সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনের ফাঁকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তন, রাজনৈতিক সংস্কার, বিদেশি বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক ইস্যুগুলো আলোচনায় এসেছে।

এদিন জার্মান চ্যান্সেলর, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনারসহ বেশ কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজের সঙ্গে আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরিতে সমর্থন চান।
এ ছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এই উত্তরণ প্রক্রিয়ায় জার্মান সরকার সর্বাত্মক সহায়তা করবে বলে আশ্বাস দেন দেশটির চ্যান্সেলর।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরিতে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে তিনি একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করেছেন। ছয়টি প্রধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই কমিশন কাজ করছে।
এ ছাড়া ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে গ্লোবাল সাউথের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানিয়েছে বাসস।
তা ছাড়া বাংলাদেশ থেকে চুরি যাওয়া শত শত বিলিয়ন ডলারের অর্থ ফেরত আনতে বিদেশি বন্ধুদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জার্মান মন্ত্রী ওলফগ্যাং শমিডকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রচেষ্টার বিষয়ে অবহিত করেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি অ্যাসেট রিকভারি কমিটি ও টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে শীর্ষ ২০ মানি লন্ডারারের সম্পদ উদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জার্মান মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা যখন নতুন বাংলাদেশের কথা বলি, তখন পরিষ্কার বাংলাদেশের কথাও বলি।’ তিনি জার্মানির সহযোগিতা কামনা করেন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন।
জার্মান মন্ত্রী জানান, একটি নতুন জার্মান ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল এপ্রিলে বাংলাদেশ সফর করবে।
সুইস ফেডারেল কাউন্সিলর ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গে বৈঠকে জলবায়ু অর্থায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ড. ইউনূস বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে কার্বন সংরক্ষণ উদ্যোগে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা কামনা করেন।
সূত্র: কালের কণ্ঠ









