নাটোর

সিংড়ায় মুখবাঁধা অজ্ঞাত ব্যক্তির হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেফতার ২

নিউজ ডেস্ক২ জুলাই ২০২৫৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গত ৩১/০৭/২০২৫ খ্রিঃ বৃহস্পতিবার আনুমানিক সন্ধ্যা ২০.৩০ ঘটিকার সময় নাটোর জেলার সিংড়া থানার ইটালি ইউনিয়নের কলেজপাড়া নামক স্থানে একটি অজ্ঞাত লাশের সংবাদ পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে র‍্যাব-৫ এর একটি আভিযানিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিংড়া থানার পুলিশ উদ্ধারকৃত লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করে এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।

নাটোর জেলার সিংড়া থানাধীন চৌগ্রাম ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামী ১। মোঃ সাগর প্রামানিক (১৮), পিতা-মোঃ ফারুক প্রামানিক, ২। মোঃ সুলতান প্রামানিক (১৯), পিতা-মোঃ মনসের প্রামানিক, উভয় সাং-বড়িয়া, ইউনিয়ন-চৌগ্রাম, থানা-সিংড়া, জেলা-নাটোর ‘দ্বয়কে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, গত চার মাস আগে ভিকটিম জিহাদের সাথে তাদের পরিচয় হয়। পরিচয় সূত্র ধরে তারা মাঝেমধ্যে একসাথে আড্ডা দিত ও গাঁজা সেবন করতো। কিছুদিন ধরে আসামি সাগরের কাছে কোন টাকা পয়সা ছিল না। আসামী সাগর তার গর্ভবতী স্ত্রীর চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় নির্বাহের জন্য কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না। এই সময় তার বন্ধু সুলতান প্রামানিক (১৮) এর সাথে আর্থিক সমস্যার কথা জানায়। সুলতান জানায় সেও খুব অর্থ কষ্টে আছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে তারা দুজনে পরিকল্পনা করে যে, জিহাদকে মেরে তারা ভ্যান বিক্রি করবে।

পরিকল্পনা মোতাবেক গত ৩০/০৭/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে ১৯.০০ ঘটিকায় সিংড়া থানার চৌগ্রাম বাজারে তারা জিহাদের সাথে মিলিত হয়। এরপর তারা সিংড়া বাজারে আসে। সিংড়া বাজারে এসে জিহাদের অজ্ঞাতসারে আলহাজ্ব মেডিসিন প্যালেস হইতে চেতনা নাশক ট্যাবলেট ক্রয় করে স্পীড এর সাথে মিশিয়ে রাখে। সিংড়া বাজার থেকে ঘোরাঘুরির কথা বলে তারা চলনবিলের উদ্দেশ্য রওনা হয়। চলনবিলের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুড়ি করাকালীন কোন এক সময় চেতনানাশক স্পীড জিহাদকে সেবন করায়। সাতপুকুরিয়া বাজার এলাকায় কাছাকাছি গেলে ডিসিস্ট তার ঘুমঘুম আসছে বলে জানায় এবং ভ্যান রেখে ভ্যানের উপর শুয়ে পরে। আসামী সুলতান প্রামানিক তাকে ধরে রাখে এবং আসামী মোঃ সাগর প্রামানিক (১৮) ভ্যান চালিয়ে আনুমানিক ২১.৩০ ঘটিকায় ইটালি ইউনিয়নের ইটালি-ইন্দ্রাসন গ্রামের মাঝামাঝি পাজাগাড়ি নামক স্থানে পাকা রাস্তার পূর্ব পার্শ্বে নির্জন ফাঁকা জায়গায় গিয়ে অচেতন জিহাদকে ভ্যান থেকে নিচে নামায় এবং তারা জিহাদের গলায় ভ্যানের চাকার পুরাতন টিউব পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে রাস্তার পার্শ্বে প্লাবিত জমিতে ফেলে যায়।

ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীকে গ্রেফতারের জন্য তাৎক্ষনিকভাবে র‍্যাব-৫, রাজশাহী এর একটি আভিযানিক দল বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে  আনুমানিক ১৯.০০ ঘটিকায় নাটোরের সিংড়া থানার চৌগ্রাম ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রাম এলাকা থেকে কুলেজ ঘটনার সংগে জড়িত আসামী ১। মোঃ সাগর প্রামানিক (১৮), পিতা-মোঃ ফারুক প্রামানিক, ২। মোঃ সুলতান প্রামানিক (১৯), পিতা-মোঃ মনসের প্রামানিক, উভয় সাং-বড়িয়া, ইউনিয়ন-চৌগ্রাম, থানা-সিংড়া, জেলা-নাটোর’দ্বয়কে গ্রেফতার করে।

পরবর্তীতে তাদের দেখানো মোতাবেক আসামী মোঃ সুলতান প্রামানিক (১৯) এর নিজ হেফাজত থেকে ডিসিস্ট এর ব্যবহৃত একটি এনড্রয়েড মোবাইল ফোন, জনৈক মেকার মোঃ হাসান (৪৫), পিতা-মহিরউদ্দিন, সাং-ইটালি (বাজারের পাশে), থানা- সিংড়া, জেলা-নাটোর ডিসিস্ট এর বাড়ি থেকে ব্যাটারি চালিত ভ্যান এবং ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ভ্যানের চাকার টিউব উদ্ধার করা হয়।