রাজশাহী

রাজশাহীতে মাদ্রাসার সাবেক মুহতামিম জিহাদীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক২০ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহীতে শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার সাবেক মুহতামিম (পরিচালক) মাওলানা আবদুল জব্বার মাহমুদ ওরফে জিহাদীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর রোববার দুপুরে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকায় অবস্থিত জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা তৎকালীন মুহতামিম মাওলানা আবদুল জব্বার জিহাদীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। অভিযোগ ছিল, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোমলমতি শিশুদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন।

রমজান মাসে মসজিদের ভেতরে ইতিকাফ চলাকালে নির্যাতনের ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় জিহাদীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে মামলাটি আদালতে গড়ায়। বিচারিক কার্যক্রমে ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে মামলাটি শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়।
দীর্ঘ প্রায় নয় বছরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত জিহাদীকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মাদ্রাসার বর্তমান মুহতামিম মাওলানা সাইদুজ্জামান বলেন, এ মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে তাঁদের অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আইনের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রায়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা সন্তুষ্ট।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জিহাদীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে মাদ্রাসার প্রায় ৬৬ লাখ টাকা বাজারমূল্যের জমি নিজের নামে দলিল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসার জমি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, সন্তানের জীবনে ঘটে যাওয়া ক্ষতির কষ্ট আজীবন থেকে যাবে। তবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিশুকে এমন নির্যাতনের শিকার হতে না হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।