লাইফ স্টাইল

হাত-পা বরফের মতো ঠাণ্ডা? হতে পারে রক্তশূন্যতার লক্ষণ

নিউজ ডেস্ক২৬ নভেম্বর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

শীতের সময় অনেকেই অন্যদের তুলনায় বেশি ঠাণ্ডা অনুভব করেন। একই তাপমাত্রায় কেউ স্বাভাবিক থাকলেও অন্যজনের হাত-পা বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে যায়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের মতে, এই অতিরিক্ত ঠাণ্ডা অনুভবের পেছনে শুধু আবহাওয়াই দায়ী নয়; বরং শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিই মূল কারণ। যদি সঠিক সময়ে এই ঘাটতি ধরা না পড়ে, তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো ঘাটতি হয় ভিটামিন-১২। এই ভিটামিন রক্তে লোহিত কণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখে। শরীরে বি-১২ কমে গেলে রক্তকণিকার মান কমে যায়, ফলে টিস্যুতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। এর ফলে হাত-পা ঠাণ্ডা হওয়া, দুর্বলতা ও অস্বাভাবিক শীতলতা অনুভবের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

 

এর পাশাপাশি ফোলেট বা ভিটামিন বি৯-এর ঘাটতিও ঠাণ্ডা লাগার একটি বড় কারণ। ফোলেট রক্ত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর অভাবে রক্তাল্পতা সৃষ্টি হয়, যা শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে বাধা দেয়। নিয়মিত শাকসবজি, ডাল, ডিম ইত্যাদি না খেলে এই ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হলো আয়রন। আয়রনের অভাবে রক্তাল্পতা হয়, ফলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না এবং তাপ উৎপাদন কমে যায়। আয়ুর্বেদে বলা হয়, আয়রনের ঘাটতি দেহের অভ্যন্তরীণ তাপ দুর্বল করে দেয়, তাই মানুষ অল্প শীতেই বেশি কাঁপতে শুরু করে।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, প্রথমেই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। খাদ্যতালিকায় রাখুন—গাঢ় সবুজ শাক, ডাল, মাংস, মাছ, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার।

শীতে আদা, দারুচিনি, গোলমরিচ-এর মতো মসলা শরীর দ্রুত গরম রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক কাপ আদা-চা বা মসলা চা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ বাড়াতে কার্যকর। 

তদুপরি, নিয়মিত হালকা যোগব্যায়াম, প্রণায়াম এবং দ্রুত হাঁটা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা ঠাণ্ডা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ঠান্ডা অনুভব হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত, কারণ এটি থাইরয়েড সমস্যা বা অন্যান্য স্বাস্থ্য জটিলতার ইঙ্গিতও হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত, শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ ঠিক রাখতে ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে সচেতন থাকলে শীতেও শরীর থাকবে উষ্ণ, সুস্থ ও সতেজ।

সূত্র : আজকাল