সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
বরিশাল ও পিরোজপুরের দুই ইউনিয়নের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষে তৈরি করা হয়েছিল লোহার সেতুটি।

সেতু দিয়ে যাতায়াতের পাশাপাশি ছোট যানবাহন পারাপার ও মালামাল পরিবহন করতেন স্থানীয়সহ আশপাশের কয়েক গ্রামের বাসিন্দারা।
কিন্তু খালের ওপর নির্মিত ওই সেতুটি পার হতে হয় সেতুর ওপর বাঁশ ফেলে নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে। গ্রামবাসীই নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করে নিয়েছেন লোহার সেতুর ওপর বাঁশের সাঁকো।
সম্প্রতি সরেজমিনে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়ন ও পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাঠা ইউনিয়নের সীমান্ত খালের ওপর দিয়ে সেতুর ভগ্নদশা চোখে পড়ে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় দুই দশক আগে বিশারকান্দি খালের ওপর ওই লোহার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১২ সালের দিকে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দিনে দিনে সেতুর অবস্থা আরো জীর্ণ হয়ে পড়ে। কিন্তু তা মেরামত বা পুনর্নিমাণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, সেতুর পাটাতন না থাকায় ও জীর্ণ হয়ে পড়ায় ওই দুই ইউনিয়নের কয়েক গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে নৌকায় করে খাল পার হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে হেঁটে পার হতে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সেতুর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নেন।
স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নিজাম জানায়, অনেকে কষ্টে বইপত্র হাতে নিয়ে তাদের প্রতিদিন সাঁকো পার হতে হয়।
স্থানীয় বিশারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কালাম বলেন, গ্রামের কয়েকশ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন মানুষ এই ভাঙা সেতু দিয়েই পারাপার হয়। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত পদক্ষেপ নিলে সেতুটি মেরামত করা সম্ভব।
স্থানীয়রা আরো জানান, বিশেষ করে বর্ষাকালে সাঁকো হয়ে সেতুটি পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় স্কুলগামী শিশুরা। দুর্দশা লাঘবে ব্যবসায়ীরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে খালের ওপর কংক্রিটের সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর বদলে ইতোমধ্যে কংক্রিটের সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে বানারীপাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়, ভাঙা সেতুর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এটি মেরামত না প্রতিস্থাপন করা হবে সে বিষয়ে প্রকৌশল বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে।
সূত্র: বাংলা নিউজ









