জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
উড়ো চিঠি দিয়ে জয়পুরহাটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহিম এবং ৪০জন আইনজীবিসহ উর্দ্ধতন সরকারি কর্মকর্তাদের হত্যা করা হবে, কাফনের কাপড় পাঠিয়ে এমন হুমকি দিয়েছে দুবৃত্তরা। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা উড়িয়ে দেওয়াসহ হাইড্রোজেন বোমা ও আত্মঘাতি হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। গতকাল বুধবার ডাক যোগে চিঠিতে জেলা জজকে এ হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, মোঃ রহিম, থানায় সাধারন ডায়েরী করিয়া লাভ নেই। থানার পুলিশ কোনদিন নিরাপত্তা দিতে পারিবেনা। পুলিশকে আমরা মুল্য দেইনা। পুলিশের কোন উন্নত প্রশিক্ষণ নেই। জয়পুরহাটে যে কয়টা পুলিশ আছে তাহা ধুলার মত উড়ে দিব। আপনি অতি শীঘ্রই বদলী হইয়া অন্যত্র চলে যান তাছাড়া রক্ষা পাবেননা।
জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে জানান, ঘটনা যাই হোক না কেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহিম জয়পুরহাট সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন, যার নম্বর-৫৪০।
হাতে লেখা ওই চিঠিতে জয়পুরহাটের আদালত ভবন, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, এডিশনাল আদালত, পারিবারিক জজ আদালত, বার সমিতি, ডিসি অফিস, পুলিশ লাইন, র্যাব অফিস, বিজিবি ক্যাম্প, থানা, আওয়াীলীগ অফিস, শিক্ষা অফিস, মন্দির, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, হোটেল রেস্তোরা সহ বেশ কিছু সরকারী ভবন হাইড্রোজেন বোমা ও আত্মঘাতি হামলায় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া নারী বিচারক, ৪০জন আইনজীবি সহ জেলার বেশ কিছু উর্দ্ধতন সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যা করা হবে বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ জুলাই ডাক যোগে একই ধরনের হুমকী দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল সেসময় প্রশাসন জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করেছিল।
জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল জানান, ২০০৩ সালে কালাই উপজেলার বেগুনগ্রাম পীরের আস্তানায় ৫ খাদেমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল সেই মামলার বিচার কাজ চলছিল আদালতে এসময় বিচারককে চিঠিতে হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চিঠিতে ঢাকার কল্যানপুরে তাদের ৯ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয় হাইড্রোজেন বোমা এবং আকাশ পথে হামলা করা হবে। তবে এ ধরনের হুমকি নিছক পেনিক সৃষ্টি করার জন্য করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান চিঠির বিষয়টির গুরুত্ব খতিয়ে দেখছে পুলিশ এখনই কিছু বলা যাবেনা তবে পুলিশ যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত আছে।
এদিকে উড়ো চিঠিতে জেলার সর্বত্রই আতংক বিরাজ করছে। বিশেষ করে হিন্দু, খ্রীষ্টান পল্লী এবং গীর্জা ও মন্দিরগুলোতে বিশেষ আতংকে রয়েছে তারা।
স/শ









