রাজশাহী

হরকাতুল জিহাদের দুই সদস্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত

নিউজ ডেস্ক১ মার্চ ২০১৭৫ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
হরকাতুল জিহাদের দুই সক্রিয় সদস্য মাগুরার আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ মণ্ডল (৩৫) ও সাতক্ষীরার বুলবুল রহমান ওরফে বাবু (২২)। তারা দুইজনে তেমন শিক্ষিত না হলেও মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। আব্দুল্লহ আল মাসুদ মন্ডল  হাটগোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস ও মাগুরা সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি ফেল করে চাঁদপুর মোমিন বাড়িয়া মাদ্রাসায় ২০০৫ হতে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কারিয়ানা পড়াশুনা শুরু করেন। আর বুলবুল রহমান বাবু ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে ও কোরআনের হাফেজী পাশ করে।

শুধু তাই নয়, অল্প শিক্ষিত হয়ে তারা থেমে থাকেনি। তারা নিয়েছে, জিহাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক প্রশিক্ষণও । এদের অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণও আছে তাদের। এর মধ্যে কয়েকজনের ২ মাস বই পড়া, মার্শাল আর্ট ও পিস্তল চালানোসহ বিভিন্ন বিষয় তাদের ট্রেনিং আছে।

রাজশাহীর মহানগরীর মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের একটি দল অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের দুইজনকে আটক করে। তারা হরকাতুল জিহাদের সক্রিয় সদস্য বলে মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-৫ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব-৫ আটক দুই হরকাতুল জিহাদের সক্রিয় সদস্যসের বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানায়, আটককৃত আব্দুল¬াহ আল মাসুদ মন্ডল তিনি ১৯৯৭ সালে হাটগোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে মাগুরা সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি ফেল করে চাঁদপুর মোমিন বাড়িয়া মাদ্রাসায় ২০০৫ হতে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কারিয়ানা পড়াশুনা শুরু করেন। এর মধ্যে মাসুদ মোহা¤মদপুর বসিলা মারকাজুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ১ মাসের কম্পিউটার কোর্স  ও ঝিনাইদহ যুব উন্নয়ন ভবন থেকে পশু পালনের উপর ৩ মাসের একটি কোর্স করে।

২০০১ সালে তার সম্পর্কে ভাগ্নে জিল্লুর রহমানের মাধ্যমে মুফতি আব্দুল আলিমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে মুফতি আব্দুল আলিমের কাছে আসা-যাওয়া করে বিভিন্ন বিষয়াদি জানতো এবং দ্বীন ইসলামের এলেম নিতে চাইতো। প্রতি বুধবারে মুফতি আব্দুল আলিম, তাদের বাড়ীর পাশে মহল¬ার মসজিদে আসতেন এবং বয়ান দিতেন। এর কয়েকমাস পর মুফতি আব্দুল আলিম তাকে হরকাতুল জিহাদের সদস্য বানান। তখন থেকে জিল্লুরও হরকাতুল জিহাদের সদস্য হন মাসুদ।

শুধু তাই নয় তাদের সঙ্গে হরকাতুল জিহাদের অন্য সদস্য ছিল বারিকুল বাবু তোহা। আর মুফতি আব্দুল আলিম হরকাতুল জিহাদের থানা আমির ছিলন। মুফতি আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে ঝিনাইদহ কলাবাগান মসজিদ, কবুহাটি মসজিদে ২০০২ সালে বিভিন্ন বয়ানে অংশগ্রহণ করে। এসময় সাজেদুল রেহান হৃদয়, প্যারেড আক্তার নাঈম, কামাল সুলতান জুয়েল, মতিয়ার হারুন দুলাল, আবু সাদ কবির মনিরসহ সকলেই নিয়ে বয়ানে অংশ নিতো এবং সকলেই হরকাতুল জিহাদের সদস্য ছিল।

এদিকে, ঝিনাইদহ সদর থানার বিসিক শিল্প নগরীর টিপু জিন্নাহ জিহাদ, কলাবাগান মসজিদের ইমাম মাওলানা সাকের রবিউল হাসান, ফয়জুল আলম রিয়াদ, মন্টু তুরান শুভ, শাহীন আলম আজম জুয়েল হরকাতুল জিহাদের জেলা কমান্ডার ছিলেন। শুধু তাই নয়, এদর সকালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

অন্য এক সদস্য মন্টু তুরান শুভ হরকাতুল জিহাদের পক্ষে অর্থ (ইয়ানত) সংগ্রহ করতো। সে প্রতি মাসে ১০ টাকা চাঁদা দিত, আর অন্যরা সবাই তাদের সামর্থ অনুযায়ী চাঁদা দিত। হরকাতুল জিহাদের সদস্য থাকাকালীন তিনি চট্টগ্রাম-লিচুবাগান-কোদালিয়া বাজার-বাজার থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পাহারের ভিতরে হরকাতুল জিহাদের সদস্য হিসেবে মার্শাল আর্ট এর প্রশিক্ষণ দেয়া হতো।

এই মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের জন্য তাকে হরকাতুল জিহাদের ঝিনাইদহ আমির হাফেজ মো. আবু যর গিফারী, সবুজ হানিফ মিয়াদের মাধ্যমে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পাঠায়। তাদের দলের সদস্য ছিল ১৫ থেকে ১৬ জন। এদর মধ্যে আমিন খলিল, মুসা সোহেল, মোহা¤মদ নজরুল, পলাশ জাকির, সিহাব রাসেল, সালু সোলাইমান, বাকীদের নাম তার মনে নাই। তারা মোট ২৬ দিন সেখানে ট্রেনিং গ্রহণ করে। তাদের ট্রেনিং দিয়েছে সবুজ হানিফ মিয়াদ, সোহাগ ওয়াজেদ ওস্তাদ, আব্দুল¬াহ রফিক ওস্তাস, শাহীন রুবেল ও শামিল ইব্রাহিম দুই ভাই।

তাদের ট্রেনিং সেন্টারের আমীরর নাম ছিল জামিল জামাল। ট্রেনিং শেষে ট্রেনিং এর আমীর জামিল জামাল সাহেব তাকে চট্টগ্রাম রাজাখালী চাকতাই ফরিদ সাহেবের কলোনীতে চাকুরী দেয়। সে কলোনীর ভাড়া কালেকশন ও বেড়িবাঁধের পাশে জামিল জামাল সাহেবের জমি দেখাশুনা করে। ওখানে থাকার ২ থেকে ৩ মাস পর আবার তাকে ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে ছয় দিন ট্রেনিং করার পর আবার চাকতাই নিয়ে যায়।

অন্য সদস্য হলেন, বুলবুল রহমান বাবু (২২) তিনি ১৯৯৪ সালে সাতক্ষীরার বারৈহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করে। তিনি ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে ও কোরআনের হাফেজী পাশ করে। তিনি বাড়ীতে ট্রলির হেলপার হিসেবে কাজ করে। হরকাতুল জিহাদের একজন সক্রিয় সদস্য। আনুমানিক ৩ থেকে ৪ বছর আগে চাকরীর জন্য ঢাকা মিরপুর আসেন বাবু। মিরপুর রূপায়নে তার চাচাতো ভাই আলম আলীর মাধ্যমে রবিউল রুমেলর কাছে উঠে। রবিউল রুমেল রূপায়নে সুপারভাইজর ছিল।

রবিউল রুমেল তাকে রূপায়নে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরী দেয়, ২ মাস চাকরী করার পর তাকে বদলী করে (একই কোম্পানী) মিরপুর সাড়ে এগারো পল¬বীতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে নিয়োগ দেয় বাসা বাড়ীতে। একদিন পেপার কেনার মাধ্যমে মিলন মিঠুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তার পর মাঝে মাঝে মিলন মিঠু এসে তাকে ইসলাম, দ্বীন সম্পর্কে বুঝাইত।

প্রায় ২ থেকে ৩ বছর আগে মিলন মিঠু তাকে জিহাদের দাওয়াত দেয় এবং এক পর্যায়ে বাবু রাজি হয়। চাকরী থাকা অবস্থায় একদিন মিলন মিঠু তাকে বড়ভাই ডাক্তার ভাই এর সঙ্গে মিরপুর-১০ নম্বর ওভার ব্রীজের উপর পরিচয় করিয়ে দেয়। মিলন  তাকে জানমাল দিয়ে জিহাদের কথা বলে এবং তিনি রাজি হয়। এর পর মিলন তাকে আশুলিয়া, বাইপাইল, নিশ্চিন্তপুরে মিলনের ভাড়া বাড়ীতে নিয়ে যায়।

সেখানে বাবু ঈসমাইল ইমন ও মিলন মিঠু থাকতো এবং তিন জনে মিলে পেপার বিক্রি করতো। এই বাসায় ডাক্তার সাহেব, হীরা জনি, আব্দুল¬াহ আব্দুল হক ও দাঁড়িওয়ালা মুরুব্বী আসতো এবং বই দিতো। এছাড়াও সাগর সুজাউর, শাহীন সাইদুর আসতো। ওখান থেকে সাগর সুজাউর বগুড়া ট্রেনিং এর জন্য একটি বাড়ীতে রাখে। সেখানে ৯ থেকে ১০ জন ২ মাস ট্রেনিং দেয় যেমন- বইপড়া, মার্শাল আর্ট ও পিস্তল চালানো ইত্যাদি। তিনি ট্রেনিং শেষ করে ঢাকায় পূণরায় নিশ্চিন্তপুর সাগর সুজাউর এর সঙ্গে আসে। সেখান থেকে ডাক্তার ভাই কাপ্তাই পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাকে চট্টগ্রাম নিয়ে যায়।

স/আ