সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ক্রেডিট কার্ড চালু হয় ১৯৯৭ সালে। তৎকালীন এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক (বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক) সেবাটি চালু করে। বর্তমানে প্রায় ৪০টি ব্যাংক দেশে ক্রেডিট কার্ড সেবা প্রদান করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে মোট ১১টি প্রধান খাতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এগুলো হলো—ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, খুচরা কেনাকাটা, বিভিন্ন পরিষেবার বিল পরিশোধ, নগদ অর্থ উত্তোলন, ওষুধ ও ফার্মেসি খাত, পোশাক কেনাকাটা, অর্থ স্থানান্তর, পরিবহন খাতে ব্যয়, ব্যাবসায়িক ও পেশাদারি সেবা এবং সরকারি বিল প্রদান।

দৈনন্দিন খরচ ও লেনদেনকে সহজ করে দিলেও ক্রেডিট কার্ডের অসাবধানী ব্যবহার অনেক সময় ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সামান্য অসতর্কতা ব্যবহারকারীকে ঋণের জালে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করা, বাড়তি খরচে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া, একাধিক কার্ড ব্যবহার বা সরাসরি নগদ অর্থ উত্তোলনের মতো কারণে স্বল্প সময়ে ঋণ বেড়ে যায় বহুগুণ। তাই কার্ড ব্যবহারে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত কিছু সাধারণ ভুলের কারণে অনেক ব্যবহারকারী বিপাকে পড়েন। এমন ছয়টি সাধারণ ভুলের কথাই উল্লেখ করেছে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ।
নানা অফারে ফেঁসে যাওয়া : খরচহীন ইএমআই বা বাই নাউ পে লেটার, এ ধরনের অফার অনেক সময় আপনার জন্য সব সময় লাভজনক না-ও হতে পারে। লুকানো চার্জ ও যৌগিক সুদে ঋণ বেড়ে যায়।
বাজেটের বাইরে খরচ : রিওয়ার্ড পয়েন্ট ও অফারের লোভে অনেকেই পরিকল্পনার বাইরে খরচ করেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, মাসিক আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের বেশি যেন কার্ডে খরচ না হয়। বাজেটের বেশি খরচ করলে আপনার ওপর চাপ বাড়বে।
একাধিক কার্ডে নির্ভরতা : বেশি কার্ড ব্যবহারে আসল ঋণ আড়াল হয়, ফলে পরিশোধ জটিল হয়ে ওঠে। এক কার্ডের ঋণ মেটাতে অন্য কার্ড ব্যবহার করা আরও বিপজ্জনক। এটি এড়িয়ে চলুন।
কার্ড থেকে নগদ তোলা : এটিএম থেকে টাকা তুললে সঙ্গে সঙ্গে সুদ আরোপ হয়। সুদমুক্ত–সুবিধাও বাতিল হয়ে যায়। জরুরি না হলে নগদ তোলা উচিত নয়।
বিল পরিশোধে দেরি : বিলম্বে পরিশোধ করলে জরিমানা, ক্রেডিট স্কোর কমে যাওয়া ও সুদমুক্ত সময় হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই সময়সীমা অবহেলা করা যাবে না।
শুধু ন্যূনতম টাকা পরিশোধ : প্রতি মাসে কেবল ন্যূনতম পরিশোধ করলে সুদ বাড়তে থাকে। বার্ষিক সুদের হার তরতর করে বেড়ে যায়। এতে ঋণ দ্রুত ফুলে ওঠে। তাই ন্যূনতম পরিশোধ নয়, সামর্থ্য অনুযায়ী পরিশোধ করুন।









