নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা ও পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় আরএমপির সদর দপ্তরের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

সভায় রাসিক প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের রাজশাহী শাখার নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের রাজশাহী শাখার সভাপতি অচিন্ত কুমার বিশ্বাস প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান।
এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য এনসিপির নেতাকর্মীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের মহানগর নেতারা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রেখে পূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামীর মহানগর সাংগঠনিক সেক্রেটারি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনে জামায়াতে ইসলামী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবারও শহরের বিভিন্ন মণ্ডপে তাদের পক্ষ থেকে ৩০টি স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত থাকবে বলে জানান তিনি।
বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজামণ্ডপ কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিএনপির পক্ষ থেকেও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হবে বলে জানান তিনি।
রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। নিরাপত্তা, সিসিটিভি ক্যামেরা, সার্চলাইট ও আলোকসজ্জার পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। পূজা ও প্রতিমা বিসর্জনের দিন বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জা নিশ্চিত করতে নেসকোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে উৎসব উদ্যাপনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপ কমিটিগুলোকে অভ্যন্তরীণ বিভেদ এড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, মহানগরীর প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা, পূজামণ্ডপ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক ও রাজনৈতিক সহায়তা দলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ও মোবাইল নম্বরের তালিকা পুলিশকে দিতে হবে।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, মণ্ডপের আশপাশে কোনো অবৈধ দোকানপাট বা হকার বসতে দেওয়া যাবে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং মোকাবিলায় প্রতিটি মণ্ডপে বিকল্প জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে আলোর জন্য ৫ থেকে ৭টি চার্জিং বাল্ব প্রস্তুত রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
প্রতিমা বিসর্জনের সময় অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রয়োজনে সিরিয়াল বা টোকেন ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেন পুলিশ কমিশনার। নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি মেনে বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ সময় আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য স্থানে মদ বা যেকোনো ধরনের মাদক সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পূজামণ্ডপের বাইরে মাদককে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অপরাধের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, পূজামণ্ডপ নির্মাণের সময় থেকে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা ও নজরদারি থাকবে। মহানগরীর বাইরে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতা নেওয়া হবে।
সভায় টুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, পিবিআই, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, এসআরবি-৫, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও নেসকোর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ইসলামী ফাউন্ডেশন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো. গোলাম রব্বানী শেখ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমানসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।









