আন্তর্জাতিক

খুনের ঘটনা পরিণত হলো বিশ্বাসঘাতকতার চাঞ্চল্যকর কাহিনিতে

নিউজ ডেস্ক৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ভারতের মধ্য প্রদেশে এক গ্রামে সম্প্রতি কুয়ার ভেতর থেকে বস্তা ও কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে এটি একটি সাধারণ খুনের ঘটনা মনে হলেও পরে তা পরিণত হয় বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের এক চাঞ্চল্যকর কাহিনিতে। এনডিটিভি রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে অনুপপুর জেলার সাকরিয়া গ্রামে।

নিহত ব্যক্তিকে ৬০ বছর বয়সী ভাইয়ালাল রজক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ব্যক্তিগত জীবনও তার হত্যাকাণ্ডের মতোই জটিল ছিল। তিনি তিনবার বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্ত্রী গুড্ডি বাইয়ের কোনো সন্তান হয়নি।

উত্তরাধিকার পাওয়ার আশায় ভাইয়ালাল আবার বিয়ে করেন গুড্ডিরই ছোট বোন মুন্নিকে, যিনি বিমলা নামেও পরিচিত। মুন্নির ঘরে দুই সন্তান জন্ম নেয়।
কিন্তু ভাইয়ালালের এই নাজুক সংসারের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ভয়াবহ গোপন সম্পর্ক—মুন্নি ও স্থানীয় সম্পত্তি ব্যবসায়ী নারায়ণ দাস কুশওহার প্রেমের সম্পর্ক।

পুলিশের তথ্য মতে, মুন্নি ও লাল্লু নামে পরিচিত নারায়ণ দাসের অবৈধ সম্পর্ক এতটাই গভীর হয়েছিল যে তারা ভাইয়ালালকে হত্যা করে নিজেদের পথ পরিষ্কার করার পরিকল্পনা করেন।

ধীরজ কোল নামের ২৫ বছর বয়সী এক শ্রমিককেও লাল্লু এই হত্যাকাণ্ডে জড়ান।
প্রতিবেদন অনুসারে, ৩০ আগস্ট রাতে ভাইয়ালাল তার নির্মীয়মাণ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত প্রায় ২টার দিকে লাল্লু ও ধীরজ চুপিচুপি ঢুকে রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে ও খুলি ভেঙে ফেলে। এরপর লাশটি বস্তা ও কম্বলে মুড়ে, দড়ি ও শাড়ি দিয়ে বেঁধে গ্রাম্যের কুয়ায় ফেলে দেওয়া হয়।

কিন্তু ভাগ্যের অন্য পরিকল্পনা ছিল।

পরের দিন সকালে দ্বিতীয় স্ত্রী গুড্ডি বাই কুয়ায় কিছু ভাসতে দেখে এগিয়ে যান। এভাবে বাঁধা লাশ দেখতে পেয়ে গ্রামে আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। তারা এসে কুয়া খালি করে, আর সেখান থেকে শুধু ভাইয়ালালের লাশ নয়, তার মোবাইল ফোনও উদ্ধার করে।
ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণেই ভাইয়ালালের মৃত্যু হয়েছে। মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই কোটওয়ালি পুলিশ মামলাটি সমাধান করে।

পুলিশ সুপার মতিউর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভাইয়ালাল রজকের লাশ বস্তায় বাঁধা অবস্থায় কুয়ায় পাওয়া গেছে। তার তিনটি বিয়ে ছিল। তৃতীয় স্ত্রী মুন্নি ওরফে বিমলার নারায়ণ দাস কুশওহা ওরফে লাল্লুর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। শ্রমিক ধীরজ কোলকে সঙ্গে নিয়ে তারা রড দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে এবং কুয়ায় ফেলে দেয়। মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

মুন্নি, লাল্লু ও ধীরজ—এই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।