রাজশাহী

এলাকাভিত্তিক শিক্ষা গড়ে উঠতে পারে যেভাবে-শফিকুল আলম সমাপ্ত

নিউজ ডেস্ক১১ মার্চ ২০২৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সমাজে হারিয়ে যাওয়া সামাজিক সম্প্রীতি ও শিশুদের নিরাপদ শৈশব ফিরিয়ে আনতে এলাকাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বা ‘নেইবারহুড স্কুলিং’ চালুর প্রস্তাব উঠেছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে সফল এই পদ্ধতি বাংলাদেশেও বাস্তবায়ন করা গেলে সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে এবং শিশুদের মানসিক চাপ কমবে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অতীতে বাংলাদেশের পাড়া-মহল্লার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ছিল সামাজিক মিলনের কেন্দ্র। সেখানে ধনী-দরিদ্রের কোনো ভেদাভেদ ছিল না। একই মাঠে খেলা, একই শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার মধ্য দিয়ে শিশুদের মধ্যে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক পরিচয় তৈরি হতো। কিন্তু বর্তমানে শহরের নামী-দামী স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে অনেক শিশু নিজ এলাকার বন্ধুদেরও চিনে না।

এতে সমাজের অভ্যন্তরীণ সুর ও সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের জন্য নিজ এলাকার স্কুলই হওয়া উচিত সবচেয়ে উপযোগী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শহরের বড় স্কুলে ভর্তির জন্য যে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, তা শিশুদের শৈশব কেড়ে নিচ্ছে এবং অল্প বয়সেই তাদের উপর মানসিক চাপ তৈরি করছে। এলাকাভিত্তিক স্কুলিং চালু হলে এই অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা অনেকটাই কমে আসবে।

এছাড়া ছোট শিশুদের অনেক দূরের স্কুলে পাঠানো শুধু ব্যয়বহুলই নয়, ঝুঁকিপূর্ণও। নিজ ওয়ার্ড বা এলাকার স্কুলে পড়াশোনা করলে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমবে, শিশুরা পরিচিত পরিবেশে নিরাপদে স্কুলে যেতে পারবে এবং অভিভাবকদের দুশ্চিন্তাও অনেকটা কমে যাবে।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, সরকার চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে (পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত) নিজ নিজ ওয়ার্ড বা এলাকার সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা বাধ্যতামূলক করতে পারে।

এতে এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সন্তানরা একই বিদ্যালয়ে পড়বে এবং বিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে শুধু শিক্ষা ব্যবস্থাই নয়, সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সামাজিক সংহতিও নতুনভাবে শক্তিশালী হবে।