জাতীয়

জলবায়ু সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর কাছে সহযোগিতা পৌঁছানোর দাবি

নিউজ ডেস্ক১৫ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় নতুন প্রতিশ্রুতির চেয়ে বিদ্যমান অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন এবং নারী কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

তারা বলেছেন, জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে অর্থায়ন পৌঁছাতে হবে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর নতুন ঋণের বোঝা না চাপিয়ে অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত অর্থ, প্রযুক্তি ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কপ-৩১ ও বাংলাদেশের অগ্রাধিকার : জলবায়ু সংকট, কৃষি ও নারী; অভিযোজন, অর্থায়ন ও ন্যায্যতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব দাবি জানান।

ইক্যুইটিবিডি, বাংলাদেশ ক্লাইমেট জার্নালিস্ট ফোরাম (বিসিজেএফ), কোস্ট ফাউন্ডেশন, আভাস, বিন্দু ও স্ট্রিট চাইল্ডের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধান এম এ হাসান।

তিনি বলেন, কপ-৩১-কে জলবায়ু অর্থায়নে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

অভিযোজনের অগ্রগতি নির্ধারণ ও মূল্যায়নে যাদের জন্য এসব উদ্যোগ, সেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে অর্থবহভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।
আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজলের সভাপতিত্বে সেমিনারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইংয়ের প্রধান বীজ প্রযুক্তিবিদ ড. মো. আক্তার হোসাইন খান বলেন, জলবায়ু সহনশীল বীজ উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সরকার এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। স্থানীয় সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে সরকার ছোট আকারের হিমাগার স্থাপনে পদক্ষেপ নিতে পারে।

 

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে নারী কৃষকের উৎপাদন ও আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সুপেয় পানি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সংকট বাড়ছে। তাই নারী কৃষককে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র উৎপাদনকারী ও অর্থনৈতিক অংশীজন হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। কার্বন ট্রেডিংয়ের নামে উন্নত দেশগুলোকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ইক্যুইটিবিডির সমন্বয়ক সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, কপে জলবায়ু অর্থায়নের অন্তত ৫০ শতাংশ অভিযোজন খাতে নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদার ভিত্তিতে অর্থায়ন এবং অভিযোজন কার্যক্রমের সফল উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

নারী কৃষকের জন্য বরাদ্দ ও তার কার্যকর ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আহসানুল ওয়াহেদ বিনিয়োগভিত্তিক অর্থায়নের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের ওপর জোর দেন। কৃষি অভিযোজনের অর্থায়নের কত অংশ নারী কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি উৎপাদন, আয়, সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমের বোঝায় পরিবর্তন মূল্যায়নের দাবি জানান তিনি।

 

স্ট্রিট চাইল্ড বাংলাদেশের টিম লিডার ইমতিয়াজ হৃদয় বলেন, নীতিমালায় নারী কৃষকের স্বতন্ত্র পরিচয় ও অধিকার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় নারী কৃষকদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে হবে। ঐতিহাসিক দায় অনুযায়ী উন্নত দেশগুলোর অর্থায়ন, উপকূলীয় নারীদের অধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জলবায়ু নীতিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন অ্যাডাবের নির্বাহী পরিচালক একেএম জসিমউদ্দিন, গ্রিন ভয়েসের নির্বাহী প্রধান হুমায়ুন কবির সুমন, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, বিসিজেএফের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, কুয়াকাটা থেকে আগত নারী কৃষক নুর নাহার বেগম, সাতক্ষীরা থেকে কল্পনা রানী প্রমুখ।