রাজশাহীর খবর

গোদাগাড়ীর খামারের গরু নিলামে অনিয়ম: তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দেওয়ায় হামলা

নিউজ ডেস্ক১৯ অক্টোবর ২০২৩২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী আঞ্চলিক দুগ্ধ ও গবাদি উন্নয়ন খামারের ৪০টি গরু নিলামের অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দেওয়ায় এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খামারের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে ওইদিন দুপুরে তদন্ত কমিটি গেলে অমিত হাসান (৪০) নামের এই ব্যক্তি অনিয়ম নিয়ে সাক্ষ্য দেন। তাঁর বাড়ি খামারের পাশর্^বর্তী মোল্লাপাড়া গ্রামে। তিনি অভিযোগ করে জানিয়েছেন, অনিয়ম নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে খামারের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কামরুজ্জামান বাদশা তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছেন। এসময় হাতুড়ি দিয়েও তাঁকে মারপিট করা হয়েছে। তবে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। এ নিয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন অমিত হাসান।

খামারের উপপরিচালক ডা. আতিকুর রহমান জানান, হামলার বিষয়টি শুনে তিনি অমিত হাসানকে ডেকেছিলেন। বুধবার সকালে অমিত হাসান তাঁর অফিসে গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তবে উপপরিচালক লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে কর্মচারী কামরুজ্জামান বাদশার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে অমিত হাসানের ওপর হামলার বিষয়ে কামরুজ্জামান বাদশা বলেন, এই ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। আমি কারো ওপর হামলা করিনি। এই ধরনের ঘটনাও ঘটেনি।’

জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর সরকারি এ খামার থেকে ৪০টি গরু প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করা হয়। এই নিলামে অংশ নিতে প্রায় ৪০০ জন ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জামানত জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সালমান ফিরোজ ফয়সাল তাঁর লোকজন নিয়ে গিয়ে কাউকেই নিলামে অংশ নিতে দেননি। ৩০টি গরু তিনি একাই কেনেন সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে মাত্র ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে। বাকি ১০ গরুর মধ্যে ৫টি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং অন্য ৫টি খামারের কর্মকর্তারা কেনেন নামমাত্র দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যান।

নিলামের দিন সরকারী কর্মচারী হয়েও কামরুজ্জামান বাদশা সিন্ডিকেটের হোতা ফয়সালের হয়ে দর হাঁকছিলেন। এই সিন্ডিকেটের আরও দুজনের দরও হাঁকছিলেন তিনি। সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে অমিত হাসান দুটি গরুর দর হাঁকলে বাদশা তাঁকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেন যান। ফলে নিলামে অমিত হাসান অংশ নিতে পারেননি।

এ নিয়ে অমিত হাসান অভিযোগ করার পরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. এমদাদুল হক তালুকদার বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পর তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম ভুঁঞা। কমিটির প্রধান করা হয় নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফাকে। বুধবার কমিটির সদস্যরা খামারে গিয়ে তদন্ত করেন। অমিত হাসানকে ডেকে নিয়ে তাঁর সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা।

ট্যাগ: