নওগাঁ প্রতিনিধি :
৬টি পদে নিয়োগ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ত্রিমোহনী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ভেঙ্গে পড়ার দারপ্রান্তে । এ নিয়ে ১০ বছর আগে শুরু হওয়া অভ্যন্তরিন কোন্দল এখনো মেটেনি। শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ অপরাজনীতি ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ নিয়ে রশি টানাটানি নিয়ে নাটকিয়তার শেষই হচ্ছেই না যেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে. রাণীনগর উপজেলার অদুরে ১৯৮৬সালে প্রতিষ্ঠিত ত্রিমোহনী উচ্চ বিদ্যালয়টি নানা প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়ে একসময় এলাকার সুনাম বয়ে আনে। ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বারা বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়। এরপর ২০২৩ সাল পর্যন্ত দয়ারাম সাহা পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে প্রধান শিক্ষক থাকলেও তৎকালীন আ’লীগের নেতাদের খবরদারির বাহিরে কোন নড়াচড়া করতে পারেননি।

২০১৫সালের পর পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক, অফিস সহায়ক, নৈশ্য প্রহরী, আয়া, নিরাপত্তাকর্মীর নতুন ছয়টি পদে সৃষ্ট হলে নিয়োগের বিপরীতে শুরু হয় ঘুষ বাণিজ্যের মচ্ছোব। আর তখন থেকেই নিজেদের মতো করে পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে তৎকালীন এমপিদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ দ্বদ্ব বছরের পর বছর চলে আসছে।
প্রধান শিক্ষক দয়ারাম সাহা অবসর গ্রহণে পর শহিদুল ইসলাম নামের একজন জুনিয়র সহকারী শিক্ষককে দিয়ে প্রায় দেড় বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করানো হয়। তবে ৫ আগষ্টের পর থেকে সিনিয়র শিক্ষক মো: আব্দুল মোত্তালিব ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর এডহক কমিটি গঠন হয়। এর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হলে আবারো নিজেদের মতো করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ শুরু হলে নানা অনিয়ম, নাটকিয়তা ও কোন্দলের কারণে সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছে। ভারপ্রাপ্তের ভারে নূয়ে পড়া, অপরাজনীতি ও অভ্যন্তরিন কোন্দলের রাহুগ্রাসের কবলে পড়ায় বিদ্যালয়ের সার্বিক ভাবমূর্তি ও পাঠদানের পরিবেশ নষ্টসহ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অভিভাবকরা।
অভিভাবক, এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, একজন দায়িত্ববান প্রধান শিক্ষকসহ সৃষ্ট ৬টি পদে নিয়োগের মাধ্যমে সকল দ্বন্দের অবসান হওয়া জরুরী। তাহলেই সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আসবে।
জানতে চাইলে জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান বলছেন, অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অচল অবস্থার কথা ডিসি স্যারকে অবগত করা হয়েছে। স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক দ্রæতই পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।
স.আর









