মোত্তাকিন আলম সোহেল, মোহনপুর:
মোহনপুর উপজেলা ২ নম্বর ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নে গভীর নলকূপের এক অপারেটরের খাম-খেয়ালীপনার কারণে বোরো মৌসুমে ২২০ বিঘা জমির ফসল নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা ওই অপারেটরের অপসারণ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঘাসিগ্রামে বরেন্দ্র বহুমূখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় একটি গভীর নলকূপ রয়েছে। এই নলকূপের সেচের আওতায় ২২০ বিঘা জমিতে কৃষকেরা চাষাবাদ করে করে থাকেন। কিন্তু একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ও আথরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেনকে ওই নলকূপের অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তার খাম-খেয়ালী ও গাফলতির কারণে গত বোরো মৌসুমে প্রায় ৭৪ জন কৃষকের ২২০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষক আখতার হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে জানান, প্রতিবছর রোবে মৌসুমে যে জমিতে ২০ মণ ধান পাওয়া যেত এবার সেই জমিতে ৫ মণ ধান পেয়েছি।
আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ জানান, তিনি প্রতি বছর তার জমিতে যে ধান পেতেন তা দিয়ে গোটা বছরে পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব ভালভাবেই চলত। কিন্তু অপারেটর সময়মতো জমিতে সেচ না দেওয়ার কারণে ধানের ফলন এবার ভাল হয়নি।
আরেকজন কৃষক ওয়াহেদ জানান, ২০১৬ সালে এই স্কীমের আওতায় জমিতে ধান চাষ করে প্রায় ৭৪ জন কৃষকের আনুমানিক ১৭ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
কৃষক শাহাব আলী ও টিপু সুলতান বলেন, স্থানীয় নেতাদের কাছে জমির ধান নষ্ট হওয়ার বিষয়ে বিচার চাওয়া হলে তারা শালিস করে দেব বলে কালক্ষেপণ করেছেন। ফলে আমরা এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পায়নি। এই অবস্থায় অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের অপসারণ জরুরী।
আগামী বোরো মৌসুমের পূর্বেই কৃষকে বাঁচাতে অদক্ষ অপারেট সাখাওয়াত হোসেন (মাষ্টার) অপসারণ না করলে কৃষকরা বৃহত্তর আন্দোলন করবে।
এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সহকারী প্রকৌশলী (বিএমডিএ) মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থ্য নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থ্য নেওয়া হবে।
স/আর









