রাজশাহীর খবর

১০ জনের একজন নজিবুল্লাহ আনসারী, দেড় বছর নিখোঁজ পিতার দাবি

নিউজ ডেস্ক১৬ জুলাই ২০১৬৩ মিনিট পড়া

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশান হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার পর নিখোঁজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে ১০ জনের ছবি প্রকাশ হয়েছে তার মধ্যে একজন হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের নজিবুল্লাহ আনসারী। সরকারের পক্ষ থেকে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চক নাধড়া গ্রামের রফিকুল্লাহ আনসারী দাবি করেছেন নজিবুল্লাহ আনসারী তার ছেলে।

থানা পুলিশ জানায়, এদের পরিবারের বিরুদ্ধে কোন ধরণের মামলা নাই। সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নিখোঁজ নজিবুল্লাহ আনসারী ১৯৮৭ সালে উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চক নাধড়া গ্রামের রফিকুল্লাহ আনসারীর ঔরসজাত ও জিয়াসমীন বেগমের গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন।

রফিকুল্লাহ আনসারী সিল্কসিটি নিউজকে  জানান, দুটি সন্তানের মধ্যে নজিবুল্লহ আনসারী বড়। আর দ্বিতীয় সন্তান এইচএসসির ছাত্র। চাকুরীর সুবাদে নজিবুল্লাহর শিক্ষাজীবন শুরু হয় চট্টগ্রামের হলি শহরের ক্যান্টনমেন্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে সে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে এইচএসসি পাস করে ২০০৮ সালে একটি কোম্পানীর সহযোগিতায় মালেশিয়ার মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হয়ে ৩ বছর পর প্রশিক্ষণের জন্য আমেরিকা যায় এবং এক বছর পর আবাও ওই কোম্পানীর সহযোগিতা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে চাকুরীতে যোগদান করে ২০১২ সালে। তবে লেখাপড়া ও চাকুরীতে সহায়তাকারী ওই কোম্পানীর নাম তিনি বলতে পারেননি।

তিনি জানান, চাকুরীকালে সে বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করেছে। কিন্তু গেল দেড় বছর ধরে তার কোন খোঁজ নেই । এদিকে মমতাময়ী মা জিয়াসমীন বেগম নিজের সন্তানের ছবি গণমাধ্যমে দেখেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান স্বামী।

তিনি আরও জানান, নজিবুল্লাহ আনসারীর ০১৭২২৫২৩৩৪১ নম্বর মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারেনি। গত ১ জুলাই গুলশানের ঘটনার পর গণমাধ্যমে ছেলের ছবি দেখে আমরা হতাশ এবং বিষয়টি স্পর্শকাতর এবং গত ১০ জুলাই চট্টগ্রামের এটিজেন থানায় একটি জিডি করেন।

তিনি দাবি করেন, তার ছেলে নজিবুল্লাহ  কোন সংগঠনের সাথে জড়িত ছিল কি-না তা তিনি জানেন না।
এদিকে নজিবুল্লাহ গ্রামের বাড়ির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক নিকটতম আত্মীয় সিল্কসিটি নিউজকে জানায়, নজিবুল্লাহ খুব কম দেশের বাড়ি আসতো। খুব কম কথা বলতো। ২০০৮ সালের পর সে আর আসেনি। তবে তার পিতা দুই বছর আগে একবার এসেছিল। তিনি জানান, নজিবুল্লাহ পিতারা ৬ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সবার বড়। বাকীভাইগুলোর মধ্যে ২ ভাই শিক্ষক, এক ভাই ইনসেপটা ঔষুধ কোম্পানীতে নাটোরে চাকরীরত, এক ভাই ব্যবসায়ী এবং অন্য এক ভাই নার্স পদে চাকুরী করেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচছুক এলাকার অনেকে জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা মুসলিমলীগ সমর্থক ছিল এবং তারা দীর্ঘদিন যাবত জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সাথে জড়িত। এমনকি তার নানা নানীর পবিরবারও জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সাথে জড়িত।

তবে চককীর্ত্তি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার-এ আলমের দাবী, এদের পরিবারের বসবাসরত নিকট আত্নীয়রা সবাই অত্যন্ত ভদ্র। এরা খুবই নিরামিশ প্রকৃতির এবং এরা কোন দলের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ওসি রমজান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা ওই পরিবার সর্ম্পকে খোঁজ খবর নিচ্ছি।

অন্যদিকে শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক নূরে আলম সিদ্দিকী সিল্কসিটি নিউজকে জানান, নিখোঁজ ব্যক্তি বা তার নিকট কোন আত্নীয়স্বজনের নামে কোন মামলা নেই।

উল্লেখ্য, নজিবুল্লাহ আনসারীর পিতা রফিকুল্লাহ আনসারী চট্টগ্রামে নৌবাহিনীতে চাকুরী করতেন এবং গত ডিসেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন। তখন থেকে চট্টগ্রামেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন।

স/অ