নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের দরপত্রের সিডিউল বিক্রি গোপনে পছন্দের ঠিকাদারের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে আরএমপি কমিশনারের বাসভবনের সীমানা প্রাচীরের পাশে আরসিসি ড্রেন ও গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজের এ টেন্ডার নিয়ে শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এর মাধ্যমে ওই টেন্ডারটি তাদের পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়ার চ’ড়ান্ত বন্দবস্ত করা হয়েছে। ফলে গতকাল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অফিসে গিয়েও অনেক ঠিকাদারই সিডিউল পাননি বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন।

তবে আরএমপির উপ-কমিশনার (সদর) তানভীর হায়দার চৌধুরীর বলেন, সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরে কয়েকজন ঠিকাদার সিডিউল কিনতে এসেছিলেন। তাই তাঁদের সিডিউল দেওয়া হয়নি। এর বাইরে কোনো অনিয়ম হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সিডিউল না পাওয়া ঠিকাদাররা অভিযোগ করে জানান, মহানগর পুলিশ কমিশনারের বাসভবনের ভেতরে সীমানা প্রাচীরের পাশে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ ও বাসভবনের রাস্তার পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজের জন্য গত ২৯ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়।
- পুলিশ কমিশনারের পক্ষে এই দরপত্র আহ্বান করেন উপ-কমিশনার (সদর) তানভীর হায়দার চৌধুরী। ড্রেন নির্মাণকাজের জন্য ৬০ হাজার টাকা জামানত ও সিডিউলের দাম সাড়ে সাতশ’ টাকা ধরা হয়। আর গাইড ওয়াল স্থাপনের জন্য সিডিউলের দাম সাড়ে সাতশ এবং জামানত ধরা হয় ৪৫ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি ব্যয় ধরা হয় কাজের জন্য।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, এই দরপত্র বিজ্ঞপ্তি কোনো অনেকটা গোপনে প্রকাশ করা হয়। তবুও লোক মারফত শুনে কয়েকজন ঠিকাদার ওই টেন্ডারে অংশ নিতে গত কয়েকদিন ধরেই চেষ্টা চালাতে থাকেন ঠিকাদাররা। কিন্তু প্রতিদিনই তাঁদের নানা বাহানায় সিডিউল না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।
সর্বশেষ গতকাল সোমবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত সিডিউল বিক্রির শেষদিন। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আরএমপি উপপুলিম কমিশনারের কার্যালয়ের গিয়েও অনেক ঠিকাদারই সিডিউল পাননি।
- ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আস্থা এন্টারপ্রাইজের মালিক শরিফ উদ্দিন অভিযোগ করে জানান, তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে সিডিউল কিনতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সিডিউল দেওয়া হয়নি। সিডিউল বিক্রির দায়িত্বে থাকা আরএমপির প্রধান অফিস সহকারী আব্দুল কুদ্দুছ মোবাইল ফোন বন্ধ করে তাঁর কক্ষ থেকে লাপাত্তা হয়ে যান। পরে উপ-কমিশনার তানভীর হায়দার চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও সিডিউল পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জের আরেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আফরা সাদেকা’র মালিক আমজাদ হোসেন জানান, নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিডিউল বিক্রি বাধ্যতামূলক। কিন্তু চারঘাটের ঠিকাদারী একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ করে আরএমপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) আব্দুল লতিফ আমাদের সিডিউল দেননি।
ওই সিন্ডিকেটটি বারবারই আরএমপির কাজ করছে। তাঁদের কারণে অন্য কোনো ঠিকাদার আরএমপির কাজের কাছে ভিড়তে পারছে না। এর সঙ্গে প্রধান সহকারী আব্দুল কুদ্দুছও জড়িত।
- সূত্রটি আরো জানায়, আরএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ছুটিতে দেশের বাইরে থাকার সুযোগে টেন্ডারটি নিয়ে আরএমপি ওই সিন্ডিকেটটি বাণিজ্যে নেমেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এবিষয়ে আরএমপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) আব্দুল লতিফের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সিডিউল দেওয়া হয়নি এটা ঠিক নয়। যারা কিনতে এসেছেন, তারা ঠিকই পেয়েছেন। সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে কাউকে কাউকে দেওয়া হয়নি। তবে অপর অফিস সহকারী আব্দুল কুদ্দুছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
স/আর









