জানান পুলিশ সুপার।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ জানতে পারে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া জোয়ানবাগ (উত্তরপাড়া) গ্রামের সুমনের আম বাগানে কিছু দুস্কৃতকারি জড়ো হয়েছে। তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছে।
এর পর শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ ও বাগমারা থানা পুলিশ যৌথভাবে ওই বাগানে অভিযান চালায়। এ সময় দুস্কৃতকারিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ককটেল নিক্ষেপ ও গুলি বর্ষণ করতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি চালায়। এতে সন্ত্রাসীরা পিছু হঠতে বাধ্য হয়।
- পরে বাগানে তল্লাশী চালিয়ে আনুমানিক ৩৪ বছর বয়সের অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পুলিশের একটি দল তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু রামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে অপর একটি দল ওই বাগানে তল্লাশী চালায়। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, একটি গুলির খোসা, দুই রাউন্ড গুলি, ১৪ ইঞ্চি দুটি ছোরা ও একটি চাপাতি, বিভিন্ন ধরণের ১০টি জিহাদী বই ও ব্যবহৃত পোশাক, ১৩টি ককটেল, চারটি হাঁসুয়া এবং একটি রামদা উদ্ধার করে।
- তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নিহত ওই ব্যক্তি জেএমবি সদস্য। তবে বর্তমানে তারা তার পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা করছেন।
পুলিশের কাছে থাকা সন্ত্রাসী, দুস্কৃতকারি ও জঙ্গিদের তালিকায় নিহতের পরিচয় খোঁজা হচ্ছে। আর আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনকে আসামি করে বাগমারা থানায় মামলা করা হবে বলেও জানান রাজশাহীর পুলিশ সুপার।
এর আগে রাজশাহীর বাগমারায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই ব্যক্তি নিহত হন।
স/আর









