আন্তর্জাতিক

টাইম বোমার মতো টিকটিক শব্দে বাজছে পাকিস্তানের জনসংখ্যা

নিউজ ডেস্ক১৫ অক্টোবর ২০২৬৮ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

পাকিস্তানে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছালেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না।

এতে তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির কর্মকর্তারা ও বিশেষজ্ঞরা।
জুলাইয়ের শেষ দিকে ইসলামাবাদে ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের এক সমাবেশে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, তরুণেরা একজোট হলে বড় পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তাই মেধার ভিত্তিতে তাদের চাকরি ও কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের বর্তমান ব্যবস্থা ও অর্থনীতি সংকটের মুখে রয়েছে।
প্রতি বছর পাকিস্তানে আনুষ্ঠানিক খাতে যত কর্মসংস্থান তৈরি হয়, তার চেয়ে অন্তত ১০ লাখ বেশি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছায়। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৪০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। অথচ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনের তুলনায় কম বিনিয়োগের কারণে বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করা কঠিন হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক তরুণ উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছাড়ছেন। অন্যদিকে দেশে থাকা তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ায় প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কাও বাড়ছে। সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে হাজারো মানুষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ সরকারি ঋণ, মূল্যস্ফীতি, কম মজুরি এবং ব্যবসায়িক জটিলতা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটকে আরো গভীর করছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সহজে ঋণ না পাওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পাকিস্তানে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ টোবিয়াস হকের মতে, যথাযথ অর্থনৈতিক সংস্কার ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেশটির জন্য সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। অন্যথায় এই চাপ সামলানো কঠিন হবে।

পাকিস্তানে শিক্ষার সংকট, মান বাড়াতে এআইনির্ভর প্রশিক্ষণ

পাকিস্তানে শিক্ষার মান উন্নয়ন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষকের ঘাটতি, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং শিক্ষা খাতে কম বিনিয়োগের কারণে বিপুলসংখ্যক শিশু মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের পাঠদানের দক্ষতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রশিক্ষণ চালু করেছে দেশটির সিন্ধ প্রদেশ।

দক্ষিণ পাকিস্তানের হায়দ্রাবাদ শহরের একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ান ৩০ বছর বয়সী শিক্ষিকা রিদা মেমন। ক্লাস শেষে তিনি ‘রুমি’ নামের একটি এআইভিত্তিক প্রশিক্ষণ টুল ব্যবহার করেন। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত এই টুলটি তার পাঠদানের মূল্যায়ন করে এবং কোথায় উন্নতি করা দরকার, সে বিষয়ে পরামর্শ দেয়।

শিক্ষা প্রযুক্তিবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা তালিমাবাদ এই টুল তৈরি করেছে। সিন্ধ প্রদেশে পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহার করছেন প্রায় দুই ডজন শিক্ষক। কর্তৃপক্ষের আশা, এই উদ্যোগ শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়িয়ে শিক্ষার মান উন্নত করতে সহায়তা করবে। তবে পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থায় সংকট গভীর।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির ৭৭ শতাংশ শিশু ১০ বছর বয়সেও বয়স উপযোগী লেখা পড়তে পারে না। সিন্ধের অনেক স্কুলে বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধাও নেই।

শিক্ষা খাতে অর্থের সংকটও প্রকট। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানে শিক্ষার মোট ব্যয় ২৮৯ বিলিয়ন রুপি কমে ৯৬২ বিলিয়ন রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশই ব্যয় হয় শিক্ষকদের বেতন ও পেনশন দিতে। ফলে স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য অর্থের পরিমাণ সীমিত থাকছে।

এদিকে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে স্কুলের চাহিদাও বাড়ছে। পপুলেশন কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বছরে ২ শতাংশে নামলেও ২০৪০ সালের মধ্যে পাকিস্তানে অন্তত ৫৫ হাজার নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করতে হবে।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে এআই প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও, বিশেষজ্ঞদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রযুক্তির পাশাপাশি পর্যাপ্ত অর্থায়ন, স্কুলের অবকাঠামো এবং শিক্ষার মৌলিক সুযোগ নিশ্চিত করা।

পাকিস্তানে অপুষ্টিতে ভুগছে শিশুরা, বাড়ছে খাদ্যসংকট

পাকিস্তানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার পর্যাপ্ত খাবার কিনতে পারছে না। এতে শিশুদের অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোর শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

করাচির জান্নাত গুল হাসপাতালে ১০ মাস বয়সী মেয়ে আমিনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে নিয়ে যান ২০ বছর বয়সী মা ফারজানা মুসা খান। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির বাহুর পরিধি মাত্র ১১ সেন্টিমিটার, যা তীব্র অপুষ্টির লক্ষণ।

ফারজানা জানান, তাঁর স্বামী দিনমজুরের কাজ করে দৈনিক প্রায় ৬০০ রুপি আয় করেন। এই আয়ে পরিবারের খরচ চালানো কঠিন। তাই গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফল, শাকসবজি ও মাংস খাওয়াও তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে মাঝারি ও গুরুতর খাদ্যসংকটে থাকা পরিবারের হার ২০১৯ সালের ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৪ শতাংশ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শৈশবে অপুষ্টি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। এর প্রভাব পড়ে শিক্ষা, কর্মদক্ষতা ও ভবিষ্যৎ আয়ের ওপর।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাকিস্তান সরকার শিশুদের জীবনের প্রথম এক হাজার দিনে পুষ্টিকর খাবার ও নগদ সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে দারিদ্র্য, খাদ্যের উচ্চমূল্য ও মেয়েদের শিক্ষার সীমিত সুযোগ শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

পাকিস্তানে লোকসানে কৃষিকাজ, শহরে পাড়ি দিচ্ছেন তরুণেরা

পাকিস্তানে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, ফসলের ক্ষতি ও ঋণের চাপে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। গ্রামাঞ্চলে আয়ের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক তরুণ জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী হচ্ছেন।

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের তান্দো আল্লাহয়ার এলাকার ২৮ বছর বয়সী কৃষক নানক রাম তার বাবার সঙ্গে কলা ও আম চাষ করেন। তবে ঋণের বোঝা, খারাপ আবহাওয়া, ফসলের রোগ এবং ডিজেল ও বীজের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের আর্থিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। ২০২২ সালের বন্যায় হওয়া ক্ষতিও তারা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

পরিবারের আর্থিক অবস্থা সামাল দিতে নানক রাম এবার করাচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার বৈদ্যুতিক প্রকৌশলে ডিগ্রি থাকলেও এখনো চাকরি পাননি। তিনি বলেন, চাকরির জন্য যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না।

পাকিস্তানের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির গ্রামাঞ্চলের ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে ছিলেন, যা ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশটির মোট কর্মশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল।

এআই দিয়ে ভিডিও বানিয়ে মাসে ৬০০ ডলার আয় পাকিস্তানি তরুণের

পাকিস্তানে কাজের সুযোগ কম থাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অনলাইনে আয়ের পথ খুঁজে নিয়েছেন ২১ বছর বয়সী মুহাম্মদ ফুরকান। ইউটিউবের জন্য ভিডিও তৈরি করে তিনি মাসে প্রায় ৬০০ ডলার আয় করছেন।

ফুরকান ও তার চাচাতো ভাই সালমান কেরিও চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও অন্যান্য এআই টুল ব্যবহার করে ইসলামি ও পাকিস্তানের ইতিহাসভিত্তিক উর্দু ভিডিও তৈরি করেন।

দুই বছর আগে কাজের সন্ধানে সিন্ধু প্রদেশের নিজ শহর ছেড়ে করাচিতে আসেন ফুরকান। আগে একটি দোকানে কাজ করে সপ্তাহে মাত্র ৫০০ রুপি আয় করতেন তিনি। এখন অনলাইন আয় দিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে চান।

ভবিষ্যতে নিজের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এলাকার অন্য তরুণদেরও চাকরি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, তাঁর গ্রামে কাজের সুযোগ খুবই কম।

পাকিস্তানে তরুণদের আন্দোলন দমনে কঠোর সরকার

পাকিস্তানে তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষ ও প্রতিবাদ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হলেও পরিবর্তনের দাবি থামানো যাচ্ছে না।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক হাজারো রাজনৈতিক কর্মী ও নাগরিক সমাজের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সামরিক বাহিনীর সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও তার স্বামীকেও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইন এবং সরকারি চাপের কারণে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামরিক বাহিনীর সমালোচনা কমেছে। তবে এতে তরুণদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিবাদের আগ্রহ কমেনি।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভার্সো কনসালটিংয়ের পরিচালক আজিমা চিমা বলেন, তরুণেরা নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ইমরান খানের সমর্থক ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নেতা ২৫ বছর বয়সী ওয়াসিম খান তানোলি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দুইবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবু ইমরান খানের দল আন্দোলনের ডাক দিলে আবারও রাস্তায় নামবেন বলে জানান তিনি।

ওয়াসিম বলেন, ‘কেউ আমাদের কথা শুনছে না। রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। নিজেদের ভবিষ্যৎ আমাদেরই নির্ধারণ করতে হবে।’

উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছাড়তে চান পাকিস্তানের তরুণেরা

পাকিস্তানে বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থানের অভাব ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছাড়তে চান অনেক তরুণ। তাদের একজন আবদুল সামাদ। বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েও তিনি লেয়াহ শহরের একটি কল সেন্টারে মাসে মাত্র ৪০ হাজার রুপি বেতনে কাজ করছেন।

২০২৪ সালে একটি রেস্তোরাঁ চালু করতে ২০ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন সামাদ। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ও বাড়তি খরচের কারণে ব্যবসাটি টিকিয়ে রাখতে পারেননি। এখন ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার জন্য ভিসার খরচ জোগাড় করছেন তিনি। এ জন্য তাঁর মা নিজের বিয়ের গয়নাও বন্ধক রেখেছেন।

সামাদ বলেন, ‘এখানে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নেই। এখন সবকিছুর দাম অনেক বেশি।’ তিনি প্রথমে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তার লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত ইউরোপে যাওয়া।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাত লাখের বেশি পাকিস্তানি বৈধ পথে কাজের জন্য বিদেশে গেছেন। তাদের অধিকাংশই উপসাগরীয় দেশগুলোতে নির্মাণ ও সেবাখাতে কাজ করেন। একই সময়ে চিকিৎসক ও প্রকৌশলীর মতো উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীরাও দেশ ছেড়েছেন।

বিদেশে থাকা পাকিস্তানিরা দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠান। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার নয়, বরং ৪১৬০ কোটি ডলার (৪১.৬ বিলিয়ন ডলার)। এই অর্থ পাকিস্তানের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, বিদেশে কর্মসংস্থানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাড়লে দেশটি দক্ষ ও মেধাবী কর্মী হারাতে পারে।

সামাদের দেশ ছাড়ার আরেকটি কারণ রাজনৈতিক পরিবেশ। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক রসিকতা করাও বন্ধ করে দিয়েছেন। কারাবন্দি হওয়ার ভয়ও তাঁকে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করছে।