লাইফ স্টাইল

হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে? পানিশূন্যতা হতে পারে কারণ

নিউজ ডেস্ক৫ নভেম্বর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

যদিও সাধারণত মানুষের হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার হয়ে থাকে, তবু কখনো হৃদপিণ্ডের স্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত, জোরে বা অনিয়মিত মনে হতে পারে। যা বুকে, গলায় বা ঘাড়ে ধড়ফড় বা দৌড়ঝাঁপের মতো অনুভূত হয়। কখনো মনে হয় যেন হৃদপিণ্ডের একটি স্পন্দন বাদ পড়েছে। চলুন, জেনে নিই পানিশূন্যতা কী হৃদস্পন্দনের কারণ হতে পারে কি না।

শরীরে তরলের অভাব হলে হৃদপিণ্ডকে রক্ত সঞ্চালনের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এতে হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি না পেলে রক্তের ঘনত্ব বাড়ে, ফলে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয় এবং হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ পড়ে। পানিশূন্যতা থাকলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট হয়, বিশেষ করে পটাশিয়াম কমে যায়।

এটি হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার আরেকটি বড় কারণ। দ্রুত হৃদস্পন্দন তীব্র পানিশূন্যতার লক্ষণও হতে পারে, যা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন করে।
অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের অন্যান্য সাধারণ কারণ
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বুক ধড়ফড়ানো কোনো গুরুতর অসুস্থতার ইঙ্গিত নয়। এর কারণ হতে পারে :
অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা ক্যাফেইন সেবন,
উদ্বেগ বা মানসিক চাপ,
রক্তাল্পতা, হাইপারথাইরয়েডিজম বা হৃদরোগ,
ব্যায়াম বা অতিরিক্ত পরিশ্রম,
রক্তে শর্করা বা অক্সিজেনের ঘাটতি,
কিছু ওষুধ, যেমন ডিকনজেস্ট্যান্ট-এর ওষুধ।

পানিশূন্যতার লক্ষণ
১। গাঢ় রঙের প্রস্রাব
২। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
৩। মাথাব্যথা
৪। পেশির টান
৫।ত্বক শুষ্ক ও ঠান্ডা লাগা
৬। মুখ শুকিয়ে যাওয়া
৭। তৃষ্ণা বৃদ্ধি
তীব্র পানিশূন্যতার লক্ষণ : বিভ্রান্তি বা প্রলাপ, মাথা ঘোরা, বিরক্তি ও দুর্বলতা, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, ডুবে যাওয়া চোখ, কুঁচকে যাওয়া ত্বক, খুব গাঢ় প্রস্রাব, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা শক।

পানিশূন্যতার কারণে হৃদস্পন্দন হলে করণীয়
হালকা পানিশূন্যতা দূর করতে প্রচুর পানি পান করুন অথবা ইলেক্ট্রোলাইটযুক্ত পানীয় গ্রহণ করুন। তবে তীব্র ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে যান। সেখানে শিরাপথে তরল দেওয়া হয়।

প্রতিরোধের উপায়
নিয়মিত পানি পান করুন, বিশেষ করে গরমে বা পরিশ্রমের সময়।
অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন কমান।
খাদ্যতালিকায় ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ খাবার (যেমন কলা, নারকেল পানি) রাখুন।
ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের কারণে ধড়ফড় হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
প্রথমবার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলে বা এর ধরন পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
অবিলম্বে চিকিৎসা নিন যদি হৃদস্পন্দনের সঙ্গে থাকে—বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম।

সূত্র : হেলথ