জাতীয়

হেলিকপ্টার থেকে বোম্বিং, ছত্রীসেনা নামানোর নির্দেশ ছিল হাসিনার

নিউজ ডেস্ক২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫৮ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে ড্রোন দিয়ে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয়, হেলিকপ্টার থেকে থেকে বোম্বিং, ছত্রীসেনা নামানো, গুলিবর্ষণ ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু তা-ই নয়, আন্দোলনকারীদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে ফাঁসি দেওয়া, ইন্টারনেটসেবা বন্ধ করা, বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন লাগানো এবং আন্দোলনকারীদের জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি।

গত বছর জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলার সময় শেখ হাসিনা এবং তিনজনের মধ্যে আলাদা চারটি ফোনকল রেকর্ডে এসব নির্দেশনার কথা শোনা গেছে। শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গতকাল বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এ সাক্ষ্যগ্রহণের সময় এসব ফোনকল রেকর্ড বাজানো হয়।

মামলার ৫৩তম সাক্ষী হিসেবে এদিন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন প্রসিকিউটর ও মামলার বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। তিনিই ট্রাইব্যুনালে এসব ফোনকল রেকর্ড দাখিল করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। শেখ হাসিনা ও কামালকে পলাতক দেখিয়ে চলছে মামলার বিচারকাজ।

মামুনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। তিনি তাঁর দোষ স্বীকার করে মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছেন।
প্রসিকিউশনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এই মামলায় বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এই কাজের ধারাবাহিকতায় গত বছর ২৩ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোনালাপের ৬৯টি অডিও ক্লিপ এবং তিনটি মোবাইল নম্বরের সিডিআর এনটিএমসির সহকারী ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশিক্ষক সাদি মোহাম্মদ রিফাতের কাছ থেকে জব্দ করেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন সাক্ষী।

ট্রাইব্যুনালকে তিনি বলেন, অডিও ক্লিপগুলোর (ফোনকল রেকর্ড) পর্যালোচনা এবং ফরেনসিক পরীক্ষার পর প্রমাণ পান ফোনকল রেকর্ডগুলো শেখ হাসিনা ও তিনজন ব্যক্তির মধ্যে হয়েছে। চারটি ফোনকল রেকর্ডের একটি শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের, আরেকটি শেখ হাসিনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এস এম মাকসুদ কামালের। বাকি দুটি ফোনকল রেকর্ড শেখ হাসিনা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মধ্যে হয়েছে। এই চারটি ফোনকল রেকর্ডের মধ্যে শেখ হাসিনা ও মাকসুদ কামালের ফোনালাপটি গত বছর ১৪ জুলাইয়ের। বাকি তিনটি ফোনালাপের তারিখ উল্লেখ নেই।

প্রসিকিউটর জোহা সাক্ষ্যে বলেন, ‘এই ফোনালাপগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে গত বছর জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা লেথাল উয়েপন (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করে সরাসরি গুলির নির্দেশ দিয়েছেন এবং ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয় করে হেলিকপ্টার থেকে বোম্বিং করা, ইন্টারনেটসেবা বন্ধ করাসহ আন্দোলনকারীদের রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ফাঁসি দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁরা ওই ফোনালাপে ইংল্যান্ডের উদাহরণ দিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের দমন করতে বলেছেন।’ এরপর তিনি চারটি ফোনকল রেকর্ডের অডিও ট্রাইব্যুনালে দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল এক এক করে চারটি রেকর্ডই (প্লে করেন) বাজিয়ে শোনেন।

‘একটাকেও ছাড়ব না’ : প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামালের ফোনালাপটি হয় গত বছর ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে। মাকসুদ কামাল ওই দিন ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি তুলে ধরেন শেখ হাসিনার কাছে। আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলছিলেন, প্রতিটি হল থেকে ছেলেমেয়েরা তালা ভেঙে বের হয়ে গেছে। তাঁর (উপাচার্যের) বাসভবনে হামলা করা হতে পারে। তখন শেখ হাসিনা তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেন।

ফোনকল রেকর্ডে মাকসুদ কামালকে বলতে শোনা যায়, ‘ওই রকম একটা প্রস্তুতি…লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হইছে।’ তখন শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হলে হবে না, আমি পুলিশ ও বিজিবি আর…বলেছি খুব অ্যালার্ট থাকতে এবং তারা (আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা) রাজাকার হইতে চাইছে তো, তাদের সবাই রাজাকার। কী আশ্চর্য কোন দেশে বসবাস করি!’

মাকসুদ কামাল এ সময় বলেন, ‘জি জি…বলতেছে আমরা সবাই রাজাকার।’ শেখ হাসিনাকে এ সময় বলতে শোনা যায়, ‘তো রাজাকারের তো ফাঁসি দিছি, এবার তোদেরও তাই করব। একটাকেও ছাড়ব না, আমি বলে দিছি।’

‘একাত্তর হলে ছাত্রলীগের ছেলেদের মেরেছে’, মাকসুদ কামাল ফোনালাপে এমন তথ্য দিলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোন দেশে বাস করি আমরা! এদের বাড়তে বাড়তে তো…রাজাকারদের কী অবস্থা হয়েছে দেখিস নাই, সবগুলোকে ফাঁসি দিছি, এবার তোদেরও ছাড়ব না।’

‘উয়েপন নির্দেশনা দিয়ে দিছি, এখন লেথাল উয়েপন ব্যবহার করবে’ : ‘আন্দোলনকারীরা সচিবালয় আক্রমণ করেছে’, ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে এমন তথ্য দিতে শোনা যায় শেখ ফজলে নূর তাপসকে। শেখ হাসিনা এই তথ্য জানেন না বললে তাপস বলেন, ‘হ্যাঁ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো ওইখানে আছে, সচিবালয়ে কয়েকবার ওরা আক্রমণ করছে, ওরা তো রাতে যদি আবার কোথাও কোথাও বিভিন্ন সংবেদনশীল বাসাবাড়িতে আক্রমণ করে তাহলে তো ইয়ে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাতের বেলা সব ভিজিলেন্স থাকবে এবং এই এত দিন তো, আচ্ছা ঠিক আছে, আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি। একটু আস্তে আস্তে অনেক জায়গায় গ্যাদারিং ক্লিয়ার হচ্ছে।’

তাপস বলেন, ‘ওরা মনে হচ্ছে না ইয়ে করবে, রাতে মনে হয় ওদের আরো অনেক কিছু পরিকল্পনা আছে মনে হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো আমাকে তাই বলল, আভাস দিল এবং আপনাকে ও মনে হয় বলছে কিছু যে রাতে যদি সর্বোচ্চ না ইয়ে করে, করবেন নাকি?’

শেখ হাসিনা জিজ্ঞেস করেন, ‘কী করব?’ তাপস বলেন, ‘মানে সেনাবাহিনী দেবেন?’ তখন শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাবা, একটু চিন্তা করে কথা কইও। এটাই তাদের আকাঙ্ক্ষা।’ তাপসও তখন সায় দেন শেখ হাসিনার কথায়।

এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দরকার নাই, ওটা দরকার নাই। আমি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলছি। ওরা রেডি থাকবে, ঠিক আছে? এখন তো আমরা অন্য ইয়ে করতেছি। ড্রোন দিয়ে ছবি নিচ্ছি আর হেলিকপ্টারে ইয়ে হচ্ছে, মানে কয়েক জায়গায়।’

তখন তাপস বলেন, ‘তাহলে কিছু ছবি দেখে পাকড়াও করা যায় না রাতের মধ্যে?’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবগুলোকে অ্যারেস্ট করতে বলেছি রাতে।’

তাপস তখন পাকড়াওয়ের কথা বললে শেখ হাসিনা বলেন, ‘না, ওটা বলা হয়ে গেছে, ওটা নিয়ে র‌্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই সবাইকে বলা হইছে, যে যেখান থেকে যে কয়টা পারবা ধইরা ফেলো।’

এক পর্যায়ে তাপসকে বলতে শোনা যায়, ‘না রাতে স্টুডেন্ট না, রাতে হলো ওরা সন্ত্রাসী।’ তখন শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওই যে আমাদের রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুলের একটা বাচ্চা ছেলে, তার শিক্ষক তাকে ডাইকা নিয়ে আসছে, শিক্ষক নাকি আবার শিবির করত, ওরা জানে না। তারপর সেই ছেলেটা মারা গেছে। তার মাত্র বুকে একটা গুলি অথচ পুলিশ কিন্তু কোনো রিভলভার ব্যবহার করেনি। এই রকম ঘটনা তারা ঘটাইছে।’

এই ফোনকল রেকর্ডেই শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘সব জায়গায় আগুন, বিআরটি ও বিটিআরসি বন্ধ করে দিছে, পোড়াইয়া দিছে, বিটিভি পোড়াইয়া দিছে, এখন তো ইন্টারনেট বন্ধ, সব পোড়াইয়া দিছে, এখন চলবে কিভাবে?’

‘আর হেলিকপ্টার দিয়ে সোজা বোম্বিং করা হবে’ : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার সময় গত বছর ১৯ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা থেকে সারা দেশে কারফিউ জারি করে সরকার। এই কারফিউ জারি করার পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়। আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও শেখ হাসিনার মধ্যে দুটি ফোনালাপে কারফিউর প্রসঙ্গ ছিল। এ থেকে ধারণা করা যায়, এই দুটি ফোনালাপ ১৯ জুলাইয়ের পরের।

দুটি ফোনালাপেই শেখ হাসিনার কোনো একটা পদক্ষেপে ইনুকে সমর্থন জানাতে শোনা যায়। সেই সঙ্গে কারফিউ যেন কঠোর হয়, শেখ হাসিনাকে সেই পরামর্শও দিতে শোনা যায় ইনুকে। একটি ফোনালাপে ইনু শেখ হাসিনাকে বলছেন, ‘শনির আখড়ায় কিছু মোল্লাই…।’ শেখ হাসিনা তখন বলছিলেন, ‘খালি মোল্লা না, ওইখানে অনেক মাদরাসা। ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে…মাইকিং করতে হচ্ছে আরকি…নারায়ণগঞ্জে ঢুকতে দিচ্ছে না আর্মিকে আমরা…নামাচ্ছি।’

তখন ইনু ‘জি, আচ্ছা’ বলে সাড়া দিলে শেখ হাসিনা বলে যান, ‘না, আমি বলছি ক্যাজুয়াল্টির দরকার নেই। ওরা ব্যারিকেড দিয়ে আছে তো, ঠিক আছে। আকাশ থেকে নামবে, তখন দুই পাশ দিয়ে ধরবে। মেসেজটা দিয়ে দিতে পারেন যে সেনা পাঠানো হচ্ছে। আর হেলিকপ্টার দিয়ে সোজা বোম্বিং করা হবে। র‌্যাব হেলিকপ্টার দিয়ে ওপর দিয়ে মারবে।’

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আচ্ছা ওপর দিয়ে সাউন্ড বোম যাবে আরকি, ঠিক আছে? আমি একটা পয়েন্ট আপনাকে একটু নজরে আনার জন্য রিকোয়েস্ট করতেছি, কারফিউ ধরেন দুই থেকে পাঁচ দিন যা চলল, চলল। কিন্তু কারফিউ এর পরে যাতে আর মিছিল না নামতে পারে সেই জন্য একট হোমওয়ার্ক করা দরকার। যে রকম উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, যাত্রাবাড়ীতে যারা মিছিল লিড করছে সেইগুলা চিহ্নিত করা।’

তখন শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালি গোয়েন্দারটা না, লোকাল লিডারদেরও করা উচিত।’

ফোনালাপের এক পর্যায়ে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আরেকটা রিকোয়েস্ট আমার, ইন্টারনেট আমার মনে হয় চালু করতে পারেন। এটা আমাদেরই কাজে লাগবে।’

তখন শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভাই, কী যে চালু করব, সব তো পোড়াই দিছে। ডেটা সেন্টারও পোড়ায় দিছে, ই পোড়ায় দিছে, এখন ওই নতুন তারতুর কিনে জোড়া লাগাতে হবে।’

একাত্তর টেলিভিশনে রাত ৮টায় টক শোতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ইনু বলেন, ‘আমি বলব যে (টক শোতে) সরকারের সঙ্গে কোটা আন্দোলনকারীর কোনো বিরোধ নেই। সরকারের সঙ্গে বিরোধ হচ্ছে নাশকতাকারী বিএনপি ও জামায়াতের।’

এই কথা শেখ হাসিনা নিজেও বলেছেন বললে ইনু বলেন, ‘এই জিনিসটা প্রোপাগান্ডায় আনতে হবে যদি ইন্টারনেট থাকে, গণমাধ্যম দিয়ে আমরা পুরা নিউজে ফ্লাড করে দিলাম…।’

দ্বিতীয় ফোনালাপেও কারফিউ কঠোর করতে শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিতে শোনা যায় ইনুকে। কথোপকথনের এক পর্যায়ে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ইয়ে পাইছি। তারা এইটাকে জঙ্গি হামলা হিসেবে কনসিডার, মানে বলতেছে।’

ইনু তখন বলেন, ‘হ্যাঁ, জঙ্গি হামলাই হইছে। এই কার্ডটা খেলব আমরা এখন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘না, কার্ড খেলা না, এটা আমি আগে করি নাই। আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে আমাকে মেসেজটা দিছে যে এটা জঙ্গি হামলা।’

এই ফোনালাপে সিপিবি, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, আনু মুহাম্মদের নাম আসে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে আন্দোলনকারীদের অবস্থান, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে চাওয়া, সংবিধান পরিবর্তন করার কথাও উঠে আসে তাঁদের ফোনালাপে।