নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
সমিতির নেতৃত্ব দখলকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ দলিল লেখকরা।
অভিযোগ উঠেছে, বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও তাঁর অনুসারীরা দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্বে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে সমিতির বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের অনুসারীদের বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষের।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হাবিবা আহ্বায়ক কমিটির সুপারিশ করছেজেলা বিএনপির আহবায়ক ও চারঘাট বাঘার সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাদ । সমিতির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
তবে মুঠোফোনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হাবিবাকে কমিটির সুপারিশের বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে উনি বলেন জিয়া ও তাহেরপুর এর সাবেক মেয়র মিন্টু ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাক। আমার কাছে এসে একটি প্যাডে সিগনেচার করে নাই তখন আমি বিষয়টা বুঝতে পারেনি যখন জানলাম এটি বাগমারা সমিতির নির্বাচনের কমিটির জন্যসুপারিশ নিয়েছে। তারপরে দুই পক্ষের যখন উত্তেজনার কথা শুনলামআমি সাথে সাথেই ফোন করা হয়, অনেকেই আমার কাগজটি ফেরত দেয়ার অনুরোধ করি তবে এখন পর্যন্ত তারা আমার কাগজটি ফেরত দেয়নি। আমি এই আহ্বায়ক কমিটির পক্ষে নয় আমাকে ভুল বুঝিয়ে সুপারিশ করে নিয়েছে। এরই মধ্যে একটি পক্ষের পছন্দের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে যুবদলের নেতাকে আনার চেষ্টা চলছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সমিতির সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, লিটনের বিরুদ্ধে মাদক মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্ব শুধু সাংগঠনিক বিষয় নয়; জমি নিবন্ধনকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে সমিতির কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে তা দ্রুত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দলিল লেখক সমিতির বাঁধাগ্রস্ত করার কারণে এর আগে সাবেক মেয়র এর বাসাতে নিজেরাই বোমা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।এমন সহ আমাদের হাতে রয়েছে।
এদিকে প্রভাবশালী নেতা বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ও জাতীয় নির্বাচনে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) বিএনপি’র রাত্রি হিসেবে সে ভোট করেছে।
সমিতির একাধিক দলিল লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সমিতির নেতৃত্ব নিয়ে বাইরে থেকে
রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। আমরা চাই সমিতির নেতৃত্ব দলিল লেখকদের সিদ্ধান্ত ও নিয়ম অনুযায়ী হোক।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রভাবশালী নেতার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সাধারণ দলিল লেখকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—একটি পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গ্রহণযোগ্য এবং কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা গুরুতর অভিযোগ থাকলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার ক্ষেত্রে এটি ভুল সিদ্ধান্ত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই একই সঙ্গে দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্ব নির্বাচন বা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে লিখিত বিধিমালা,
সদস্যদের মতামত এবং সংগঠনের বৈধ প্রক্রিয়া ও যাচাই-বাছাই করা উচিত। আর আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তহিদুল ইসলাম বলেন : আমরা আইনশৃঙ্খলা রাখতে প্রস্তুত আছি কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।উত্তেজনার মুহূর্তে উভয়পক্ষ নির্বাচনের জন্য মুহুরি প্রভাষ চন্দ্র সরকার কে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।









