অর্থ ও বাণিজ্য

১১ মাস আগের চূড়ায় সূচক

নিউজ ডেস্ক২৫ জানুয়ারি ২০১৯৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সূচকের উত্থান দিয়ে সপ্তাহ শেষ হয়েছে শেয়ারবাজারে। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক বেড়েছে।

এ নিয়ে উভয় বাজার টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকল। শেয়ারবাজারে এমন টানা ঊর্ধ্বমুখিতার কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় সাড়ে ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় বৃহস্পতিবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে এ মূল্যসূচকটি ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আবারও পাঁচ হাজার ৯৫০ পয়েন্ট স্পর্শ করল। এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকার শেয়ার।

হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৬টির, কমেছে ১২৪টির, অপরিবর্তিত আছে ৩৬টির দর। বুধবার লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ৫৯ পয়েন্ট। মোট লেনদেন হয় ১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। ডিএসইর অপর দুটি মূল্যসূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় পাঁচ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক আগের দিনের তুলনায় দশমিক ১৭ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৩২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে সূচকের বড় ধরনের উত্থান হলেও লেনদেন কমেছে। আগের সপ্তাহের চেয়ে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১২৫ পয়েন্ট। গত সপ্তাহের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৪৪৪ কোটি। চলতি সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক খাত। তবে আগের দুই কার্যদিবসের তুলনায় এদিন ব্যাংক কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম তুলনামূলক কম বেড়েছে। এতে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২৪টি ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১০টি ব্যাংকের। আর ছয়টি ব্যাংকের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মূল্য সূচকের উত্থান হলেও এদিন ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। বাজারে দিনভর লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় এক হাজার ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে সাত কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে এদিন ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রাইম ব্যাংকের ৪১ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার লেনদেনে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউনাইটেড ফাইন্যান্স। লেনদেনে এরপর রয়েছে- আইএফআইসি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, জেএমআই সিরিঞ্জ, সিটি ব্যাংক, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস, বিবিএস ক্যাবলস এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল।

দর বাড়ার শীর্ষে যে ১০ কোম্পানি সেগুলো হল : কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, ইস্টল্যান্ড, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স, মালেক স্পিনিং, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, প্রিমিয়ার ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ও প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স।

দর কমার শীর্ষে যে ১০ কোম্পানি সেগুলো হল : নর্দান ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইস্টার্ন ক্যাবলস লিমিটেড, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড, সুহৃদ, সোনালি আঁশ, বঙ্গজ ও গ্রিন ডেলটা মিউচুয়াল ফান্ড।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ১১ হাজার ৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ৩ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৯টির। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির।