সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে রাজধানীতে বিচ্ছিন্নভাবে হরতাল পালনের চেষ্টা চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকা, শাহবাগ, আজিমপুরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হরতালের সমর্থকরা অবস্থান নেন। বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন কেউ কেউ। হরতালের সমর্থনে বেশ কয়েকটি স্থানে মিছিলও করতে দেখা গেছে। তবে এসব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হরতালকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শাহবাগে জলকামান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে ট্রাফিক রমনা জোনের সহকারী কমিশনার উকিং মে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শাহবাগ মোড়ে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোনও গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বাকি সব রাস্তায় অন্যান্য দিনের মতো গাড়ি চলছে।’
ঢাবি ক্যাম্পাস ও তার আশপাশের এলাকায় এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চারুকলার সামনে হরতাল সমর্থকরা অবস্থান নেন। এদিকে আজিমপুরে অবস্থান নেন গণসংহতি আন্দোলনের ঢাকা মহানগর অঞ্চলের সমন্বয়কারী মনির উদ্দিন পাপ্পু, বাসদ মার্কসবাদী নেতা শরীফুল ইসলাম, রোকসানা আফরোজ আশাসহ আরও অনেকে। পরে তারা শাহবাগের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এদিক থেকে চারুকলার সামনে থেকেও হরতার সমর্থকরা শাহবাগের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ও মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘শাহবাগে বড় দুটি হাসপাতাল রয়েছে। রোগীরা চলাচল করে। এই দুটি রাস্তা আমরা বন্ধ করতে দিতে পারি না। মিছিল করতে করতে হরতালের সমর্থকরা শাহবাগ বন্ধ করতে এসেছিল। আমরা তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
এদিকে প্রেস ক্লাবের সামনে, পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলার মোড় ও মতিঝিলের দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। হরতারের সমর্থনে বিচ্ছিন্নভাবে মিছিল করার চেষ্টা দেখা গেলেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মিরপুরে প্রায় সব পয়েন্টে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। ফার্মগেট, বিজয় সরণী মোড়, মহাখালীতে অন্যান্য দিনের মতো যানজট দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের পাশে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবিতে বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত হরতাল পালন করবে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। গত ২৬ নভেম্বর শহীদ মিনারের সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ডাকা হয়েছিল। হরতাল সফলে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শেষ করে এনেছে জাতীয় কমিটির সদস্যভুক্ত বামদলগুলো।
তবে সুন্দরবন ইস্যুতে জাতীয় কমিটির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা সরকারিজোটের শরিক বেসরকারি বিমান ও পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ওয়ার্কার্স পার্টি এই হরতালে নেই। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার রামপালে বিদ্যুকেন্দ্র স্থাপনে পরিবেশের কোনও ক্ষতি সাধন হবে না বলে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একাধিকবার জাতীয় কমিটির আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন।
জাতীয় কমিটির ডাকা হরতাল কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। এর বাইরে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, ছাত্রদলসহ কয়েকটি সংগঠন বিবৃতি দিয়ে সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
সূত্র: বাংলাট্রিবিউন









