রাজশাহীর খবর

অধ্যক্ষের ‘স্বেচ্ছাতারিতায়’ বিপাকে ৪৭ শিক্ষার্থী : অভিভাবকদের অপমান, হাসপাতালে ছাত্রী

নিউজ ডেস্ক৪ আগস্ট ২০১৬৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘স্বেচ্ছাতারিতা’র অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।  শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষের এমন ‘স্বেচ্ছাতারিতার’ কারণে আগামী ৬ আগস্ট থেকে অনুষ্ঠিত প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় দ্বাদশ শ্রেণির ৪৭জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারছে না। ফলে তারা আগামীতে নির্বাচনী ও এইচএসসি‘র চূড়ান্ত পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এসব শিক্ষার্থী, অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন। এদের মধ্যে একজন সংজ্ঞাও হারান।
এদিকে শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে সাথে কথা বলতে গিয়ে অধ্যক্ষের কাছে অপমান ও অপদস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগীরা অভিভাবকরা। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিয়মানুযায়ী ৭০শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত না হলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। তবে অসুস্থ্য থাকার কারণে অথবা ছুটির দরখাস্ত দিয়ে কোনো শিক্ষার্থী ক্লাস উপস্থিত না হতে পারলে বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়। সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, বিগতে সময়ে এর নজির রয়েছে। কিন্ত এবার শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যায় আমলে নেওয়া হচ্ছে না। ফলে ৪৭জন শিক্ষার্থী বিপাকে পড়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অসুস্থ্য থাকার প্রমাণ স্বরুপ চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন কলেজের অধ্যক্ষকে দেওয়া হলেও তিনি সেটি ছিড়ে ফেলেছেন। কোনো শিক্ষার্থীর কোনো সমস্যাকে আমলে নিচ্ছে না। পরীক্ষার আগ মহুূর্তে এমন সিদ্ধান্তে তাদের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে।
কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির হার ৭০ শতাংশ না হওয়ার পেছনে শিক্ষকরাও অনেকাংশে দায়ী। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই দূরদূরান্ত থেকে এসে কলেজে ক্লাস করেন। তবে মাত্র দুই-এক মিনিট দেরি হলে আর ক্লাসে ঢুকতে দেয়নি শিক্ষকরা। ফলে কলেজে এসেও অনেকে ক্লাসে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। এছাড়া অনেকে ছুটির দরখাস্ত শিক্ষকদের হাতে দিলেও সেই শিক্ষকরা সেটি অধ্যক্ষের কাছে পৌছে দেয়নি। শিক্ষকদের অসুস্থতার কথা জানানো হলে তারা বিষয়টি দেখবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছিল। কিন্তু এখন আর কোনো সমস্যায় শোনা হচ্ছে না।
এদিকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার খবরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজে এসেছিলেন ভুক্তভোগীদের অভিভাবকরা। এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হাবিবুর রহমান সেইসব অভিভাবকদের অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের করে দিয়েছেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে আট থেকে দশজন শিক্ষার্থী একেঅপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কলেজের প্রধান ফটকে ঢুকতেই ভেতর থেকে এইসব শিক্ষার্থীর কান্নার শব্দ পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা কান্না করছেন এমন সময়ও কলেজের  কয়েকজন শিক্ষক তাদের শাষাচ্ছেন। এতে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তারা। কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। নাফিসা নামের এক ছাত্রী সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে কান্নারত শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে গেলে সিল্কসিটি নিউজের এই প্রতিবেদককে ঘিরে ধরেন কলেজের কয়েকজন শিক্ষক। এরপর প্রতিবেদকের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেন শিক্ষকরা। এরপর প্রতিবেদককে শিক্ষক মিলনায়তনে নিয়ে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেয় শিক্ষকরা। পরে তাকে অধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান এই প্রতিবেদককে হুমকি-ধামকি দেন। এই প্রতিবেদককে প্রায় আধাঘন্টা আটকে রেখে মোবাইলের গুরুত্বপূর্ণ ছবি ডিলিট করে মোবাইল ফেরত দেওয়া হয়। এ সময় বারবার শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যান এই অধ্যক্ষ।
সিল্কসিটি নিউজের ভুক্তভোগী প্রতিবেদক জানান, এরআগে সিল্কসিটি নিউজে অধ্যক্ষর দুর্নীতি ও এক শিবির নেতাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার জেরে তাকে এমন অপদস্থ করা হয়েছে।
পরে সার্বিক বিষয়ে জানতে বিকেল ৫টার দিকে সিল্কসিটি নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে অভিভাবকদেকর অপমান এবং এই প্রতিবেদকের সাথে খারাপ ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান।
অধ্যক্ষ প্রফেসর হাবিবুর রহমান বলেন, ওই ৪৭জন শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্লাসে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।  শিক্ষার্থীদের অসুস্থ্যতা ও ছুটির আবেদনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ অথবা ছুটির জন্য আবেদন করেছে, তা আমাকে জানানো হয়নি। তাই ৪৭জন শিক্ষার্থীর বিষয়ে কোনো কিছু বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই।
কলেজ কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে কলেজের ৪৭জন শিক্ষার্থী আগামীতে নির্বাচনী ও এইচএসসি‘র চূড়ান্ত পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না।

স/মি