সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
ফিলিস্তিনি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলার কারণে উত্তর গাজায় ইন্টারনেট এবং টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। তারা আরো জানিয়েছে, উত্তর গাজার প্রধান লাইনে ইসরায়েলি দখলদাররা হামলা চালানোর পর ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবা বন্ধ হয়ে যায়। স্থলভাগে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে ত্রুটি মেরামতের জন্য তাদের কর্মীরা দিন-রাত কাজ করছেন।
আন্তর্জাতিক নিন্দা বেড়ে গেলেও ইসরায়েল বৃহত্তম শহরটিতে পূর্ণাঙ্গ স্থল আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

ইসরায়েলি হামলার পর সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে গাজা সিটির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েছিলেন বার্তা সংস্থা এপির সাংবাদিকরা। কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গাজা শহরে বোমাবর্ষণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অবিরাম বিস্ফোরণে কয়েক ডজন বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং নৌবাহিনীর নৌকাগুলোও ইসরায়েলি ট্যাংক এবং জেট বিমানের পাশাপাশি হামলা করছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে রাতভর ইসরায়েলি হামলায় নারী, শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হওয়ার পর আজ বুধবার গাজা শহরে নতুন করে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনারা। দুই বছরের যুদ্ধ আর দুর্ভিক্ষে বিপর্যস্ত এ অঞ্চল এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। লক্ষাধিক মানুষ শহরে আটকে রয়েছে। মঙ্গলবার শুরু হওয়া সর্বশেষ অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনারা বলছে, তারা ‘হামাসের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসে’ কাজ করছে। তবে এই অভিযানের সময়সীমা জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। ইসরায়েলি সেনারা গাজা শহর থেকে দক্ষিণে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ফলে অনেকে দক্ষিণ গাজায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে পোপ চতুর্দশ লিও বুধবার গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য জরুরি আহ্বান জানান। তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার অনুরোধ জানান। পোপ বলেন, ‘সর্বশক্তিমান প্রভু যিনি বলেছেন ‘তুমি হত্যা করো না’, তার সামনে এবং মানব ইতিহাসের কাছে প্রতিটি মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে—এটি অবশ্যই সম্মান ও সুরক্ষিত করতে হবে।’
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলছে, তারা গাজা শহরে ইসরায়েলের আক্রমণের দৃঢ় বিরোধিতা করে। মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, ‘চীন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বৃদ্ধির দৃঢ় বিরোধিতা করে। বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি করা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করার নিন্দা জানায়।’
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা সিটিতে চলমান স্থল হামলায় অংশ নিয়েছে তাদের দুটি ডিভিশন। এ দুটি ডিভিশনে হাজার হাজার সেনা রয়েছে।









